না

টি: নিন টি. “একো টিসি মরা রব (4180,

1, ১:49

% শি

[ ১৮৭৫ রষ্টান্ে প্রথম প্রকাশিত ]

মূল্য চারি আনা

শ্রাবণ, ১৩৪৭

পনির প্রেস ২৫।২ মোহনবাগান রো৷

কলিকাতা হুইতে

শত টপ পার গ্রহ বি দীন লিখিয়াছেন_ টা গৃহ বিগ্রহ বাধাবভজীউং রমা প্রতিবংসর যহাসমারোহে [খালা] সপ রি

র্‌ পৃজনীয় যাদবচন্তর তখন ভীবিত। বহ্িমচন্র ১২৮২ নাঞ্পে রখযাার সময় ছুটী লইয়া

গৃহে বদিযা ছিলেন। রথে বহলোকের লমাগম হইয়াছিল। সেই ভিড়ে একটি ছোট মেয়ে হারাইয়া ঘায়। তাহার আত্মীয় ন্বজনের অস্ুসন্ানার্থ বঙ্ধিমচন্্র নিজেও কিছু চেষ্টা করিয়াছিলেন। এই ঘটনার ছুই মাঁদ পরে “রাধারামী” লিখিত হয়। আমার মনে হয়, এই ঘটনা উপরক্ষ্য করিয়া

বন্ধিমচন্ত্র 'রাধাবাণী* রচন! করিয়াছিলেন তৃতীয় সংস্করণ, পৃ. ৩০৩

বন্িমচন্্র ১৮৭৫ শ্রীষ্টান্দের ২৪ জুন হইতে ছুটি লইয়া সির বাস করিয়াছিলেন সালের শেষ দিকে অর্থাং কার্ঠিক-অগ্রহায়ণ সংখ্যা। 'বজদর্শনে রাধারাণী' বাহির হয়। ইহা! বংসরে পুস্তকাকারেও প্রকাশিত হয়। ১৮৭৭ খ্রীষ্টান 'উপকথা? নামক পুস্তকে 'রাধারাণী' পুনমুর্রিত হয় এবং পরে ১৮৮৬ খ্রীষ্টাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপন্তাসে'ও ইহা স্থান লাভ করে। ইহাতে “রাধারাণী' অংশ তৃতীয় সংস্করণ বলিয়া! উল্লিখিত আছে। ". এই অংশ স্বতন্ত্র পুস্তকাকারেও বাহির হয় (১৮৮৬); পৃষ্ঠা-সংখ্যা ৩৮। ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত চতুর্থ সংস্করণে ইহা বর্তমান আকারে পরিবা্ধিত হয়। বর্তমান সংস্করণ তু্থ সংস্করণেরই পুনমুদ্রণ পৃষ্ঠা-সংখ্যা ছিল ৬৫।

প্রথম সংস্করণ 'রাঁধারাণী, আমরা সংগ্রহ করিতে পারি নাই এবং উহা 'বঙদর্শনে' প্রকাশিত গল্পের হুবহু পুনমুর্রণ কি না, তাহাও আমাদের জানা নাই। এই কারণে 'রাধারাণী'র পাঠভেদ দেওয়া সম্ভব হইল না।

১৯১০ শ্রীষ্টান্ে কলিকাতা হইতে ইহা আর. সি. মৌলিক কর্তৃক ইংরেজীতে হইয়া প্রকাশিত হয়। ১৯১৯ শ্রীষ্টাধে দক্ষিণাচরণ রায় ইহার একটি ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ করেন। শেযোক্ত অন্থুবাদের সঙ্গে 'যুগলাদ্গুরীয়ে'রও অনুবাদ আছে, পুস্তকের নাম-_-176 1790 71267,/5 0709 71277076701 অন্ত কোনও ভাষায় ইহার কোনও অনুবাদ হইয়াছে বলিয়া আমরা জানি না।

ল্লাম্মাব্লালী

[ ১৮৯৩ খ্রীষ্টাব্দে মুদ্রিত চতুর্থ সংস্করণ হইতে ]

বান পন

গে মূলাও চি হই টু

চে জি

তি

রাধার: নামে এক কিক মাহেশে রথ দেখিতে গিয়াছিল। বালিকার বয়স একাদশ পরিপূর্ণ হয় নাই। তাহাদিগের অবস্থা পূর্বের ভাল ছিল-_বড়মান্ুষের মেয়ে। কিন্তু তাহার পিতা! নাই; তাহার মাতার সঙ্গে এক জন জ্ঞাতির একটি মোকদমা হয়; সর্বস্ব লইয়া মৌকদ্ম! ; মৌকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল। সে হারিবামাত্র, ডিক্রীদার জ্ঞাতি ডিক্রী জারি করিয়। ভদ্রাসন হইতে উহাদিগকে বাহির করিয়। দিল প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি; ডিক্রীদার সকলই লইল। খরচা ওয়াশিলাভ দিতে নগদ যাহ! ছিল, তাহাও গেল; রাঁধারাণীর মাতা, অলঙ্কারাদি বিক্রয় করিয়া; ঠিবিকৌন্সিলে একটি

আগীল করিল। কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না। বিধবা একটি কুটারে আশ্রয় :..

লইয়া কোন প্রকারে শারীরিক পরিশ্রম করিয়া দিনপাত করিতে লাগিল। রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না। রঃ

কিন্তু ছুর্ভাগ্যক্রমে রথের পূর্বে রাধারাণীর মা ঘোরতর গীড়িত। হইল--যে কায়িক পরিশ্রমে দিনপাত হইত, তাহা বন্ধ হইল সুতরাং আর আহার চলে না। মাতা রুগ্ন জন্ কাজে কাঁজেই তাহার উপবাস; রাধারাণীর জুটিল না বলিয়। উপবাস। রথের দিন তাহার মা একটু বিশেষ হইল, পথ্যের প্রয়োজন হইল, কিন্ত পথ্য কোথা? কি দিবে?

