আবার আমি অব

াশুত্তোাক্ম স্ুাশান্যাজ্ত

বিশ্ববাঁণী ও্রকাশনী কলকাতা-ঃ

প্রথম (বি) সংস্মর _ সেপ্টেম্বর ১.

ভান, ১৯৬১০

অচিস্ত্যকুমার সেনগুপ্ত অন্ধাভাঁজনেষু

ঘরের বড় বড় দরজ। জানলাগুলো সব মপাট খোল! ছিল। মাথার ওপর পুরোদমে পাখা ঘুরছিল। তার একটান। শী! শব্দে ঘর্ঘটার নিথর নীরবতা আরো ভরাট হয়ে উঠছিল।

এক একবার থমকে গিয়ে শশিশেখর কান পেতে নিজের শ্বাস- প্রশ্থাসের শব্দ শুনতে চেষ্ট! করেছে। শুনতে পায় নি। পেলে যেন সক্কোচের কারণ হত। ক'লে! মন্থণ নরম চামড়ায় মোড় পাগুলিপিটার কালের জর'-লাগ! বিবর্ণ পাতা ওলটানোর খনখস শব্দে ছু'কান সচকিত হয়েছে। এটুকুর মধ্যেও যেন কিসের তন্ময়ত ভঙ্গের অভিযোগ

আবার আ'ম আসব!

প্রবল একটা, ঝাকুনি খেয়ে চমকে উঠেছিল শশিশেখর।

"পর কালির জীচড়ের তিনটা শব্দের ওপর দৃষ্টি স্থির ₹য়ে আটকে ছিল। চে্টখের দেখাটাই কানে শব্দ হয়ে বেজেছিল থেয়াল নেই তার সামনে দাড়ির়ে- সামনে নয়, একেবারে মর্মস্থলের কাছাকাছ দাড়িয়ে অক্ফুট গন্তীর কণ্ঠে কেউ যেন বলল কথাগুলো

আবার আমি আসব!

শশিশেখরের ভুশ ফিরেছে | দিশা ফিরেছে | শব্দ তিনটের মধ্যেই ডুবে আছে। পড়ে গেল একটা।

জানল। দরঙ্গাগুলে। সব খোলা থাক] সন্বেও। পাখার শশা আওয়াজ সত্বেও পাতা ওলটানোর খসখসানি সত্বেও ঘরটার মধ্যে ছঃসহ গুমে।টের মত যে অনড় নৈঃশব্দ খিতিয়ে ছিল, সেটা গেল।

আধার আমি আলব।

কে বলল? শব কটা চোখে তো দেখছে এই শব্দ-তরঙ্গ কিসের? এই তিনটে কথা এমন অনন্তহীন কেমন করে হল?

চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াল শশিশেখর | নিঃশ্বাস নিতে ফেলতে হাল্কা লাগছে অনেক সবল লাগছে; তাজা লাগছে একটানা বহুক্ষণ অধোরে ঘুমানোর পর আমেজটুকুও কেটে গেলে যেমন ' হাল্কা! তরতাজ| লাগে-তেমনি লাগছে অথচ করাত ঘুমোয় নি ঠিক নেই।

পায়ে পারে হল্‌ ঘর ছেড়ে বাইরের বাধানো দাওয়ার এদে দাড়াল। দুরে, বাড়িটার চার-ধাবের বিস্তুত এলাকা বের। দেয়ালের ওধারে উঁচু ল্যাম্পপোন্টের মাথায় একট চিল বসে আছে। ছুনিক্নার প্রত নিরাসক্ত হয়ে দৌনী নিয়েছে ধেন। পরের এই নির্জনতার প্রভীক ওটা |

করে,। আগের দেখার সঙ্গে এই দেখার অনেক--অনেক তফাত দরজা জানলাগুলে! সব খোলা থাকা সত্বেও বিগত ক'টা দিন ধরে তার কেরলই মনে হয়েছে বাড়িটায় আলে বাতাস ঢুকতে পায় নি তেমন করে। চারদিক এত খোলামেল! সত্বেও গোট1 বাড়িটাই বুঝি এক নিঃসীম গুমটের গহ্বরে তলিয়ে ছিল। কিন্ত আজ সে-রকম লাগছে না। আজ নয়, এখন সে-রকম লাগছে ন| |

রহস্তট। এই মুহূর্তে আবিষ্কার করল শশিশেখর আলো বাতাস ঠিকই ঢুকেছে এতদিন তারই অস্তস্তলের সবগুলি কুঠরি অর্গলবদ্ধ ছিল আর সেই: অর্গলবদ্ধ কুঠরির প্রত্যেকটিতে একজন করে শশিশেখর মাথ। খুড়ছিল আর পথ খুজে মরছিল। জোয়ান মহাদেও বাড়ির দরজা জানলাই খুলেছে শুধু নিভৃঁতের এই বদ্ধ কুঠরিগুলি অর্গলযুক্ত করার মত পেশীর জোর কারও ছিল নাঁ। কিন্তু আজ এগুলোতেই অমোঘ একটা করে ঘা! পড়েছে যেন। এক অব্যক্ত প্রতিশ্রুতির 'আঘাত। আবার আমি আসব, আবার আমি আসব, আবার আমি আসব, আবার আমি আসব.'

অবরোধগুলে! ভেঙেছে

একে একে সেই বদ্ধ কুঠরির শশিশেখরেরা কেলি তার সঙ্গে, এসে মিশছে। এই শশিশেখস্সের সঙ্গে তাই সবল লাগছে, পুষ্ট লাগছে, হালকা লাগছে বাতাস টেনে টেনে ফুসফুসট1 ভরাট করে তোল। যাচ্ছে দেহের অণুতে অণুতে, প্রতি রন্ধ্রে ওই প্রতিশ্রুতির সাড়! পড়ে গেছে-_-আবান আমি আসব, আবার আমি আসব

আবার আমি আসব."

দেখতে অনেক দূর দূর থেকে লোক আসত যে-সব ফুল ফুটত এখানে সে-সব ফুল দেশের লোক চোখেও দেখে নি আগে ফুলের এত সথ ছিল বার সে ফুল-বাবু নয় তো কী? এখানকার সেই গৃহন্বামীকে ফুল-বাবু বলত অনেকে তামাসা করে| সামনে নয়, আড়ালে ফুল-বাবুর স্বভাব চরিত্র ফুলেব্ মত অমলিন কিনা সেই সংশয়ও উকিঝু কি দিত।

তার কারণও ছিল।

বাবুটি অর্থাৎ কোনে! এক কালের সেই গৃহম্বামী কারে সঙ্গে কথা বলতেন না; কারো সঙ্গে মিশতেন না। অথচ রোজ সকালে তারই হাসি মুখের দর্শন মিলত দল বেঁধে সাঁওতাল মেয়েরা এলে। কালো মেয়ের দল ঘণ্টা ধরে ফটকের সামনে ফুলের প্রত্যাশায় ঈ্রাড়িয়ে থাকত। আর গোড়ায় গোড়ায় তাদের পুরুষেরা ভাবত, ফুলের ফাঁদ পেতে ওই শ্বেত প্রাসাদে বসে থাকে এক মেয়েখেকো ব্যাধ। না, সেই নিরক্ষর আদিবাদী পুরুষদের, মগজের আবিষ্কার- শক্তি এত তীক্ষ ছিল না। তাদের ওই রকম বোঝানে হয়েছিল বুঝিয়েছিল ভদ্রলোকের! যার অনেক বোঝে সভ্যতার আলোয় যারা মন দেখে, ভেতর দেখে

কালো মেয়েদের পুরুষেরা তাই ছিধান্বিত হয়েছিল; সংশয়াপন্ন হয়েছিল | দূর থেকে, তা! প্রায় বেশ দূর থেকেই প্রৌঢ় গৃহস্বামীটিকে নিবীক্ষণ করে দেখত তার! ফটকের মধ্যে ঢুকত ন1।

একবার ঢুকেছিল।

তার আগে তার। তাদের মেয়েদের শাসন করেছিল

এনে * দিতে গেছে। বাবুটি মধু রেখেছে, হাস-খরগোশ ফিরিয়ে দিয়েছে! জীবগুলোর ক্ষত জায়গায় চোখ পড়তে বাবুর চোখের তারায় “যাতনা! দেখেছে! এই নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে হাসাহাদি করেছে।

মরদগুলোর তাড়নায় দ্রিন-কতক আসা হয় নি। ফুলের ভারে তাই বাগান যেন ভেঙে পড়ছে। গাছে গাছে আবার কতগুলে৷ নতুন ফুল ফুটেছে কি? তার! যেন অহরহ হাতছানি দিচ্ছে, ডাকছে। সাঁওতাল মেয়ের! দাড়িয়ে যায়। দেখে লোভ দমন করতে চেষ্টা করে ' কিন্ত বাগানট1 তাদর চোখ টানে, মন টানে, শেষে পাও টানে। আবার একদিন তারা মরদের সব শাসন হম্থি-তম্থি তুচ্ছ করে দল বেঁধে ফটকের সামনে এসে দাড়ায়

ফটক বন্ধ।

রমণীর! দাড়িয়ে জটল। করে, হাসাহাসি করে, কলকণ্ে চেঁচামেচি করে। ফটক থেকে লাল কীকরের রাস্তা বাড়ির মিঁডিতে এসে মিশেছে পি'ড়ি দিয়ে উঠলে সামনে ঢাক] বারান্দা সেই বারান্দায় বসে মালিক গম্ভীর ওদাশীন্যে ওদের দেখছেন চেয়ে চেয়ে ওর! হাতছানি দিয়ে ডাকে তাকে, কেউ আবার তারন্ধরে" চেঁচায়। গেট খুলে দে না কেনে বাবু মোদের ফুল দিবি না?

এক সময় ওর! টের পেল বাবুর গান্তীরটা! নকল আদলে বাবুটি মুখ টিপে হাসছেন আর মজা দেখছেন। ওদেরও সাহস বাড়ে; ঝোঁক বাড়ে--ফুল না নিয়ে নড়বে না। ওদেরই মধ্যে একজন অসম সাহসিকা কোমরের কাপড় আট করে একে বেঁকে গেট বেয়ে উঠতে থাকে অন্যান্য রমণীরা রুদ্ধবাক, রুদ্ধশ্বাস একবার করে তারা সঙ্গিনীর কাণ্ড দেখে আর একবার করে মালিকের মুখভাব থেকে মনোভাব অবলোকনের চেষ্টা করে৷ ঝুমরিও- মেয়েটার নাম ঝুমরি--গেটের মাথায় উঠে বাবুটিকে

শেষবারের মত পর্যবেক্ষণ করে নেয়। তারপূর ঝুপ করে এ-ধারে মে পডে।

মালিক দেখছেন তেমনি নিলিণু) উদাসীন |

ধুকে বেকে যৌবনকে শালীনতার বীধনে বেঁধে ঝুমরি পায়ে পায়ে বাগানের দিকে এগোতে থাকে যাচ্ছে বাগানের দিকে; হাসিহাসি চোখ ছুটে! মালিকের দিকে | অর্থাৎ মালিকের মুখ- ভাবের ব্যতিক্রম দেখলে এখনো এগোবে কি গেটের দিকে ছুটবে সেই দ্বিধা। পিছনের সঙ্গিনীদের মুখ খুলেছে আবার, তারা উৎসাহ দিচ্ছে। ঝুমরি সেই নতুন ফুলের গাছগুলোর সামনে এসে ধাড়ায়। তারপর মরিয়া হয়েই যেন পাতান্ুদ্ধ, বড় দেখে একটা ফুল ছি'ডে নেয়।

বারান্দার মালিক এবারে চেয়ার ছেড়ে বিনা ওদিকে দূরে দূরে দাড়িয়ে মীলীরাও মজ! দেখছে আর, মালিক সব দেখছেন বলেই তার৷ বাধা দেবে কি দেবে না ঠিক করে উঠতে পারছে না।

বারান্দা থেকে নেমে মালিক বাগানের দিকে, নি দিকে ' এগিয়ে আমতে থাকেন বিষম গন্ভীর। ফটকের ওধারে রমণীদের কঠে আর সাড়া নেই। আর 'মালিককে এঘ্ডাবে আসতে দেখে ঝুমরির প' ছটোও যেন মাটির সঙ্গে স্থাণুর মত আটকে গেছে সেনা! পারছে ফিরতে ন। পারছে নড়তে | মুখখানা তখনো হালি হাদি, কিন্ত সেই সঙ্গে অজ্ঞাত ভয়ও

তারপর তাজ্জব কাণ্ড

মালিক তার সামনে এসে ফাড়ালেন। খুব কাছে। শস্ভীর মুখে হাত বাড়ালেন।

মেয়েটা থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি তার হাতে ফুলট! দিয়ে বাঁচল কিন্ত তারপরেই ভিতরে ভিতরে আতকে উঠল অন্ত হাতে মালিক তার একখানা হাত ধরলেন

পরক্ষণে বহু নারীর সমবেত কলকণ্ের হাসিতে আনন্দে বাগান মুখরিত। কারণ শান্তিম্বরূপ মালিক নিজের হাতে ফুলট:

ঝুমুরির খোঁপায় পরিয়ে দিয়েছেন। দিয়ে হাসছেন। লজ্জায় আনন্দে হামিতে ভেঙে পড়তে পড়তে কালো মেয়ে ছুটল ফটকের দিকে! ততক্ষণে অন্য রূুমণীরাও ভেতরে আসার জঙ্য গেট ঝাঁকাচ্ছে, ঠেলছে।

মালিক একজন মালীকে ইশারা! করলেন গেট খুলে দিতে ওরা দল বেঁধে টুকল। বাগান উজাড় করে ফুল নিয়ে গেল। মালিক হাসছেন ওর! আরো বেশি হাসছে।

কিন্ত ঘটনাট1 গোপন থাকল না। ওদের মর্ুদের কানে গেল। ঝুমরির খোপায় ফুল পরিয়ে দেওয়াট1 তার সহজভাবে দেখল ন| | দল পাকিয়ে ফয়গালা করতে এলো তারা বুড়ো খালি হাতেই আসছে বটে, কিন্তু পিছনের তরুণ দলের হাতে লাঠি সড়কি তীর ধন্নকও আছে আক্রমণের উদ্দেশ্েই যে এসেছে তা নয়, ও-সব অন্থ তাদের সঙ্গে থাকে বলেই আছে। কিন্তু তাদের উত্তেজনা টুকু স্পষ্ট

ফটক বন্ধ। বাগানে থরে থরে ফুল ফুটে আছে। ওই ফুলই যত নষ্টের মল। আর কিছু করতে না পারুক, বাগানটা নিমূ্ল করে দেবার ইচ্ছে তাদের |

নিচের বারন্দ। সংলগ্ন সিঁড়ির কাছে মালিক দীড়িয়ে। দেখছেন ওদের |

ফটকের ওধারে ওরাও দীড়িয়ে গেল। মালিকের বন্দুক আছে জানে! ওদিক থেকে বন্দুক নিয়ে কেউ প্রস্তুত কিন! দেখছে

মালিকের আদেশে সেদিনও একজন মালী গিয়ে ফটক খুলে দিল। ওরা সবিন্ময়ে দেখল, মালিক হাতের ইশারায় ডাকছেন তাদের--সকলকে আসতে বলছেন! মালিকের যুখে ভাব “কক মাত্র নেই

মাতববরদের পিছনে ছেলে ছোকরার দলও পায়ে পায়ে এগিয়ে আসতে লাগল ।. তারপর সকলে ছিরে টাড়াল ভাঁকে।

মালিক সহান্তে বললেন) আমার মেয়ের। যখন এসেছে তোর+ও না এসে থাকতে পারবি না! জানি যা মেয়েদের জন্যে ফুল নিয়ে যা__সকলে নিজ্জে হাতে করে খোপায় পরিয়ে দিবি দেখি ওর! কেমন হাসবে

সর্দার গোছের একজন লোক কাছে এগিয়ে এলো হৃ'চোখ টান করে দেখল তাঁকে। কি দেখল সেই জানে তারপর হঠাৎ ঝুকে আভূমি নত হয়ে গড় করল তাকে। সঙ্গে সঙ্গে যেন গড় করার ধূম পড়ে গেল। আনন্দের হাট।

তারপর থেকে ওদের মেয়েদের আস! একেবারে সহজ হয়ে গেল। ছোট-বড় একদল না একদল আসবেই ফুল নেবে তবে নড়বে। গৃহস্বামী ছুটো চারটে করে ফুল দিতেন সকলকে সেই ফুল খোপায় গুজে কালো মুখে হাসির ফুল ঝরিয়ে কলহাস্তে যৌবনের ঢেউযের দোলায় নাচতে নাচতে চলে যেত তারা

শরশশেখরের দুটা জংলা বাগানের দিকে আটকে ছিল। মজুরদের কাজ দেখছিল সে। কিন্তু সত্যিই সে এই সগ্যবর্তমানের কিছুই দেখছিল না মনটা বুঝি নিজের অগোচরে কালের সেতু ডিডিরে উধাও হথ্বেছেল কোথায়। কোনো এক কালের একট কালে পরদ1 যেন চোখের সামনে থেকে সরে গিয়েছিল তার | সেই ফুলবাগান দেখছিল, ফুলবাগানের সেই মালিককে দেখছিল, আন সেই কালো মেয়েদের ফুলঝর] হাসি-দেখছিল।

শশিশেখর থমকালো হঠাৎ |

সেই ফুলব গানের কথা আর সেই যৌবন-তরঙ্গিণী সাওতাল মেয়েদের কথ। কে আবার বলল তাকে ? কার মুখে শুনল?

বাড়িটার সম্বঙ্ধে «অনেক গুজব অনেক রটনা শুনেছে বটে, ,কিন্ত ঠিক এই ঘটনা কে আবার শোনালো৷ তাকে। দৃপ্ত কেমন করে চোখের সামনে ভেসে উঠল? কেউ বলেছে কি?

নিজের মধেই শশিশেখর সন্তর্পণে বিচরণ করে নিল একগ্রস্থ

খুঁজল। সমাচারটা তারই অন্দরমহলের কারে! কিনা তাই উপলব্ধি করে নিতে চেষ্টা করল!

নামত] নয় মনে পড়েছে।

লাইব্রেরি ঘরের কালো নরম চামড়ীয় মোড়া সেই পাুলিপির পাতা ওলটাতে ওলটাতে এক জায়গায় চোখে পড়েছিল। কিন্তু যতদূর মনে পড়ে সে-তে। পাত উদ্টেই গেছে পড়ল কথন? হয়ত কোথাও একটু আধট্‌ থেমেছে, একটু আধটু দেখেছে কিন্ত ওইট্‌ুকু থেকে এমন এক নিটে।ল পরিপূর্ণ দৃশ্য দেখে ওঠা সম্ভব হল কেমন করে?