রাধারানী কাদিতে কীদিতে কতকগুলি বনফুল তুলিয়া তাহার মাল! গাথিল। মনে করিল যে, এই মাল! রথের হাটে বিক্রয় করিয়া ছুই একটি পয়সা পাইব, তাহাতেই মার পথ্য হইবে।

কিন্ত রথের টান অর্ধেক হইতে না৷ হইতেই বড় বৃষ্টি আরস্ত হইল বৃষ্টি দেখিয।

লোক সকল ভাঙ্গিয়। গেল। মাল! কেহ কিনিল লা। রাধারাণী মনে করিল যে, আমি

একটু না হয় ভিজিলাম_-বৃষ্টি থামিলেই আবার লোক জমিবে। কিন্ত বৃষ্টি আর থামিল _নী। লোক আর জমিল না। সন্ধ্যা হইল- রাত্রি হইল--বড় অন্ধকার হইল-_অগত্যা

বাধারাণী কাদিতে কাদিতে ফিরিল। .

(৮5:1১. 33780 আধারাদী রর -... অন্ধকার--পথ কর্দমময়, পিচ্ছিল-_কিছুই দেখা যাঁয় না। তাহাতে মুসলধারে

. শ্রাবণের ধারা বি, ছিল। মাতার অক্নাভাব মনে করিয়া তদপেক্ষাও রাঁধারাণীর চচ্ষুঃ বর্ষণ করিতেছিল। রাঁধারামী কাদিতে কাদিতে আছাড় খাইতেছিল__কীঁদিতে কাঁদিতে

174৮ নি রি 2১ 7 ১1 র্

উঠ্িতেছিল। আবার কাদিতে কাদিতে আছাড় খাইতেছিল। ছুই গণ্ডবিলম্বী ঘন কৃ্ণ _অলকাবলী বহিযা, কবরী বহিয়। বৃষ্টির জল গড়িয়া ভাসিযা যাইভেছিল। তথাপি রাহারাণী €সই এক পয়সার বনফুলের মালা বুকে করিয়। রাখিয়াছিল__ফেলে নাই ...,. এমত সময় অন্ধকারে, অকম্মাৎ কে আসিয়। রাধারাণীর ঘাড়ের উপর পড়িল। _ রাধারাণী এতক্ষণ উচ্চৈঃস্বরে ডাকিয়া কাদে নাই-_এক্ষণে উচ্চস্বরে কাদিল যে ঘাঁড়ের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল, সে বলিল, “কে তুমি কাদ ?” 0 পুরুষ মানুষের গল-কিন্ত কঠম্বর শুনিয়া রাধারাণীর রোদন বন্ধ হইল রাধারাণীর চেনা লোক নহে-কিন্তু বড় দয়ালু লোকের কথ _ রাধারাণীর ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকৃতে ইহা বুঝিতে পারিল। রাধারাণী রোদন বন্ধ করিয়া বলিল, “আমি ছুঃখিলোকের মেয়ে আমার কেহ 0 নাই-কেবল মা আছে ।” সে পুরুষ বলিল, “তুমি কোথা গিয়াছিলে ?” 0. রাধা। আমি রথ দেখিতে গিয়াছিলাম। বাড়ী যাইব। অন্ধকারে, বৃষ্টিতে পথ _পাইতেছি না। পুরুষ বলিল, “তোমার বাঁড়ী কোথায় ?”

রাধারাণী বলিল, “শ্রীরামপুর |”

সে ব্যক্তি বলিল, “আমার সঙ্গে আইস--আমিও ইরামপুর যাইব চল, কোন্‌ পাড়ায় তৌমার বাড়ী--তাহা আমাকে বলিয়া দ্রিও__আমি তোমাকে বাড়ী রাখিয়! আসমিতেছি। বড় পিছল, ভুমি আমার হাত ধর, নহিলে পড়িয়া যাইবে 1

এইরূপে সে ব্যক্তি রাধারামীকে লইয়া চলিল। অন্ধকারে সে. রাধারাণীর বয়স অন্থুমান করিতে পারে নাই, কিন্তু কথার স্বরে বুঝিয়াছিল যে, রাধারাণী বড় বালিকা! এখন রাধারাণী তাহার হাত ধরায় হস্তস্পর্শে জানিল, রাধারাণী বড় বালিকা তখন সে জিজ্ঞাস! করিল যে, “তোমার বয়ল কত ?”

রাধা। দশ এগার বছর--

“তোমার নাঁম কি?”

রাধা রাধারাণী।

| বলার হল থাই বাহির কা সইল। গনি ছে মাতার পথ বালিকা এট

' মালা গাধিয়! রথছাটে বেচিতে গিয়াছিল-_রথ দেখিতে যায় নাই_সে নালা, জর 2

নাই__এক্ষণেও বালিকার হৃদয়মধ্যে লুক্কায়িত আছে। তখন সে বলিল, “আমি ছাডা রর হু

মালা খুঁজিতেছিলাম। আমাদের বাড়ীতে ঠাকুর আছেন, তাহাকে পরাইব। রথের হাট সু

সীম তাদিয়। গেল_আমি তাই মালা কিনিতে পারি নাই। তুমি মালা বেচ তর. আমি কিনি

রাধারানীর আনন্দ হইল. কিন্তু মনে ভাবিল যে, আমাকে যে এত বদ করিয়। হাত 5 ধরিয়া

এভম্বকারে বাড়ী লইয়! যাইতেছে, তাহার কাছে দাম লইব কি প্রকারে? তা নহিলে,

আমার ম। খেতে পাবে না। তা নিই।

এই ভাবিয়া রাঁধারাণী, মালা সমভিব্যাহারীকে দিল মমভিব্যাহারী বলিল, “ইকার _.

দাম চারি পয়সা__এই লও 1” সমভিব্যাহারী এই বলিয়া মূল্য দিল। রাধারাণী বলিল, “এ কি পয়সা? ফে বড় বড় ঠেকৃচে।”

“ডবল পয়সা-_দেখিতেছ ন! ছুইটা বই দিই নাই ।”

রাধা ত! যে অন্ধকারেও চক্চক্‌ কর্চে। তুমি ভুলে টাকা দাও নাই ত?.