শশিশেখরের হাসি পেল। এই বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের যুগে নিজের-_সায়েন্স পড়া শশিশেখর দত্তগুপ্তর-_-এমন উদ্ভট কল্পনার সম্বন্ধে সচেতন হলে হাসবে না তো কি? কিন্তু হাস্ুক আর যাই করুক, এ-ভাবে কল্পনার বলগা ছেড়ে দিতে মন্দ লাগছে নাী। বেদম বেপরোয় ছুটে অভ্যস্ত একটা তেজী ঘোড়াকে এই প্রায় অচেনা গোলক-ধাধার মধ্যে ছেড়ে দিয়ে মজা দেখতে মন্দ লাগছে না। উদ্দাম ছোটার শক্তি সত্বেও চিনে চিনে বুঝে বুঝে পা ঠুকে চল! ছাড়া উপায় নেই এই পথে।

সায়েন্স-পড়া শশিশেখর দত্তগুপ্ত আবার অনমনস্ক হয়ে পড়ল।

এই বাড়িটার যুগ বদলেছে শুধু এই বাড়িটার কেন, যুগ যুগ ধরে সব-কিছুরই তে] ধারা বদলাচ্ছে, গতি বদলাচ্ছে আকাশ- বাতাসনুদ্ধ, বদলাচ্ছে মনে হয়। কিন্তু এই সন্-কিছুর তলায় তলায় অনিঃশেষের পরমায়ু নিয়ে যে প্রাণের ধার! বয়ে চটুলছে, ভার বদল কতটুকু হল? মদ থেলে চোখের সামনে বস্তু বদলায় মশ বদলায়। নেশা ছেড়ে গেলে কিছুই বদলায় না। ঠিক তেমনি করেই বুঝি তামাম ছুনিয়াটার বাহা বস্ত বদলাচ্ছে আর মন

বদলাচ্ছে কিন্তু আসলে কিছুই বদলাচ্ছে না। আসলে এই যুগ্বটাই নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন নেশ! ছুটলে হয়ত দেখা যাবে এও ঠায় একভাবেই দাড়িয়ে আছে কিছুই বদলায় নি।

সাওতাল পরগণার এই গোটা এলাকাটার নাম চার্বাক। বাড়ির নাম ফুলবাগ |

চার্বাক নামটা এই ফুলবাগের সেই কোন-এক কালের মালিকের দেওয়া জলের দরে চনিবশ বিঘে জমি কিনে দেয়ালে ঘিরেছিলেন তিনি। আশে পাশে তখন আর একটাও বাড়ি ছিল না। ফুল- বাগের মালিক সর্বপ্রথম বাসিন্দা এখানকার |

জারগাটার চার্বাক নামকরণের হেতু জানা নেই শশিশেখবরের | কারোরই জানা নেই। তবু এখানে এসে এই নাম নিয়েও নাথা ঘামিয়েছে শশিশেখর | নিগুঢ় কিছু ইঙ্গিত অনুভব করতে চেষ্টা করেছে ।-..পুরাণের চার্বাক ছিল ছুর্ষোধনের সখ! এক রাক্ষস। তপস্তা করে সে ব্রহ্মার কপায় অভয় বর লাভ করেছিল। তারপর দেবতাশাসন আর দেবতাদমনে মেতে উঠেছিল। নিরুপায় এবং অসহায় দেবতারা! যা করে থাকেন তাই করেছিলেন সদলবলে গিয়ে ্রদ্ধার হাতে পানে ধরেছিলেন তীর1। ব্রা তখন ওই অসহায় শিশুদের বীচার পন্থা বলে দিয়েছিলেন | যথা, হুর্যোধনের সথারূপে চাবাক ব্রাহ্ধণদের অপমান করবে, তাদের শক্র হয়ে উঠবে। সেই ব্রহ্মশাপে চার্বাকের নিপাত-লিখন

অখণ্ড অবকাশে অনেক মাথা খাটিয়ে জায়গাটার চারবাক নামেক একট] তাৎপর্য গড়ে তুলেছে শশিশেখর | এ-জায়গার ওই নান্ন যিনি দিয়েছেন তিনি ব্রাহ্গণ ছিলেন না। তার পদবী বিশ্বাস কলকাতার নামজাদ। বনেদী বংশের ছেলে। বেনিসান শল্গুনারায়ণ বিশ্বাসের ছেলে ইন্দ্র বিশ্বাস। পুরনো কলকাতার এই পরিবারের নামট! জানে শশিশেখর আর ইন্দ্র বিশ্বাম নামটাও চেনা এই বাড়ি] দেখার অনেক আগেই চিনত। ওই নামের সঙ্গে প্রাচীন কলকাতার অনেক গল্পকথ। জড়িত। ওই নামের শাখা-প্রশাখা ধরে

১০

এগোলে আত্মীয়তার যুূল শিকড়ের সঙ্গে নিজেরও একটা প্রতাক্ষ যোগ খুঁজে পাবে শশিশেখর | |

কিত্ত সেট। খোজে নি কখনে1।

ওই নামের প্রবল পুরুষটি, অর্থাৎ এই চার্ধাক নামের নিয়ামক ইন্দ্র বিশ্বাস বেঁচে থাকলে আজ তার বয়েস হত একশ তিরিশ বছর | শবশিশেখর হিসেব করে দেখেছে নাম কর! বারিস্টার ছিলেন সেই মানুষটি যে বছর কলকাতায় হাইকোর্ট হল নেই বছরই তিনি বিলেত গিয়েছিলেন তখন পরধস্ত কটি দিশি লোক সাগব্র পাড়ি দিয়েছিল এক হাতের ছু'তিন আঙুলে গুণে শেষ করা যেত।

কিন্ত বাক্তি জীবনে সেই মানুষের সঙ্গে কোনো ব্রাহ্মাদের সংঘাতের খবর শশিশেখর শোনে নি। বরং তার প্রতি এক ব্রাহ্গণ- কম্ঠার অন্ুরাগের গুজব কিছু শোনা আছে সেদিল্রে আনু সেই কালের বিচারে গুজবটা যতবড আলোড়নের বস্তুই হোক, আজ আর সেট? কৌতুহল উদ্রেক করার মত কিছু নয়। এই গল্পগুজবে শশিশেখর কান দেয় নি।

শুনেছে, সংঘাতট। ইন্দ্র বিশ্বাসের নিজের পিতৃপুরুষ আর পরিবার বর্গের সঙ্গেই বেধেছিল। তখনকার দিনের ব্রাহ্গণদের বিধি-বিধান আর গৌঁড়ামি অত্যাচরের মতই হয়ে উঠেছিল সংক্কার আর গোৌড়ামির শিকড় সমস্ত হিন্দু সমাজটি হংপিগ্ড ভেদ করে চলে গিয়েছিল খামখেয়ালী দুর্বার পুরুষ ইন্দ্র বিশ্বাম নিজের সাংসারিক জীবনযাত্রায় ওই শিকড়টা ছিড়ে খু'ড়ে উপড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন ব্রাহ্মণদের সঙ্গে না হোক, তাদের প্রতীক ওই সংস্কার আর গৌঁড়ামির বিরুদ্ধে সেদিনের এক নবচেতনার ধিরোধ আজ বন্থ গল্প কথায় পল্লপবিত। |

এই দিক্‌ থেকে চিন্তা করে জায়গাটার চারাক নামকরণের একটা যোগ খুঁজে বার করেছে শশিশেখর। নিজের অগোচরে সে যে সুদুর অতীতের সঙ্গে সগ্ঠ বর্তমানের একটা যোগই হাতড়ে বেড়াচ্ছে খেয়াল নেই। | |

১৯

তন্ময়তায় ছেদ পড়ল। সামনে মহাদেও দাড়িয়ে

শশিশেখরের থেকেও আধহাত লম্বা আর জোয়ান মানুষটা প্রথন বয়েস হয়েছে কিন্তু বয়সের জর! ওকে স্পর্শ করে, নি। কোনদিন করবে বলেও মনে হয় না। বহুকাল ধরে আছে। একেবারে শশিশেখরের ছেলেবেঙ্সা থেকে | কালে কালে তাদের পরিবারের ওপর দিয়ে পরিবর্তনের অনেক ঢেউ এসেছে, গেছে। সুখ, শান্তি ধুলায় লুটিয়েছে। আবার মনে হয়েছে, এত সুখ এত শান্তি বুঝি ধরে না। নুমময়ের বন্ধু পরিজনের ছুঃসময়ে দেখা মেলে শি, আবার ছুঃসময়ে যারা কাছে এসেছে তারা প্রতি পদ- ক্ষেপের হিসেব রেখে এগিয়েছে কিন্তু কোনে হিত বা বিপরীত ঢেউয়ে পরিবর্তন হয় নি শুধু মহাদেওর। সে অবিচল। একভাবে চিল, একভাবেই আছে।

বয়দকালে শশিশেখবের মা ওকে টাকা পয়সা দিয়ে বিয়ে করার জন্য দেশে পাঠিয়েছিলেন | বিয়ে করে বউ নিয়ে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু বিয়েটা চুকিয়ে মহাদেবও একাই ফিরেছিল। জিজ্ঞাদা করতে মাথা চুলকে বলেছিল লড়কী বাচ্চা, বড় হলে নিয়ে আসথে। বছর কয়েক বাদে মহাদেও বউ নিয়ে এমেছিল | ওদের জন্ত মা 'বার বাড়ির ঘরে আলাদা বন্দোবস্ত করে দ্রিয়েছিলেন। কিন্তু মহাদেওর মারের চোটে বউটা এক বছরও টিকতে পারে নি। বউটার কান্না শশিশেখর শোনে নি কখনো না শোনার কারণটাও শুনেছে বউ ঠেঙানোর আগে তার মুখে আগে বেশ করে কাপড় গুজে দিত মহাদেও, আর চারদিকের দরজা জানল! সব বন্ধ করে নিয়ে তারপর শাসন শুরু করত।) কিন্তু মারের দাগ যাবে কোথায়? তাছাড়া! মার খাওয়ার পরে বউ তো! আর হাসি মুখে ঘর থেকে বেরুত না।

জানাজানি হত। মহাদেও গালমন্দ খেত।

মা তো! রাগ করে কতদিন তাড়িয়েই দিতে চেয়েছেন ছ'জনকে।

১২

কিন্ত ধমক ধামক খেয়ে মহার্দেও ছু ঠোট শেলাই করে থাকত। খুব জেরা করলে বলত, বউটা বড় ফষ্টিনষ্টি করে।

মায়েরু আর জেরা কর! হত না। তিনি নিজেই পালাতেন।

বউ'ফণ্টিনষ্টি কার সঙ্গে করে শশিশেখর তখন ছেলেমানুষ হলেও অনুমান করতে পারত। বাড়িতে আরও চার পাঁচটা চাকর-বাকর ছিল তখন। তাদের সঙ্গে বউ হেসে কথাবার্তা কইলেই মাথায় আগুন জ্বলত। মনিব আর চাকরের মধ্যে নিজের একটা মাঝামাঝি মর্ধাদা গডে নিয়েছিল মহাদেও | সেই মর্ধাদ1! ওকে আর কেউ না " দিক, নিজে দিত নিজেকে | তাই পরের পর্যায়ের পরিচারকদের সঙ্গে বউয়ের সহজ মেলামেশীয় তার আপত্তি হত, মানহানি হত। কাজ নিয়ে ওদের সঙ্গে ঝগড়ার্বাটি করলেও সেট! নীচু স্তরের ব্যাপার ভাবত।

ওদিকে বউটা স্বয়ং যমের দোসর ভাবত মহাদেওকে। বয়সোচিত একটুখানি হাসাহাসি দে সমগোত্রীয়দের সঙ্গে ছাড়া আর কারপ্নঙ্গে করবে? মহাদেওর অনুশাসন মত সে মুরুচিশীলা মহিল! বনে যেতে চেষ্টা করেও সব সময় পেরে উঠত না1। অতএব প্রহারটাও প্রাপ্য বলেই ভাবত কন্ত বাড়ির কত্রাঁ বা বাবুদের বুউ ঠেঙানো। পছন্দ নয় সেটা ভালো করে বোঝার পর তার ভয় কমতে লাগল। নিরুপায় মহাদেও তখন আবার একদিন দেশে চালান করল তাকে ফলে তারপর থেকে আবার প্রায়ই ছুটিছাটা নিয়ে দেশে যেত পে। শশিশেখরের মায়ের সামনে এসে মাথা চুলকে দাড়ালেই আরজি বুঝতে পারতেন তিনি | ছুটি চাই। তিনি বলতেন; যাও। বউকে দেশে ফেলে রেখেছ কেন, নিয়ে এসে] |

মহাদেও নিয়েও আসবে না, আবার ঘন ঘন দেশে যাওয়াও চাই। বাড়ির সরকার মশাইয়ের সঙ্গে মহাদেওর যা! একটু মনের কথা হত। তাকে বলেছে, বউকে কলকাতায় এনে ভদ্রলোক ধানাতে গেলেই সে বিগড়ে যাবে) আসলে তারা তো ভদ্রলোক নয়-__ ভদ্রলোকের মত মনের জোর তার! পাবে*কোথায় ?

১৩

চে

বর্তমানে সে-কথ! যতবার মনে হয়েছে, ততবার সচকিত হয়েছে শশিশেখর। সেদিন সরকার মশায়ের মুখে শুনে হেসেছিল। কিন্ত সে হাসি মিলিয়েছে। বার বার ভেবেছে, মহাদেও ব্যঙ্গ করেছিল সেদিন? বিদ্রুপ করেছিল ? সরকার মশাইকে যা বলেছিল আজও কি মহাদেওর তা মনে আছে? মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই। মুখ দেখে মহাদেওর মনের কথ! কিছুই বোঝার উপায় নেই। এমন কি, ওর মন বলে কোনো বন্ত আছে তাই মনে হয় ন! কখনো | শশিশেখর বিশ্বাস করতে চায়, সরকার মশাইকে একদিন যা বলেছিল, মহাদদেও নিজেই তা ভূলে গেছে কিন্তু এও জানে মহাদেও ভোলে নি। মহাদেও কিছুই ভোলে না। ওর মনের কথ! মা জানতেন। শশিশেখর জানে আর, অলকাও জানে হয়ত। জানে বলেই মাঝের একটা নির্মম ব্যবধান আবার জুড়েছে। মহাদেওকে দণ্ড দিয়ে নিজের ওপর মৃত্যুদণ্ড হেনেছিল শশিশেখর অলকা ওকে বীচায় নি, তাকে শুধু দয়! করেছে শশিশেখরকে কিন্তু অলক এই দয়া করতে গেল কেন? কেন কেন কেন? কেন

মহাদেওকে ফিরিয়ে দিল আবার ?

মহাদেও যদি, ভদ্রলোকের মনের জোর দেখে অট্রহাসি হাষে এখন) তাহলে কি হয়? কিন্তু না মহাদেও তা হাসবে না। অলক। জানে হাসবে না শশিশেখরও জানে ওর ভিতরে মরুবালির মত শোষণী শক্তি আছে একটা চোখ দিয়ে বা দেখবে, কান দিয়ে শুনবে, মন দিয়ে যা বুঝবে--সব ওর ভিতরের মরুগহবর নিঃশেধে টেনে নেবে। তারপর আবার যে কে সেই। কিছু বোঝা যাবে না, কিছুই না। মহাদেও নীলকণ্ঠ।

মহাদেওর সেই ধউ ছেলে হতে গিয়েছিল। বউ গেছে ছেলেও বাচে নি। |

কিন্ত সেদিনের সেই মহাদেওকে কেউ নীলকণ্ঠ বলবে ন|। পাথরের মত নিরেট লোকটার হাপুস নয়নে কান্না দেখে বাড়ির সকলে ব্যথিত যত না হয়েছে তার থেকে অবাক হয়েছে বেশি।

১৪

পাথর গলানো কানা! দিন কতক কেঁদে তারপর শাস্ত হয়েছে, তারপর নিশ্চিন্ত হয়েছে। আর পিছুটান নেই; বউয়ের স্বভাব- চরিত্র নিয়ে ভাবনা নেই বছরখানেক বাদে মা আবার বিয়ের কথা বলেছিলেন মহাদেও মাথা নেড়েছে। *

লোকটাকে আর একবার কাদতে দেখেছিল বাড়ির সকলে।

শুধু মহাদেও নয়। বাড়ির সকলেই কেঁদেছে সেদিন ।.'.অলকাই কি কম কেঁদেছিল? কিন্তু মহাদেওর কান্না 'পাগলের কান্না। শশিশেখরের মা মারা যাবার দু'দিন আগে থেকে বলতে গেলে নি উপোস করে নূর্য দেবতার কাছে মাইজীর জীবন ভিক্ষা করেছে সে। ছাতে কাঠফাটা রৌদ্রে ছ'হাত জোড় করে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাথরে খোদাই করা মূতির মত দাড়িয়ে ধাকতে দেখা গেছে। ম! যখন মারা গেলেন, তার দিকে চেয়ে মনে হয়েছে আকাশ থেকে ওই ন্তুরিয়া দেওতাঁকে টেনে নামিয়ে-ছি'ড়ে খুঁড়ে একাকার করে দিতে পারলে দত। বাড়িতে তখন অনেক দেঁব- দেবার মূতি শ্িল। করেকটা দন তাদেরও অবস্থান খুব নিরাপদ মনে হয় নি।

মা তাকে বলেছিলেন, দাদাবাবুকে ছেড়ে দিও ন!) তার কাছে, থেকো।

বায় নি। আছে। অলক হয়ত মায়ের কথা বলেই তাকে ফারয়ে এনেছে তাই আছে। আজও আছে।

মহাদেওর এভাবে সামনে এসে দাড়ানোর অর্থ দাদাবাবুর কিছু চাই কিন!

শশিশেখর মাথা নাড়ল। কিছু চাই না। মহাদেও বাগানে মজুরদের কাজ দেখতে চলে গেল

অনেকটা! হালক1 মনে শশিশেখর সেই লাইব্রেরি ঘরের দ্িক্ষেই এগলো। আবার। এই পরিত্যক্ত ঘর বাড়ি বাগান গাছপাল৷ কিছুই আর অর্থশন্য অস্তিত্বের নিদর্শন বলে 'মনে হচ্ছে না তার

ফুলবাগ আর যেন দম বন্ধ করে বসে নেই। এক কালে যেমন সজীব ছিল; তেমনি সজীব লাগছে বড় বড় গাছগুলোর পাতায় পাতায় বাতাসের কানাকানি কানে আসছে শীত যাই যাই। গাছের পাতায় হরিদ্রাভ সবুজের আভাস উকিবু'কি দিচ্ছে ।' শুই জংল বাগানটাও যেন তার হারানে। যৌবনের জন্য তাষিত হয়ে উঠেছে

আবার

বাড়িটা কেনার আগে আশেপাশের ভদ্রলোকের ব্বতঃপ্রবৃত্ হয়ে সতর্ক করে দিযে গেছলেন তাকে ।--কিনবেন না মশাই। একবার কিনে ফেললে বিক্রি করা খুব সহজ হবে না। দেখছেন তো! পড়েই আছে

শশিশেখর জানিয়েছে, কেনার উদ্দেশ্টট। বিক্রির উদ্দেস্ট নয়।

সেতো জানি মশাই। বেচবে বলে কেউ কেনে না। কিন্তু ক'দিন না যেতে সকলেই আবার আবার বেচতে চায়। কিন্তু তখন বেচা সহজ হয় না।

অতঃপর চিরাচরিত কোনো! অশতীরীর উৎপাতেব্র কথা শুনবে ভেবেছিল শশিশেখর | কিন্ত তন্ন তাও বলেন নি। কেউ এখানে ভূত প্রেত দেখেছে বা ভয় পেয়েছে এমন নক্জির নেই। কিন্তু এ- পর্যন্ত চার পীচ দফা বাড়িটার মালিকানা বদলের নজির আছে। কেউ টিকতে পারে নি। ছৃ'দিন না যেতে এখানকার নির্জনত নাকি অসহা লাগে চব্বিশ বিঘে জমি জুড়ে দেয়াল-_নিবাসনের মত লাগে। তার পুর্ববর্তার। অনেক লোকজন নিয়ে, পরিবারবর্গ আন্মীয় স্বজন নিয়ে এখানে থাকতে চেষ্টা করে গেছেন। তবু এখানকার এই নির্জনতা বরদাস্ত করতে পাবেন নি। আর এই লোক একা এখানে শুধু একট! চাকর নিয়ে ধাকতে চায় শুনলে ৰিবেচক পড়শীদের বাধ। দেবারই কথা

এখানকার শৌখিন এলাক। এই চাবাক, আক্ষাত লোকের বসতি এখানে অমন জলের দরে এই প্রাসার্দোপম বাড়ি কিনতে পারার কথা নয়। « এত শস্তা বলেই এখানে বাস কর!