“না নৃতন কলের পয়সা, তাই চক্চক্‌ কর্চে।

রাধ।। তা, আচ্ছা, ঘরে গিয়ে প্রদীপ জ্বেলে যদি দেখি যে, পয়সা! নয়, তখন ফিরাইয়। দিব তোমাকে সেখানে একটু দাড়াইতে হইবে। |

কিছু পরে তাহারা ঝান।বাশীন মার কুটারদ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইল। সেখানে গিয়া, রাধারাধী বলিল, “তুমি ঘরে আসিয়া দাঁড়াও, আমরা আলো! জ্বালিয়৷ দেখি, টাকা কি পয়স। ।” |

সঙ্গী বলিল, “আমি বাহিরে দড়াইয়। আছি। তুমি আগে ভিজা কাপড় ছাড়. তার পর প্রদীপ জালিও।” |

রাধারানী বলিল, “আমার আর কাপড় নাই-_একখানি ছিল, তাহা কাচিতে দিয়াছি। . তা, আমি ভিজ কাপড়ে সর্বদা থাকি, আমার ব্যামো হয় না। আচলটা নিঙড়ে রি | এখন। তুমি দাড়াও, আমি আলো জ্বালি।”

“আচ্ছ11”

কি বি... | ২৮ রা ১৬ নি না, স্থতরাং চালের খড় পাড়া কুকির আন টিতে রি: ্. শন আলিতে কাজে কাজেই একটু বিজ

তখন রাধারাদী বাহিরে আসিয়া আলো! ববির তল্লাম কিয়া দেখিল যে যে টাক হে, সে নাই-_চলিয়! গিয়াছে ..... ব্বাধারাণী তখন বিষ্বদনে সকল কথা তাহার মাকে বলিয়া, পানে দানা রহিল-_ কাতর বলিল-_ “মা! এখন কি হবে?” রি মা বলিল, “কি হবে বাছা! দে কি আর না জেনে টাক! দিয়েছে? সে দাতা, আমাদের ছংখ শুনিয়া দান করিয়াছে__আমরাও ভিখারী হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া প্খরচ করি 1” রি - তাহারা এইরূপ কথাবার্তা কিতেছিল, এমত সময়ে কে আসিয়া তাহাদের কুটারের আগড় ঠেলিয়! বড় সোর গোল উপস্থিত করিল। রাধারাণী দ্বার খুলিয়া! দিল-_মনে কার্রাছিল যে, সেই তিনিই বুঝি আবার ফিরিয়া আসিয়াছেন। পোড়া! কপাল! তিনি কিন 1. পোড়ারমুখো কাগুডে মিন্সে ! 0 শ্বাধাবাণীর মার কুটীর বাজারের অনতিদুরে তাহাদের কুটারের নিকটেই পদ্মলোচন টে শাহর কাপড়ের দোকান। পগ্মলোচন খোদ,__পোড়ারমুখে। কাপুড়ে মিন্সে_একযোড়া _ নুত্ধন কুঞ্জদার শাস্তিপুরে কাপড় হাতে করিয়া! আনিয়াছিল, এখন দ্বার খোলা পাইয়া ভাহা রাধারাধীকে দিল বলিল, “রাধারাণীর এই কাপড়।” , রাঁধারাণী বলিল, “ও মা! আমার কিসের কাপড় 1” রর পদ্মলোচন--সে বাস্তবিক পোড়ারমুখো কি না, তাহ! আমরা সবিশেষ জানি না__ - রাধারাণীর কথা শুনিয়া কিছু বিস্মিত হইল; বলিল, “কেন, এই যে এক বাবু এখনই আমাকে | নগদ দাম দিয়া বলিয়া গেল যে, এই কাপড় এখনই রাধারাণীকে দিয়া এস।" .. রাধারাণী তখন বলিল, “ওমা সেই গো! সেই। তিনিই 'কাপড় কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন হাঁ গা পদ্মলোচন ?-- | .... বাধারাণীর পিতার সময় হইতে পদ্মলোচন ইহাদের কাছে সুপরিচিত_-অনেক বারই - স্হাদিগের নিকট যখন সুদিন ছিল, তখন চারি টাকার কাপড়ে শপথ করিয়া আট টাকা. সাড়ে বারো৷ আনা, আর ছুই আনা মুনফা! লইতেন। | “ই পল্মলোচন-_-.বলি সে বাবুটিকে চেন ?”

হইল। আলো হানিয়া রাধার রঃ

1 আমি বলি নিন হা আমি টিনিনা।

সদ নর করিয়াছিলেন, আর অধিক কথা কৃছিবার রিয়া প্রসন্নমনে দোকানে ফিরিয়। গ্েলেন। |

একখান! কাগজ কুড়াইয়া পাইল-_হাঁতে করিয়া তূলিল-_-“এ কি ম1!” ম! দেখিয়া বলিলেন-_-“একখানা নোট 1” রাধারাণী বলিল, “তবে তিনি ফেলিয়! গিয়াছেন।” | মা বলিলেন, “হা! তোমাকে দিয়া গিয়াছেন। দেখ, তোমার নাম লেখ! আছে ।” রাধারাণী বড়ঘরের মেয়ে, একটু অক্ষরপরিচয় ছিল। সে পড়িয়। দেখিল, তাই বটে। লেখা আছে। রাধারাণী বলিল, “হা মা, এমন লোক কে মা!”