১৬

অসম্ভব সেই সংশয় প্রায় বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে স্থানীয় লোকের ওই দেয়াল ঘের] বাড়িটার নির্জনতার একধরনের শোষণী শক্তি আছে বলে ভাবেন তারা তাই নিষেধ করেন।

কিন্তু'শশিশেখর নির্জনতার গহ্বরে বিলুপ্ত হতেই চায়। মৃত্যুর মত মুছে যেতেই চায়।

যে কারণে বাড়িটা অনেকবার হাত বদল হয়েছে সেই কারণেই সে কিনে ফেলল এটা এখানকার এই নির্জনতা তাকে হাতছানি দিয়েছে, তাকে লোভ দেখিয়েছে, তাকে টেনেছে। বন্ত জগৎ থেকে তাকে আপন জঠরে টেনে নেবার প্রলোভন ছড়িয়েছে। নিজেকে সকলের অগোচরে মুছে দেবার এটাই' উপযুক্ত সমাধি ক্ষেত্র মনে হয়েছে তার! *

কিন্তু আসলে তে! একটা জীবিত মানুষ সে।

বিষ মুখে তুলে নেবার পর মৃত্যু যখন দেহ দেউলে কলুপ আটতে বসে তখনে। একটা বাচার যুদ্ধ চলতে থাকে ভিতরে ভিতরে বাড়িটা কেনার.পর সেই অবস্থাই হচ্ছিল শশিশেখরের | এই বদ্ধ, ছর্ভর নির্জনতার গ্রাসে নিজেকে সমর্পণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই তার গলার ওপর হাত পড়েছে যেন। একটা অদৃশ্য হাত,। নিঃশ্বাস রুদ্ধ করে তবে ছাড়বে নিঃশ্বাস একেবারে রুদ্ধ হলে তবে তো মুক্তি। কিন্তু সেই মুহূর্ত না আসা পর্বস্ত সংগ্রাম সত্তার রীতি এই শশিশেখরের মনে হচ্ছিল সেও টিকতে পারবে না এইখানে এইখানকায় এই মূক জড় অস্তিত্বের প্রতিটি কণা কারো প্রতীক্ষায় আছে। কোনো অবাঞ্চিত পদার্পণ ,তার! বরদাস্ত করবে না। প্রাণটাকে নিঙড়ে নিয়ে দেহটাকে ছিবড়ের মত এলাকার বাইরে ছুড়ে দেবে

আবার আমি আদব?

আবার আমি আসব !

কিষে হয়ে গেল শশিশেখর জানে না। শব্দ কটা এখনে। কানে বাজছে, বুকে বাজছে; দেহের অণুতে 'অণুতে বাজছে।

১৭ আবার-২

আর এখানে অবাঞ্চিত লাগছে না নিজেকে আর হুঃসহ লাগছে না এতটুকু | শ্বাসরোধী মৃত্যুর সংগ্রাম শেষ হয়েছে এখানে যেন তারই আসার কথ! ছিল। এইখানেই। তাই এপেছে। এই উপলবিটুকুই বেন সদ্য হাতে পাওয়া পরোয়ানার মত | এখানে প্রবেশের; এখানে পদার্পণের। এখানে বাসের পরোয়ানা! ! গত কটা দিন এট! ছিল ন1! বলেই এমন দম-বন্ধ যাতনা! ভোগ করেছে।

লাইব্রেরিতে ফিরে এলো শশিশেখর |

মস্ত হলঘর। বড় বড় কাচের আলমারিগুলো বইএ ঠাসা। বেশির ভাগই দেশ-বিদেশের আইনসংক্রাস্ত বই কিছু পদাবলী গ্রন্থ আছে, দর্শনের বইও আছে কিছু শৌখিন বাঁধানে। মলাটে ছাপার হরুপে প্রথম মালিকের 'নাম লেখা--ইন্দ্র বিশ্বাস। এতদিনেও অস্পষ্ট হয় নি অক্ষরগুলো! | বাড়িটার মালিকান। বদলের সঙ্গে সঙ্গে বইগুলোর মালিকানাও স্বাভাবিকভাবেই বদল হয়েছে। কিন্ত আশ্চর্য এই বাড়তি লাভটুকুর প্রতি, অর্থাৎ এই বইগুলোর প্রতি কোনে পরবতাঁ মালিকের আগ্রহ দেখা যায় নি। যেমন এছল বাড়িটা তেমনি কিনেছেন তারা) আর যেনন ছিল তেমনি বিক্রি করেছেন। পশিশেখরের ধারণা কেউ কিছু সরায়নি এখান থেকে সরালে যেন সে টের পেত, অনুভব করতে পারত

আলমারিগুলে! মহাদেও ঝেড়েমুছে রেখেছে ওগুলোর সামনে দাড়িয়ে খানিক আগেও শশিশেখর যেন একটা নীরব নিষেধ অনুভব করেছিল। সেই নিষেধ অমান্য করেই একট আলমারি সে খুলেছিল তখন। সুন্দর মন্থণ কালো চামড়ায় মোড়া খাতার মত একটা লম্বা বস্তু চোখে পড়তে সেটা টেনে নেবার লোভ সংবরণ করতে পারে নি। অগোচরের সেই নিষেধ তখন ষেন আরো! বেশি উদদগ্র হয়ে উঠেছিল। অখচ সেই নিষেধই প্রলোভন মনে হয়েছে _অমান্য করার প্রলোভন কোনো সার্থকতার মর্মস্থলে পৌছানোর আগের শঙ্কা-মিশ্রত প্রলোভনের মত। কালে৷ চামড়ায় মোড়া থাতার মত জিনিসটার 'থেকে চট করে চোখ ফেরাতে পারে নি।

১৮

ওতেও নাম লেখা-_ইন্দ্র বিশ্বাস। মনের তলায় একট! হাম্তকর অনুভূতি উকিঝু'কি দিয়েছিল। মনে হয়েছে, নাম নয়, নামের ওই মালিকই ফেন তার সামনে দীড়িয়ে সকৌতুক গাল্তীর্ষে চেয়ে আছে ভার দিকে, হাসছে মিটি মিটি। খুলে হাতে লেখা পাগুলিপি দেখে কৌতৃহল চতুগণ।

স্তব্ধ উত্তেজনায় দীড়িয়ে দাড়িয়ে ওটা দেখতে অন্ভুবিধে হচ্ছিল ঘরের মাঝে মস্ত একটা টেবিল। টেবিলের হাত ছুই উঁচুতে হল- ঘরের ছাদ থেকে মোটা দড়িতে বাধা! ঝাড়ল্টন ঝুলছে এ-রকম একটা করে ঝাড়লগ্ঠন প্রায় সব ঘরেই আছে | পরবর্তী মালিকদের কেউ ইলেকট্রিক এনে থাকবেন। সব ঘরেই বিজলি আলো! জলে এখন। ঝাড়লঠনগুলো! দর্শনীয় বন্ত হিসেবে আছে। পাগুলিপি হাতে শশিশেখর তখন ঝাড়লটার নীচে টেবিলের সামনে একটা চেয়ায় টেনে বসেছিল। ন্ায়ুগুলো কাপছিল | চেয়ার টানার শবে নিজেই বিষম চমকে উঠেছিল আর, তারপর থেকে প্রতি পলে প্রতি মুহূর্তে ঘরের স্তব্ধতা বাড়ছিল, গুমোট বাঁড়ছিল। পাুলিপিটা তখন উপ্টেপাণ্টে দেখছিল শশিশেখর | ঠিক পড়া বলে না। কোন একটা! সম্পদ হাতে এলে উদগ্রীব মন যেমন সকটাই এক নজরে" দেখে নিতে চায়। জেনে নিতে চায়, তেমনি হয়েছিল তখন তার মনের অবস্থা |

অথচ, কি-যে এটা সে সম্বন্ধে ধারণা ছিল না একটুও অস্তস্তলের এই প্রতিক্রিয়াও নিজের কাছেই ছুর্বোধ্য। এতবড় খতিয়্ানের শেষের পাতাট! দেখে নেবার লোভ বেশিক্ষণ সংবরণ করতে পারে ন। ঝাঁকুনিট! খেয়েছিল তখনই।

আবার আমি আসব !

শেষের পাতার শেষের ওই তিনটে শব্দ | চরাচর বিশ্বের সকল নীতির বুঝি এটুকুই উপসংহার সাধনা সাস্তন!।

আবার আমি আনব !