মা বলিলেন, “তাহার নামও নোটে লেখা আছে। পাছে কেহ চোরা নোট বলে,

এই জন্য নাম লিখিয়। দিয়া গিয়াছেন। তাহার নাম রুক্সিণীকুমার রায় ।”

পরদিন মাতায় কন্ঠায়, রুক্সিণীকুমার রায়ের অনেক সন্ধান করিল কিন্তু শ্রীরামপুরে ব। নিকটবর্তী কোন স্থানে রুক্সিণীকুমার রায় কেহ আছে, এমত কোন সন্ধান পাইল ন!। নোটখানি তাহার! ভাঙ্গাইল না__তুলিয়৷ রাখিল_-৬্হাঁর! দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

রাধারাণীর মাতা পথ্য করিলেন বটে, কিন্তু সে রোগ হইতে যুক্তি পাওয়া, তাঁহার

| হোক, পদ্মলোচন চারি টাকার কাপড় আবার মায় খুলা কা আট টাকা নাড়ে: রোজন নাই রা

দিকে রাধারারী, প্রাপ্ত টাকা ভাঙ্গাইয়। মার পথ্যের যারা জন্য ্য বাজারে গেল চি বাজার করিয়া, তৈল আনিয়া৷ প্রদীপ জ্বালিল। মার জন্য যকিঞ্চিৎ রন্ধন করিল। স্থান পরিষ্কার করিয়া, মাকে অন্ন দিবে, এই অভিপ্রায়ে ঘর ঝাঁটাইতে লাগিল। বাঁটাইতে

সি

অদৃষ্টে ছিল না। তিনি অতিশয় ধনী ছিলেন, এখন অতি ছুঃখিনী হইয়াছিলেন। এই

শারীন্সিক এবং মানসিক দ্বিবিধ কষ্ট, তাহার সহা হইল না। রোগ ক্রমে বৃদ্ধি পাইয়া, তাহার শেষ কাল উপস্থিত হইল | |

উই, রা ডি .... গ্রীধরারী ... এমত সময়ে বিলাত হইতে সংবাদ আসিল যে, শব লৌিলের আস াহার | . পক্ষে নিষ্পত্তি পাইয়াছে ; ভিনি আপন সম্পত্তি পুনঃপরাপ্ত হইবেন, ওয়াশিলাতের টাকা . . ফেরত পাইবেন এবং তিন আদালতের খরচ] পাইবেন। কামাখ্যানাথ বাবু তাহার পক্ষে _.. হাইকোর্টের উকীল ছিলেন, তিনি স্বয়ং এই সংবাদ লইয়া .রাধারাণীর মাতার কুটারে উপস্থিত দু হইলেন। সুসংবাদ শুনিয়া, রুগ্নার অবিরল নয়নাশ্র পড়িতে লাগিল

তিনি নয়নাশ্র সংবরণ করিয়া কামাখ্যা বাবুকে বলিলেন, “ষে প্রদীপ নিবিয়াছে,

তাহাতে তেল দিলে কি হইবে? আপনার স্ুসংবাদেও আমার আর প্রাণরক্ষা। হইবে _. না। আমার আম়ুঃশেষ হইয়াছে তবে আমার এই সুখ যে, রাধারাণী আর অনাহারে _ প্রাণত্যাগ করিবে না। তাই বাকেজানে? সে বালিকা, তাহার সম্পত্তি কে রক্ষা

করিবে? কেবল আপনিই ভরসা আপনি আমার এই অস্তিম কালে আমারে একটি

ভিক্ষা দিউন-_নহিলে আর কাহার কাছে চাহিব।”

কামাখ্যা বাবু অতি ভদ্র লৌক এবং তিনি রাধারাণীর পিতার বন্ধু ছিলেন।

_রাধারাণীর মাত। ছুর্ঘশাগ্রস্ত হইলে, তিনি রাধারাণীর মাতাঁকে বলিয়াছিলেন যে, যত দিন না আগীল নিষ্পত্তি পায়, অন্ততঃ তত দিন তোমরা আসিয়। আমার গৃহে অবস্থান কর, আমি . আপনার মাতার মত তোমাকে রাখিব। রাঁধারাণীর মাতা তাহাতে অন্বীকৃতা হইয়াছিলেন। পরিশেষে কামাখ্যা বাবু কিছু কিছু মাসিক সাহায্য করিতে চাহিলেন। “আমার এখনও কিছু হাতে আছে--আবশ্ক হইলে চাহিয়া লইব।” এইরূপ মিথ্য। কণ্ঠ বলিয়। রাধারাণীর

মাত। সে সাহাষ্য গ্রহণে অন্ধীকৃতা হইয়াছিলেন। রুক্সিণীকুমারের দান গ্রহণ তাহাদিগের

প্রথম শেষ দান গ্রহণ

কামাখ্য। বাবু এতদিন বুঝিতে পারেন নাই যে, তাহারা এপ ছুর্দশাগ্রস্ত হইয়াছেন দশা দেখিয়া কামাখ্যাবাবু অত্যন্ত কাতর হইলেন। আবার রাধারাণীর মাতা, যুক্তকরে তাহার কাছে ভিক্ষা চাহিতেছেন, দেখিয়া আরও কাতর হইলেন ; বলিলেন, “আপনি আঙ্ঞ। করুন, আমি কি করিব? আপনার যাহা প্রয়োজনীয়, আমি তাহাই করিব 1৮

রাধারাণীর মাতা বলিলেন, “আমি চলিলাম, কিন্ত রাধারানণী রহিল। এক্ষণে আদালত হইতে আমার শ্বশুরের যথার্থ উইল সিদ্ধ হইয়াছে ; অতএব রাধারাণী একা সমস্ত সম্পত্তির অধিকারিণী হইবে। আপনি তাহাকে দেখিবেন, আপনার কন্ঠার গায় তাহাকে রক্ষা করিবেন, এই আমার ভিক্ষা আপনি এই কথা স্বীকার করিলেই আমি সুখে মরিতে পারি |”

পন.

7 ১) হিরা ্পরিছেদ 1 ৯8০ রর 1 রী 1 পি বলিলেন," দআমি আপনার নিকট শপথ করিভেছি আমি রাধারাধীকে 3, আপং কন্তার অধিক, য় করিব। আমি কায়মনোবাক্যে কথা টান আপনি | বিশ্বাস করুন 1 পানে | যিনি সনি কামাধ্যা | বান্র চক্ষের জল দেখা তাহার কথায় বব করিলেন ডাহার সেই সীর্দশু অধরে একটু আহলাদের হাসি দেখা দিল। হাসি দেখিয়া কামাখ্যা বাধু বুঝিলেন, ইনি আর বীঁচিবেন না

কামাধ্যা বাবু তাহাকে বিশেষ করিয়া অনুরোধ করিলেন যে, এক্ষণে আমার গৃহে চলুন। পরে ভদ্রাসন দখল হইলে আমিবেন। রাধারাণীর মাতার যে অহঙ্কার, মে দারিদ্রাজনিত-_এজন্য দারিদ্রযাবস্থায় তাহার গৃহে যাইতে চাহেন নাই। এক্ষণে আর দারিদ্রা নাই, সুতরাং আর সে অহঙ্কারও নাই। এক্ষণে তিনি যাইতে সম্মত হইলেন। কামাখ্যা বাবু, রাধারাণী তাহার মাতাঁকে সযত্ধে নিজালয়ে লইয়! গেলেন।

তিনি রীতিমত গীড়িভার চিকিৎসা করাইলেন। কিন্তু তাহার জীবন রক্ষা হইল না, অন্পদিনেই তাহার মৃত্যু হইল।

উপযুক্ত সময়ে কামাখ্যা বাবু রাধাবানীকে তাহার সম্পত্তিতে দখল দেওয়াইলেন। ** কিন্তু রাধারাণী বালিকা বলিয়া তাহাকে নিজ বাটীতে এক! থাকিতে দিলেন না, আপন হেই রাখিলেন। . |

কালেক্টর সাহেব, রাঁধারাণীর সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে আনিবার জনা যত্ত পাইলেন, কিন্তু কামাখ্যা! বাবু বিবেচনা করিলেন, আমি রাধারাণীর জন্য যতদুর করিব, সরকারি কর্্মচারিগণ ততদূর করিবে না। কামাখ্যা বাবুর কৌশলে কালেক্টর সাহেব নিরস্ত হইলেন। কামাখ্যা বাবু স্বয়ং রাধারাণীর সম্পত্তির ত্বাবধান করিতে লাগিলেন। |

বাঁকি রাধারাণীর বিবাহ। কিন্তু কামাখ্যা -বাবু নব্যতন্ত্ররে লোক-_বাল্যবিবাহে তাহার দ্বেষ ছিল। তিনি বিবেচনা! করিলেন যে, রাধারাণীর বিবাহ তাড়ীতাড়ি না দিলে, জাতি গেল মনে করে, এমত কেহ তাহার নাই। অতএব যবে রাঁধারাণী, স্বয়ং বিবেচনা করিয়া বিবাহে ইচ্ছুক হইবে, তবে তাহার বিবাহ দিব। এখন সে লেখাপড়া শিখুক।

এই ভাবিয়া কামাধ্যা বাবু রাধারাণীর বিবাহের কোন উদ্ভোগ না করিয়া, তাহাকে উত্তমরূপে হিকে করাইিরে) .

4”

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পাচ বৎসর গ্েল--খ1ধারাণী পরম সুন্দরী ধোশবর্ষীয়। কুমারী কিন্ত সে

তত্তঃ পুরমধ্যে বাস করে,তাহার সে রূপরাশি কেহ দেখিতে পায় না। এক্ষণে রাধার।ণীর : হন্বন্ধ করিবার সময় উপস্থিত হইল। কামাখ্য! বাবুর ইচ্ছা, রাঁধারাণীর মনের কথা বুবিয়!

সিকি

সহ সম্বন্ধ করেন তত জানিবার জন্য আপনার কন্তা বসন্তকুমারীকে ডাকিলেন।

সবীত্ঘ। উভয়ে লমবযস্ক!। এবং উভয়ে অত্যন্ত

চা

. বসন্তের সঙ্গে রাধারা'

কামাধ্য বাবু বসন্তকে আপনার মনোগত কথা বুঝাই বলিলেন। 1 বসন্ত সলজ্জভাবে, অথচ অল্প হাসিতে হাসিতে পিতাকে জিজ্ঞাসা করিল, শী পু রি কেহ আছে?”

কামাধ্যা বাবু বিশ্মিত হইয়া বলিলেন, দ্না। তা তজানিনা। কেন? .. বসম্ত বলিল, “রাধারাণী রুক্ষিণীকুমার ভিন্ন আর কাহাকেও বিবাহ করিবে ন1।” _.. কামাখ্যা। সেকি? রাঁধারাণীর সঙ্গে অন্থ ব্যক্তির পরিচয় কি প্রকারে হইল? _. বসস্ত অবনতমুখে অল্প হাসিল। সে রথের রাত্রির বিবরণ সবিস্তারে রাধারাণীর কাছে

_ শুনিয়াছিল, পিতার সাক্ষাতে সকল বিবৃত করিল শুনিয়া কামাখ্যা বাবু রুক্সিণীকুমারের

প্রশংসা করিয়া বলিলেন, “রাধারাণীকে বুঝাইয়া বলিও, রাধা রাণী 'একটি মহাত্রমে পড়িয়াছে।

বিবাহ কৃতজ্ঞতা অনুসারে কর্তব্য নহে। রুঝ্সিণীকুমারের নিকট রাঁধারাণীর কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত; যদি সময় ঘটে, তবে অবশ্য প্রতাপকার করিতে হইবে কিন্ত বিবাহে রুক্সিণীকুমারের কোন দাবি দাওয়া নাই। তাতে আবার সে কি জাতি, কত বয়স, তাহা কেহ জানে না। তাহার পরিবার সন্তানাদি থাকিবারই সম্ভাবন! ; রুক্সিণীকুমারের বিবাহ করিবারই বা সম্ভাবনা কি?” |

বসস্তু বলিল, “সম্ভাবনা কিছুই নাই, তাহাও রাধারাণী বিলক্ষণ বুঝিয়াছে। কিন্তু

সেই রাত্রি অবধি, রুকঝ্সিণীকুমারের একটি মানসিক প্রতিমা গড়িয়া আপনার মনে তাহ!