১৯

তিন

এবারে শশিশেখর অনেক স্থির, অনেক শাস্ত। পাগুলিপির প্রথম পাতা খুলে এবার সে স্থির হয়ে বসতে পারল। এবারে আর উত্তেজন! নেই; তাড়। নেই কিন্তু পড়া খুব সহজ নয়, টানাটানা লেখ! চোখ বসতে সময় লাগে লাগুক। শশিশেখর মনোনিবেশ করতে চেষ্টী করল। কিন্তু পড়া হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত হলই না পড়া | কেবলই মনে হুল; কালের সেতুর ওধারে একজনের জীবনের অন্দর মহলে প্রবেশ করার মত এটা অনুকূল অবকাশও নয়, পরিবেশও নয়।

শেষ পর্যস্ত রেখে দিল। যথাসময়ে পড়বে এটা পড়ার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে।

ঝাড়লনটার-ওপরে চোখ রেখে ভাবল কি। ওটার হারানো। যৌবন, বিস্মৃত যৌবন ফিরিয়ে আনা দরকার মনে হল। নইলে

এ-ঘরে বসা মানায় না, এই পাগুলিপি খোলা মানায় না। কণ্ট।

'বেজেছে এখন ? ' সবে বিকেল এ-সময় এ-ঘরে আসারই কোনে! মানে হয় না। এটা যেন এই ঘরের ঘুমের সময়। ঘরটা রাতে জাগে। রাতে জাগবে শশিশেখর তখন আসবে | বসবে পড়বে। সেটাই সময়। অনুকূল অবকাশ, অনুকূল পরিবেশ

পকেট হাতড়ে শশিশেখর সিগারেট বার করল। ঘরটার চারদিকে চোখ বুলিয়ে নতুন ক'রে সব খু'টিয়ে খু'ঁটিয়ে দেখতে লাগল। তারই ঘর বাড়ি। এই শশিশেখরের | টাকা দিয়ে কিনেছে এখানকার সবকিছু এই সবকিছু একেবারে নিজন্য তার্‌। ঘণ্টাখানেক আগেও তা মনে হয় নি। তখন মনে হয়েছিল; সে বুঝি আর কারো! এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেছে। কিন্ত এখন অস্তরতুষ্টিতে ভিতরটা ভরে ভরে উঠছে। এই বাড়িটা এই জন্মের মত শুধু তারই তার পরে কার হবে জানে না। জীবিত

২৩

মানুষ যেমন মৃত্যুর কথ। চিন্তা করলেই নিজের নিজের মৃতদেহটা দেখতৈ পায়, শশিশেখরও তেমনি দেখছে, মৃত্যুর পরেও বাড়িটা এমনিই আছে-_তারই আছে

চেয়ীর' ছেড়ে উঠে দাড়াল

দেয়ালের গায়ে পুরনে। আমলের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড অয়েলপেন্টিং ছবি গো্টাকয়েক। এগুলোও মহাদেও ঝাড়ামোছা করে রেখেছে। শশিশেখর তখন লক্ষ্য করে নি। এবারে এক-একটার সামনে দিয়ে খু'টিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল | সব কটাই বিদেশী চিত্রকরের আকা খুব সম্ভব কপি এগুলে। | বিভিন্ন চিত্রকরের আক! বিভিন্ন বিষয়বস্তুর ছবি। মিল নেই। কিন্তু ঠিক এই ছবিগুলিই বেছে বেছে টাঙিয়ে রাখার পিছনে একটা অজ্ঞাত উদ্দেশ্যের মিল আছে বুঝি | তাই বিশ্লেষণ করে করে সাগ্রহে দেখছে শশিশেখর |

প্রথমেই চোখ গেছে যে ছবিটার দিকে, তাতে দাড়িয়ে স্থলিত- বাসনা যৌবনভারে বিড়ন্বিত গোটাকতক নারী মৃত্তি__চোখে মুখে সর্ব অবয়বেন্উর্বশীর লাম্যভঙ্গি। তপ্ত যৌবনের পসারিনী তারা, তবু যৌবন যেন তারা বিলোতে আসে নি। একে তার! ধরে রেখেছে, আগলে রেখেছে। রেখে আর এক বিপরীত শক্তিকে, সচেতন করে তুলতে চাইছে শুধু। তাদের এই চেষ্টা, এই যৌবন- ভার বহন সার্থক। বিস্ষীরিত নেত্রে তাদের দেখছে একটি পুরুষ __তার সরল ডাগর ছুই চোখে চেতনার প্রথম বিস্ময়ের ফাঁক দিয়ে উকিবু'কি দিচ্ছে লোভ আর বাসনার আলো ওই মুতিমতী প্রলোভন সমুদ্রে সে যে নিঃশেষে হারিয়ে যাবে তাতে কোন ভুল নেই। ৃ্‌

পরের ছবিটায় তিনটি নারীমূতি। আনন্দ সৌন্দর্য আর উজ্জ্লতার প্রতীক তারা তাদের চোখে মুখে ভঙ্গিতে কোনো তরল ইশারা নেই; তবু পুরুষের লোভের ভাগার যেন তাদেরই দখলে তাদের দিকে হই বাগ্র বাহু প্রসারিত করে আছে বাসন! উন্মুক্ত কামদেৰ _কিউপিভ। কিন্তু রমণী তিনটির মনোভাব*আশাপ্রদ নয়। তারা

২১

আড়ঢোখে দেখছে আর সরে পড়াই নিরাপদ ভাবছে। ওদিকে কিউপিডও কম ধুরন্ধর নয়, তার হাতে অস্ত্র আছে--অমোঘ ফুলশর তার মুখে মৃদ্রমন্দ হাসি, বলতে চাইছে, ভালো কথা .শোনে। তে শোনো, ফেরে, কাছে এসো

এর পরের ছবিটিতে মৃগয়াদেবী ভায়ন! সৃঙ্গিনীদের নিয়ে শিকারের আনন্দে উল্লাসমত্া। | তাদের শিকারের ভৃপ দেখলে গায়ে কাটা দেয়। সেই হিংস্র উল্লাস তাদের চোখে মুখে অস্ত্র ধারণে অন্গুলিংকেতে | সমস্ত প্রাণীজগৎ তারা উজাড় করে তবে ক্ষান্ত হবে বুঝি। কিন্তু ডায়নার চোখের মত্ত হিংসা তারপরেও স্তিমিত হবে কী?

তার পরের দৃশ্ঠেই রমণী প্রীধান্তের অবসান বিশাল দরজার পাশে দেয়ালজোড়া একটাই ছবি। রেপ অফ পলিকঝিনা আর রেপ অফ দি স্তাবাইনসএর দৃশ্য ! নুন্দরী পলিক্িনাকে হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে ট্রয় যুদ্ধের ছর্দম নায়ক আযাচিলিস, আর, রোমনগর প্রতিষ্ঠাতা দূর্ধর্ষ রোমালাস হরণ করে নিয়ে চলেছে বিজিত স্তাবাইন কন্তাদের রমণীর? প্রবল পুরুষ শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে "কিন্ত তাদের চোখে করুণ মিনতি পুরুষের দোসর হতে আপত্তি নেই তাদের, তার! ব্যভিচারের দোসর নয়। এইটুকু মর্যাদা চায় তার! রিস্ত পাবে কিন! সেই সংশয়

বড় টেবিলের ডান ধারের দেয়ালের বিশীল অয়েলপেন্টিং ছুটোর চিত্রকারুর তাৎপর্য বোধগম্য হলে ধমনীর রক্ত চলাচল বন্ধ হবে হঠাং। ওই ছবিগুলোর পরে এই ছবি টো আকস্মিক ছটো ধাক্কার মত। একটা মাসিয়াস আযাপলো। সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় পরাজিত মাপিয়াসের ভূপাতিত আধার-মুতি মর্মচ্ছেদী ত্রাসে সামনের দিকে ছুই হাত বাড়িয়ে আছে। যেন বাধা দিতে চেষ্টা করছে। কিন্তু বাধা না. মেনে তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে অটুট সঙ্কল্পব্ধ সূর্ধদেব আপলে!। শর্তানুযায়ী পরাজিত মাপ্সিয়াসের গায়ের ছাল- চামড়া তুলে নেবেই সে।

দ্বিতীয় চিত্রটি মিলো অফ ক্রোটোনা | শৌর্ধ বীর্ধের প্রতীক তিন-তিনবার ভূবনবিজয়ী বীর মিলো গেছে অরণ্যে গাছ কাটতে কুঠারাঘাতে আধচেরা গাছের ফাকে হঠাৎ তার ভান হাত গেছে আটকে এমন সময় পিছন থেকে কালাস্তর যমের মত পশুরাজ সিংহ তাকে করল আক্রমণ তুবনবিজয়ী বীর মিলো অসহায়, কুঠার সহ চেরা গাছে আটকানো হাত নিয়ে পিছনের পশ্তরাজের সঙ্গে সে যুঝবে কেমন করে? ছবিটির তাংপূর্য স্পষ্ট? অর্থাৎ যত বড় বীরই তুমি হও না! কেন নিয়তির হাতে তুমি খেলার পুতুল মাত্র।

কিন্তু এই পরিবেশে মব থেকে বিম্ময়কর সংগ্রহ সম্ভবত চেয়ারের পিছনের দেয়ালচিত্রটি। সব লোভ কামন! দম্ভ সংঘাতের শেষে এই যেন শেষ আশ্বীস। সাওয়ার অফ. গোল্ড-_-সোনার ধোয়া রাজা টিগ্ডার জনমানবের অগম্য নিভৃত গুহায় বন্দিনী করেছে তার অনন্ত। সুন্দরী কন্তাকে। কারণ, দৈববাণী ছিল স্বেচ্ছাচাব্ী প্লাজ। টিগারকে হত্যা করনে এই কন্তার সন্তান। গুহার মধ্যে একাকী বসে আছে বিষাদক্রিষ্ট বন্দিনী রাজকুমারী সহসা দেখ। গেল শুন্য থেকে সোনার ধোয়। নেমে আসছে গুহার মধ্যে তার থেকে ধীরে ধীরে যুক্তি পরিগ্রহ করছে দেবরাজ জুপিটার এদের মিলনের সন্তান ন্বেচ্ছাচারী রাজার দগুদাতা ভূবনবিজয়ী পার্সিয়াস্‌।

এই ছবিগুলিই এখানে পরপর সাজিয়ে রাখার পিছনে একজনের একটা মানসিক সত্তার ধারা উপলব্ধি করতে চেষ্টা করছে শশিশেখর। উপলব্ধি করছেও। এর ব্যাখ্যা চলে না, শুধু অন্ুভবই করছে

হলঘর থেকে বেরিয়ে শশিশেখর সিড়ি বেয়ে পায়ে পায়ে উপরে উঠে এলো মহাদেও চ৷ নিয়ে অপেক্ষা করছে জাঁনে। ঘড়ির কাটা ধরে সে নিজের কাজ করে, তারপর চুপচাপ প্রতীক্ষা করে) কারে! চিন্তায় ব্যাধাত ঘটায় না, “তাগিদ দেয় না। কিন্তু

২৩

তার নীরব প্রতীক্ষাই তাগিদের মত। এই তাগিদেই শশিশেখরের পা ছটো বন্ত্রচালিতের মত সিড়ি ভাঙছে ।:.'কিন্ত ভাবছে অন্ত কথা৷ ভাবছে সময় হোক। সময় হলে আবার নামবে। সময় হলে আবার ওই ঘরে আপবে। সময় হোক রাত হোক।

তখন ওই ছবিগুলো ও-ভাবে সাজানোর তাৎপর্য হয়ত আরো! স্পষ্ট হবে।

ছবি ছৰি ছবি ছবি__

অলকাকে ছবি তোলার নেশায় পেয়েছিল। যখন যাতে ঝৌক চাপে তাই নিয়ে মেতে ওঠ! নেশ। তার শশিশেখরের কত ছবি তুলেছে ঠিক নেই। কাজের শশিশেখর, অকাজের শশিশেখর, ব্স্ত শশিশেখর, অলস, শশিশেখর, জাগ্রত শশিশেখর, ঘুমস্ত শশিশেখর; খুশির শশিশেখর, গোমড়া-মুখ শশশিশেখর-__কত শশিশেখর যে তার আ্যালবামে ছিল ঠিক নেই। 'আযালবামও একট ছুটে নয়, এক শশিশেখরকে নিয়েই গোটা তিনেক আযালবাম ভরে উঠেছিল।

কিছু বললে অলকা হাসত। বলত, তোমার সঠিক ছবিটা আজ পর্যস্ত তোলা হল না। একদিন ঠিক তুলব।

তুলেছে। শশিশেখর জানে তুলেছে কিন্তু তার জন্তে কোনো ক্য।মের। দরকার হয় নি।

শিজের অগোচবে একটা বড় নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসতে শশিশেখর সচকিত হল। অদূরে মহাদেওর চোখে চোখ পড়তে চায়ের পেয়ালা টেনে নিল। অন্ুভূতিশৃহ্য নিলিপ্ত চোখে মহাদেও তার দ্বিকেই চেয়ে ছিল। তাকেই দেখছিল। ওর এই দেখার ধরনটা শশিশেখর জারনে। ওই চোখ থেকে কিছুই এড়ায় না, নিলিগ্ততার আড়ালে সদ জাগ্রত, সদা তৎপর ব্রাতে ঘুমোক্স বখন। ওর নাকের ভাকে অস্থির কাণ্ড। একটা গর্জন ক্রমশ বেন পুষ্ট হতে থাকে কিন্ত

২৪

কোথাও খুট কয়ে একট শব্দ হল কি ঘ্বমস্ত অবস্থা থেকে সোজা উঠে বসবে এখন নয়, বরাবরই এই রকম।

ওকে নিজ্লেও অলকা কম হাসে নি। অলকা বলত, গত জন্মে আ্যালসেসিয়ান শ্রেণীর জীব ছিল। দিবিব ভাল মানুষের মুখ, কিন্ত ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে টুণ্টি কামড়ে ধরতে ওস্তাদ ছবি তোলার ব্যাপারে ওকেও অব্যাহতি দেয় নি অলকা। কিছু মনে হতে হঠাৎ ভূরু কুঁচকে ডেকে উঠেছে, এই; এদিকে এসো-_

মহাদেও এসেছে

ওখানে দাড়াও ওই ওখানে-_-

দাড়িয়েছে।

গম্ভীর মুখে অলকা একসঙ্গে ছু'তিনটে করে ছৰি তুলেছে। গম্ভীর মহাদেও-ও। যেন ব্উদ্িমণির কিছু একটা আদেশই পালন কর! হল। |

এবারে ওখানে, ওই দাদাবাবুর পিছনে গিয়ে দাড়াও !

মহাদেও”আবারও হুকুম তামিল করেছে শশিশেখর মনে মনে হয়ত বিরক্ত হয়েছে হয়ত কিছু একট। কাজে ব্যস্ত সে। কিন্তু মহাদেওর সমনে অলকাকে কি আর বলবে ওদিকে মহাদেও, হয়ত কিছু একটা কাজ হাতে করে এসেছে হাতের জিনিস ুদ্ধ'ই তাকে দাড় করিয়ে দেওয়া হল। দিনের বেল! হলে এমনিতেই ক্যামেরা! চির-চির করে উঠল, রাতে হলে মুখের ওপর কয়েক দফা! ফ্যাশ বাল্ব ঝলসে উঠল।

পরে এনলার্জ ফোটো দেখিয়েও অলকা৷ হেসে বাচে না। মুখের হাসিটাও ওর এক অবিচ্ছেগ্চ ব্যাধির মত। মুখে লেগেই আছে। কারণে অকারণে এত হাসতে শশিশেখর কাউকে দেখে নি। রাগলে অবশ্য বিপরীত। তখন শরীরের সমস্ত লাল কণাগুলো একসঙ্গে সুখের ওপর ছোটাছুটি দাপাদদাপি করতে থাকে। সেই লাল চোখের কোল পধস্ত ছড়ায়। কিন্তু রাগতে বড় দেখ! যায় না। সর্বদা হাসি যেন ওর ভিতরেই তৈরি হতে থাকে মহাদেওর ছবি

দেখিয়ে হাসি সামলে মন্তব্য করে, দাড়িয়ে আছে দেখো, যেন নন্দী ভূঙ্গীর একজন। |

শশিশেখর বলেছে, বাচা গেল, শিব তাহলে আমি |"

অলকা বলত, তুমি কলির শিব, টাকা ছাই করো? '্টাকার ছাই গায়ে মাখো আর টাকার মন্ত্র জপে|।

বলেই পালাতো সেখান থেকে নইলে হিসেবে পটু শশিশেখর তক্ষুনি হিসেবের মধ্যে টেনে আনবে অলকাকে। ধরে বেঁধে তাকে বসিয়ে কে কত বাজে খরচ করে তার চুলচেরা হিসেব নিয়ে বসবে।

আবার অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছে শশিশেখর | অলক। এখনো? তেমনি হাসে? শশিশ্েখর জানে না। এখন অনেক কিছুই জানে না শশিশেখর অলকার এই ছবি তোলার ঝৌকের ব্যাপারও আজকের নয়। অনেক দিনের স্মৃতি ওটা! শেষের দিকের, কতগুলে। বছর তো! ক্যামের] ছুতেও দেখে নি। এই নেশা গোড়ার দিকে ছিল, শশিশেখরের উঠতি দিনের গোড়ার দিকে সেই সময় মাকে অর্থাৎ শাশুড়ীটিকেও রেহাই দেয় নি অলক বুড়ো মা তার সঙ্গে পারবেন কেন। অলকা খেয়ালখুশি মত তাকে হিড়হিড় করে টেনে এনে বসিয়েছে, ইচ্ছেমত ছবি তুলেছে। পূজোর ঘরে কতদিন জপমগ্ন তন্ময়তার মধ্যে বিষম চমকে উঠেছেম তিনি চমকে উঠেছেন অলকার বিন। নোটিসে ফ্ল্যাশ বাল্বের ঘায়ে। বির্ক্ত হতে গিয়েও মা হেসেই ফেলতেন। অমন রাশভারী মহিলাও হাল ছেড়ে আত্মসমর্পণ করতেন যেন।

অলকা সেই সব ছবিও তাকে এনে দেখাত। বলত; দেখে দেখো। সব দেখে রাখে।_কোন্‌ মায়ের ছেলে দিনকে দিন কি হচ্ছ দেখে বাখো-_-তোমার ঠিকমত একট! ছবি আজও তোলা হলনা

অথচ এই ছবি তোলার নেশ অলকার আগে ছিল না। সব থেকে আশ্চর্য, বলতে €গলে এই নেশাট। ছিল বরং শশিশেখরেরই )

তাও ,গোড়ায় শুধু ক্যামেরাই ছিল, নেশ! ছিল না1। নেশা ধরেছিল অলফা আসার পর। সেই নেশার ঝৌক আপনিই আবার কৰে একদিন কমে এসেছে টেরও পায় নি। অলকাকে ছৰি তুলতে সে-ই শিখিয়েছিল। পরে অবশ্ঠ তার থেকে অনেক ভালে ছবিই তুলত, কিন্ত প্রথম শিক্ষাগ্ডর সে-ই।