স্থাপিত করিয়াছে যেমন দেবতাকে লোকে পুজা করে, রাধারাণী সেই প্রতিম! তেমনি করিয়া, প্রত্যহ মনে মনে পৃজা করে। এই পাঁচ বৎসর রাঁধারাণী আমাদিগের বাড়ী আসিয়াছে, এই পাঁচ বংসরে এমন দিন প্রায় যায় নাই, যে দিন রাধারাণী রুঝ্িণীকুমারের কথা আমার সাক্ষাতে একবারও বলে নাই আর কেহ রাধারাণীকে বিবাহ করিলে, তাহার স্বামী সুখী হইবে না।”

্ট চে রা ১৩ কামাখ্যা বাবু মনে মনে বলিলেন, “বাতিক। ইহার একটু চিকিৎসা আবশ্যক। কিন্তু প্রথম চিকিৎসা বোধ হয়, রুক্সিমীকুমারের সন্ধান কর!”

_. কামাখ্যা বাবু রুক্ষিণীকুমারের সন্ধানে প্রবৃত্ত হইলেন। স্বয়ং কলিকাতায় ডাহার : অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন। বন্ধুবর্গকেও সেই সন্ধানে নিযুক্ত করিলেন। দেশে দেশে

আপনি মোয়াকেলগণকে পত্র লিখিলেন। প্রতি,» সংবাদপত্রে বিলাপ দিবেন। নে |

শ্াৰ কনার রা নি ্বা্রকারী ব্য সঙ্গে সাক্ষাৎ কমি িলথ : আছে। ইহাতে কী বাবুর সন্তোষের ব্যতীত অসন্তোষের কারণ উন:

হইবেনা।

| 28 প্র ইতযাদি_». |

কিন্ত শিং ক্িনীকুম বের: কোঁন সন্ধান পাওয়া গেল না। দিন গেল, মাস গেল, বংসর গেল, তথাপি কৈ, রুক্সিণীকুমার আদিল নাঁ।

ইহার পর রাধারাণীর আর একটি ঘোরতর বিপদ্‌ উপস্থিত কী নিক বাবুর, লোকান্তরগতি হইল। রাঁধারাণী ইহাতে অত্যন্ত শোকাহুরা হইলেন, দ্বিতীয় বাঁর পিতৃহীনা। : হইলেন মনে করিলেন। কামাখ্য। বাবুর শ্রাদ্ধাদির পর রাধারাণী আপন বাঁটীতে গিয়! বাস করিতে লাগিলেন এবং নিজ সম্পত্তির তত্বাবধান স্বয়ং করিতে লাগিলেন। কামাখ্যা বাবুর বিচক্ষণ হেতু রাধারাণীর সম্পত্তি বিস্তর বাড়িয়াছিল।

বিষয় হস্তে লইয়াই রাধারাণী প্রথমেই ছুই লক্ষ মুদ্রা গবর্ণমেন্টে প্রেরণ করিলেন। তৎসঙ্গে এই প্রার্থনা করিলেন যে, এই অর্থে তাহার নিজ গ্রামে একটি অনাথনিবাস স্থাপিত হউক। তাহার নাম হউক-_“রুক্সিণীকুমারের গ্রাসাদ 1”

গবর্ণমেন্টের কম্ধচারিগণ প্রস্তাবিত নাম শু'"য়! কিছু বিস্মিত হইলেন, কিন্তু তাহাতে কে কথ! কহিবে ? অনাথনিবাস অংস্থাপিত হইল রাধারাণীর মাতা! দরিদ্রাবিস্থায় নিজ গ্রাম ত্যাগ করিয়া শ্ত্রীরামপুরে কুটার নির্মাণ করিয়াছিলেন ; কেন না, যে গ্রামে যে ধনী ছিল, সে সহস! দরিদ্র হইলে, সে গ্রামে তাহার বাস কর! কষ্টকর হয়। তাহাদিগের নিজ গ্রাম শ্রীরামপুর হইতে কিঞ্চিৎ দুর--আমর! সে গ্রামকে রাজপুর বলিব। এক্ষণে রাধারাণী যাজপুরেই বাস করিতেন। অনাথনিবাসও রাধারাণীর বাড়ীর সম্মুখে, রাজপুরে সংস্থাপিত হইল। নানা দেশ হইতে দীন দুঃখী অনাথ আদিয়! তথায় বাস করিতে লাগিল।

21 তি : উট রা বল চা রা রঃ বি না ] সির দি রর তি ্াঁ 4১ 69 4৫5৭ বছ 7১১১৭ ০: হিলি রি পান এক: বদর পরে, একজন: | 111 8 " ০.) রর 1, 11 দন

7 হইলে, 1. হার বয়স ৩৫৩৬ বৎসর অবস্থা দেখিয়া অভি ধীর, গন্তীর এবং অর্থশালী রর লোক, বোধ 'হয়। তিনি সেই “রুক্িণীকুমারের প্রাসাদের” দ্বারে আসিয়া দাড়াইলেন। চি

8 রক্ষকগণকে বিজ্ঞাস! করিলেন, “এ কাহার বাড়ী 1”

তাহারা বলিল, «এ কাহারও বাড়ী নহে, এখানে ছুঃখী অনাথ লোক থাকে ইহাকে

শান প্রাসাদ" বলে।”

আগন্তক বলিলেন, “আমি ইহার ভিতরে গিয়া দেখিতে পারি

..... রক্ষকগণ বলিল, “দীন ছুঃখী লোকেও ইহার ভিতর অনায়াসে যাইতেছে-_আপনাকে

নর নিষে কি রি

দর্শক ভিতরে গিয়া! সব দেখিয়া, প্রত্যাবর্তন করিলেন। বলিলেন, “বন্দবস্ত দেখিয়া

আমার বড় আহ্লাদ হইয়াছে। কে এই অন্নসত্র দিয়াছে? বখিনীকুম।র কি তাহার “মাম ?” | রক্ষকের। বলিল, “এক জন আীলোক এই অন্নসত্র দিয়াছেন ।” পি

দর্শক জিজ্ঞাসা করিলেন, “তবে ইহাকে রুক্সিণীকুমারের প্রাসাদ বলে কেন ?”

রক্ষকেরা বলিল, “তাহ! আমরা! কেহ জানি ন11৮ পু

“রুল্সিণীকুমার কার নাম ?”

“কাহারও নয়।”

“ঘিনি অন্নসত্র দিয়াছেন, তাহার নিবাস কোথায় ?”

রক্ষকেরা সম্মুখে অতি বৃহৎ অট্টালিকা দেখাইয়া দিল।

| আগস্তক জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল, “তোমর! ধাহার বাড়ী দেখাইয়। দিলে, তিনি

পুরুষ মানুষের সাক্ষাতে বাহির হইয়া থাকেন? রাগ করিও না, এখন অনেক বড় মানুষের

মেয়ে মেম লোকের মত বাহিরে বাহির হইয়। থাকে, এই জন্যই জিজ্ঞাস! করিতেছি» রক্ষকেরা উত্তর করিল--“ইনি সেরূপ চরিত্রের নন। পুরুষের সমক্ষে বাহির হন ন1। প্রশ্নকর্তী ধীরে ধীরে রাধারাণীর অক্টালিকার অভিমুখে গিয়া, তন্মধ্যে প্রবেশ

করিলেন। |

ঠা

181 £ পরা

লই অনাধনিবানে আমির উপৰিত

25. যিনি আনিরাহিজের হার ছি চলার রাঙ্গলী ভজজরলোকের মত; 1 বিশেষ রঃ সি অথবা পারিপাট্যের বিশেষ অভাবও কিছু ছিল না, কিন্তু তীহার 'অঙ্গুলিতে পরি: হথীরকান্ুরীয় ছিল; তাহা দেখিয়া, রাধারাণীর কর্দকারকগণ অবাক্‌ হইয়া ভপ্রতি চাহিয়া | রহিল, এত বড় হীরা তাহারা কখন অঙগুরীয়ে দেখে নাই। তাহার সঙ্গে কেহ লোক ছিল নাঃ এজন্য তাহারা জিজ্ঞাসা করিতে পারিল না যে, কে ইনি1 মনে করিল। বাবু বয়! পরিচয় দিবেন। কিন্তু বাবু কোন পরিচয় দিলেন না। তিনি রাঁধারাদীর দেওয়ানজির সহিত সাক্ষাৎ করিয়া তাহার হস্তে একখানি পত্র দিলেন। বলিলেন, “এই পত্র আপনার মুনিবের কাছে পাঠাইয়। দিয়া, আমাকে উত্তর আনিয়া দিন।” | দেওয়ানজি বলিলেন, “আমার মুনিব স্ত্রীলোক, আঁবার অক্পবয়স্কা। এজন্য তিনি নিয়ম করিয়াছেন যে, কোন অপরিচিত লোকে পত্র আনিলে আমরা তাহা না পড়িয়া তাহার, কাছে পাঠাইব ন1 :. আগন্তক বলিল, “আপনি পড়ুন ।” দেওয়ানজী পত্র পড়িলেন__ “প্রিয় ভগিনি! ব্যক্তি পুরুষ হইলেও ইহার সহিত গোপনে সাক্ষাৎ করিও__ভয় করিও না। যেমত যেমত ঘটে, আমাকে লিখিও।

শ্রীমতী বসন্তকুমারী।”

কামাখ্য। বাবুর কন্তার স্বাক্ষর দেখিয়া, কেহ আর কিছু বলিল না। পত্র অস্তঃপুরে গেল।

অন্তঃপুর হইতে পরিচারিকা, পত্রবাহক বাবুকে লইতে আদিল আর কেহ সঙ্গে যাইতে পাইল নাছুকুম নাই।

পরিচারিকা, বাবুকে লইয়া এক সুসজ্জিত গৃহে বসাইলেন। রাধারাদীর অস্তঃপুরে সেই প্রথম পুরুষ মানুষ প্রবেশ করিল দেখিয়া এক জন পরিচারিকা রাঁধারামীকে ডাকিতে গেল” আর এক জন অন্তরালে থাকিয়া আগন্তককে নিরীক্ষণ করিতে লাগিল দেখিল যে, তাহার বর্ণ টুকু গৌর, স্ফুটিত মল্লিকারাশির মত গৌর; তাহার শরীর দীর্ঘ ঈষৎ সুল; কপাল

তির ৮৭ রাধারাণী

দীর্ঘ, অতি সুক্ষ পরিষ্কার ঘনকৃঞ্ণ সুরঞ্জিত কেশদালে মপ্ডিত ; চক্ষু বৃহৎ, কটাক্ষ স্থির, জযুগ

সুক্ষ, ঘন, দূরায়ত এবং নিবিড় কৃষ্ণ; নাসিকা দীর্ঘ এবং উন্নত? ওষ্ঠাধর রক্তবর্ণ, ক্ষুদ্র এবং

কোমল ; গ্রীবা দীর্ঘ, অথচ মাংসল; অন্যান্ট অঙ্গ বস্ত্রে আচ্ছাদিত, কেবল অঙ্গুলিগুলি দেখ!

যাইতেছে, সেগুলি শুত্র, সুগঠিত, এবং একটি বৃহদাকার হীরকে রঞ্জিত |

রাধারাণী সেই স্থানে আসিয়া পরিচারিকাকে বিদায় করিয়া দিলেন। রাধারাণী

_ আসিবামাত্র দর্শকের বোধ হইল যে, সেই কক্ষমধ্যে এক অভিনব সুর্য্যোদয় হইল-_রূপের

আলোকে তাহার মস্তকের কেশ পধ্যন্ত যেন প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল।

ইহ তুলিয়া রাখিয়।ছিলেন কেন ?”