চায়ের পেয়ালা তাড়াতাড়ি খালি করে দিল! মহাদেওর সামনে বসে কিছু ভাবতেও অস্বস্তি বিশেষ করে যে-কথা আর যে-মিল মনে পড়ছে এই মুহূর্তে পেয়াল। আর সরঞ্রাম নিয়ে মন্থর পায়ে মহাদেও প্রস্থান করল। শশিশেখর সিগারেট ধরালো।

,**সেই আযালবামটা কি শশিশেখর এনেছে? না, সেটাও কলকাতাতেই পড়ে আছে শশিশেখর কিছুই আনে নি। সব ফেলে এসেছে সবই ফেলে আসতে চেয়েছে। কিন্তু কিছুই যে ফেলে আসা হয় নি আর তার থেকে ভালো কে জানে? গোপনে অলকার সাদামাটা একথান৷ ছবি শুধু এনেছে। তাও ট্রাঙ্কের একেধারে তলায় আছে। মহাদেওর চোখে পড়তে পারে এই সঙ্কোচে বারও করতে পারে নি। কিন্তু সেই আযালবাম কলকাতায় পড়ে থাকলেও তার কোন্‌ ছবিটা এখন শশিশেখরের , চোখে ভাসছে? সেই আযালবামের ছবিগুলো অলকার তোল! নয়। অলকার ছবি। তার নিজের তোলা এতদিন তো ওগুলোর কথা মনে পড়ে নি শশিশেখরের, আজ নিচের হলঘরের ছবিগুলো দেখে_-বিশেষ করে নারী মূত্র ছবিগুলো দেখে সেই ছবিগুলো একে একে চোখের সামনে ভিড় করে আসছে কেন তার?

অলক ওভাবে ছবি তুলতে দিতে চাইত না। কোনো মেয়েই চার নী। কিন্তু শশিশেখর নাছোড়। রমণীর অনাবৃত সৌন্দর্য স্থিরতার অস্তঃপুরে বন্দি করার ঝৌকে সে অনেক সময় হামলাই করত। রাগ করত; অভিমান করত, অনুনয় করত আবার জুলুমও করত। পরেঃ অনেক পরে অলক বলত 'শশিশেখরের ঠিক ছবিটা

নিজেকে ছাখানা করে তার শক্তির হাতখান! গ্রাস করেছে এই নিক্নতিরূপিবীকে দেখছে শশিশেখর। আর নির্মম পশুরাজকে দেখছে ঘাড় ফিরিয়ে। সব শেষ হবার আগে শেষবারেরখ্মতই দেখে নিচ্ছে। ক্ষুধার্ত হিং্র-ভয়াল এই মুখও বড় 'বেঁশি চেন! শশিশেখরের |

কিন্ত তাহলে? তাহলে দেবগুরু বৃহস্পতির সেই আবির্ভাব কি মিথ্যা? গুহা-গহবরে বন্দিনী রাজকুমারীর সন্ধানে জুপিটার কি সত্যিই আগে নি? আসবে না? তবু ন্বর্ণ ধোয়া! দেখছে কেমন করে তাহলে? পাওয়ার অফ গোল্ডের প্রতিশ্রুতি কিসের ?

আবার আমি আসব !

এবারে যা হল না, এই জন্মে যা হল না, তা আর একবার হবে, বারান্তরে হবে। বক্ষের গুহাগহ্বরে বন্দিনী রাজনন্দিনীর কাছে দেবগুরু আসবে তাদের মিলনের শিশু ভূমিষ্ঠ হবে আর আলোর খড়ো আধার মহিষ দ্বিথগ্ডিত হবে।

"হবেই আবার আমি আসব!

চার

অল্গকা বলত, তোমার মত এমন বিচ্ছিরি লোক ছু'জন দেখিনি, আগে কি ছিলে আর এখন দিনকে দিন কি হচ্ছ, যখন যে নেশায় পেয়ে বসে-_

অলকার রাগের কারণ শশিশেখর জানত। তাই মনে মনে সে হাসত শুধু। এখন শুধু শশিশেখরের কাজের নেশাটা দেখছে অলকা | তার কাজের নেশ। মানে টাকার নেশ। | বিত্তের নেশা কিন্তু শশিশেখর জানে এটা! তার নতুন নেশ। কিছু নয়। এই তৃষ্ণা তার কত দিনের অলক! জানে না। মন পরিণত হবার আগেই নিষ্ঠুর বাস্তবের অনেক ঝড় ঝাপট। তার ওপর দিয়ে গেছে! মানুষের

৩৩

লাভ দেখেছে, হিংস| দেখেছে কতবার অস্তিত্বের ক্ষীণ আশাটুকুও প্রতিকূল হাওয়ায় নিভু নিতু প্রদীপ শিখার মত কেঁপেছে। ছুলেছে। নশ্চিহ্ন হবার উপক্রম হয়েছে। শিরায় শিরায় তখন একটাই স্কয্পের শ্রোত বইত তার। নিজের পায়ে দাড়াবে, শক্ত মাটির ওপর শক্ত ছুই পা ফেলে দীড়াবে। সে যে দাড়িয়েছে সেটা ঙ্কোচে বিস্ময়ে চ্জ চেয়ে দেখবে সকলে-_- দেখবে তার আত্মীয় পরিজন জ্ঞাতিরা।

কিন্তু অলকা দেসন্ীুরিছ জানে না। অলকা সেই দিন দেখে নি। অলক সেই দির্নের শশিশেখরকে দেখে নি। সেই দিনের চথা কানে শুনেছে শুধু কিন্তু সে শোনা গল্পকথা শোনার শামিল শশিশেখরের তাই প্পরণ। | না শশিশেখর বদলায় নি। কছুদিন্রে জন্য তার নেশ! ব্দল হয়েছিল শুধু। বিত্তের তৃষ্ণার ওপর রূপের ঝকমকে ছায়া পড়েছিল। তার আশপাশে রপদখলের খলা চলছিল একটা সেই খেলায় শশিশেখরও মেতেছিল। মলক শুধু এই নেশাটাই দেখেছে এখন যে লোকটা তার মনের রে ফিরেছে তা অলকা জানবে কি করে? তাই তার ক্ষোভ, সসহিষণুতা।

কিন্ত মনে মনে অন্তত শশিশেখর অলকার আভিযোগ স্বীকার চরে না। করে না বলেই হাসতে পারে রূপের লোভ, রূপের তৃষ্ণা তার যেমন ছিল তেমনি আছে উপ্টে তার ঘরের রূপকে মধাদায় মার নিশ্চয়তায় প্রতিষ্ঠিত করার দিকে ঝোঁক এখন এই ঝৌকের পছনে ছ'জনে ইন্ধন জুগিয়েছেন। পরোক্ষভাবে তার মা, প্রত্যক্ষভাবে চার শ্বশুর | বিত্বের আলোয় যাদের চোখ ঠিকরে দিতে ছেয়েছে গশিশেখর, তাদের সংখ্যা একজন বেড়েছে। তিনি শশিশেখরের শুর, অলকার বাবা তিনি বিনভ্র, পরিতুষ্ট এখন | জামাইয়ের মন্ুগতও বলা যায়| শি

অলকার ধারালো অন্থবোগে শশিশেখর যে মনে মনে হাসতে পাপে তার আরো একটা কারণ আছে। কিন্তু সে কারণটা অলকার

৩১

মুখের ওপর বলা যায় না। ছেলেবেলা থেকে অলকাও বিশেষ একটা নেশায় অভ্যস্ত, সেটা স্বতির নেশ1!। রূপের স্তুতি, সৌন্দষের স্ততি। শশিশেখর পাকা যোগানদার | প্রথম একটা বছর যে কি করে কোথ দ্রিয়ে কেটে গেছে অলক] টেরই পায় নি। অথচ ওই একটা বছরই শশিশেখরের সন্কটের কাল গেছে। অলকার স্বপ্ন খান খান হয়ে ছুটতে পারত, ভাঙতে পারত ত্য মিথ্যেয় মেশানো! একটা ভিতের ওপর তাকে এনে দ্রাড় করানে। হয়েছে দেখে সংসারের শাস্তি সে তছনছ করে দিতে পারত, সবই লগ্ু- ভণ্ড হরে যেতে পারত | কিন্তু ত1 হয় নি” অলক তা করে নি। সব জানার পর আর সব বোঝার পর অলক। ভয়ানক হেসেছে, বেদম হেসেছে।

অদ্ভুত হাসতে পারে অলকা।

কিন্তু শশিশেখরের ধারণা, অলকার ওই হাসির পিছনে তারও কিছু কেরামতি আছে। সুদক্ষ স্তৃতির কেরামতি প্রাণের জোয়ারে হৃদয় মন ভরাট করে তুলতে পারলে বাইরের ঘাটতি অনেক সময় উপেক্ষা করানে। যায়। যায় যে, শশিশেখর তার নিজের জীবনেই প্রমাণ পেয়েছে,। নইলে নিজের শ্বশুরটিই তাকে ধোলাইয়ের পাটায় ফেলে বেশ করে আছড়ে দেবার উপক্রম করেছিলেন কন্ঠার সায় থাকলে দ্রিতেনও | কিন্তু কন্যাটিই বাদ সেধেছে। দরকার মত বাপকে গিয়ে উল্টে চোখ ব্বাঙিয়ে এসেছে কলে শশিশেখর শাস্তিতে নিজের কাজে মন দিতে পেরেছে সত্য-মিথধ্যের় মেশানো ভিত থেকে মিথ্যার খাদ নির্মূল করার জন্ উঠে পড়ে লেগেছে তার আবাল্যের সঙ্কল্প চতুগুণ জোরালো হয়ে