আগস্টকের উচিত, প্রথম কথা কহা-_কেন না, তিনি পুরুষ এবং বয়োজোন্ঠ-_কিন্ত

তিনি সৌন্দধ্যে বিমুগ্ধ হইয়া নিস্তব্ধ হইয়া রহিলেন। রাধারাণী একটু অসন্তষ্ট হইয়।

বলিলেন, “আপনি এরূপ গোপনে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিলাষ করিয়াছেন কেন 1 আমি স্ত্রীলোক, কেবল বসগ্ভের অনুরোধেই আমি ইহ] স্বীকার করিয়াছি ।” আগন্তক বলিল, “আমি আপনার সহিত এরূপ সাক্ষাতের অভিলাধী হইয়াছি, ঠিক

তা নহে ।”

রাধারাণী অপ্রতিভ হইলেন বলিলেন, “তা নয়, বটে তবে বসন্ত কি জন্য এরূপ

অনুরোধ করিয়াছেন, তাহ! কিছু লেখেন নাই বোধ হয়, আপনি জানেন।”

আগন্তক একখানি অতি পুরাতন সংবাদপত্র বাহির করিয়। তাহ! রাধারানীকে

দেখাইলেন। রাধারাণী পড়িলেন; কামাখ্যা বাবুর স্বাক্ষরিত রুকঝ্সিণীকুমার সন্বদ্ধে সেই

বিজ্ঞাপন রাধারাণী ধ্াড়াইয়াছিলেন-দাড়াইয়া দাঁড়াইয়া নারিকেলপত্রের স্তায় কাপিতে লাগিলেন। আগন্ভতকের দেবতুল্য গঠন দেখিয়া, মনে ভাবিলেন, ইনিই আমার সেক্ট রুঝিণীকুমার। আর থাকিতে পারিলেন ন। _জিজ্ঞ/স। করিরা বলিলেন, “আপনার নাম কি রুক্সিণীকুমার বাবু ?”

আগন্তক বলিলেন, “ন1 1” “না” শব্ধ শুনিয়াই রাঁধারাণী ধীরে ধীরে আসন গ্রহণ করিলেন। আর দীড়াইতে পারিলেন না-তীহার বুক যেন ভাঙ্গিয়া গেল। আগন্তক বলিলেন, “না আমি যদি রুক্সিণীকুমার হইতাম, তাহ! হইলে, কামাখ্যা বাবু বিজ্ঞাপন দিতেন না। কেন না, তাহার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। কিন্ত যখন এই বিজ্ঞাপন

বাহির হয়, তখনি আমি ইহা দেখিয়। তুলিয়া রাখিয়াছিলাম ।”

রাধারাণী বলিল, “যর্দি আপনার মঙ্গে এই বিজ্ঞাপনের কোন সম্বন্ধ নাই, তবে আপনি

উত্তরকারী বলিলেন, “একটি কৌতুকের জন্য আজি আট দশ বৎসর হইল? আমি _ যেখানে সেখানে বেড়াইভাম__কিন্তু লোকলজ্জাভয়ে আপনার নামটা গোপন করিয়। কাক্পনিক নাম ব্যবহার করিতাম। কাল্পনিক নাম রুক্সিণীকুমার। আপনি অত বিমন। হইতেছেন কেন ?”

রাধারাঁণী একটু স্থির হইলেন--আগন্তক বলিতে লাঁগিলেন--“যথার্থ রুঝিণীকুমার নাম ধরে, এমন কাহাকেও চিনি না। যদি কেহ আমারই তল্লাস করিয়া থাকে-_তাহা সম্ভব নহে-তথাপি কি জানি--সাঁত পাঁচ ভাবিয়া বিজ্ঞাপনটি তুলিয়। রাখিলাম-_কিন্ত কামাখ্য বাবুর কাছে আসিতে সাহস হইল ন11”

“পরে 1” | |

“পরে কামাখ্য। বাবুর শ্রাদ্ধে তাহার পুক্রগণ আমাকে নিমন্ত্রণ করিল, কিন্তু আমি

কার্ধ্যগতিকে আসিতে পারি নাই সম্প্রতি সেই ক্রটির ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তাহার পুক্রদিগের নিকট মাসিলাম। কৌতুকবশতঃ বিজ্ঞাপন সঙ্গে আনিয়াছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে উহার কথা উত্থাপন করিয়া কামাখ্যা বাবুর জ্যেষ্ঠ পুত্রকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে, বিজ্ঞাপন কেন দেওয়া হইয়াছিল? কামাখ্যা বাবুর পুক্র বলিলেন যে, রাধারাণীর অনুরোধে আমিও এক রাঁধারানীকে চিনিতাম-_-এক বালিকা-আমি এক দিন দেখিয়া তাহাকে আর ভুলিতে ' পারিলাম না। সে মাতার পথ্যের জন্য, আপনি অনাহারে থাকিয়া বনফুলের মাল! গাথিয়া__ সেই অন্ধকার বৃষ্টিতে--” বক্তা আর কথা কহিতে পারিলেন না-_তীহার চক্ষু জলে পুরিয়া গেল। রাধারাণীরও চক্ষু জলে ভামিতে লাগিল। চক্ষু মুছিয়া রাঁধারাণী বলিল, “ইতর লোকের কথায় এখন প্রয়োজন কি? আপনার কথা বলুন ।৮

আগন্তক উত্তর করিলেন, “রাধারাণী ইতর লোক নহে। যদি সংসারে কেহ দেবকন্যা থাকে, তবে সেই রাধারাণী | যদি কাহাঁকে পবিত্র, সরলচিত্ত, সংসারে আমি দেখিয়া থাকি, তবে সেই রাধারাণী-যদি কাহারও কথায় অমৃত থাঁকে, তবে সেই রাধারাণী__ যথার্থ অমৃত ! বর্ণে বর্ণে অগ্দরার বীণা বাজে, যেন কথা কহিতে বাধ বাধ করে অথচ সকল কথ! পরিষ্কার, সুমধুর/_অতি সরল! আমি এমন কণ্ঠ কখন শুনি নাই_-এমন কথা কখনও শুনি নাই |”

রুক্সিণীকুমার-_এক্ষণে ইহাকে রুক্সিণীকুমারই বলা যাঁউক--এ সঙ্গে মনে মনে বলিলেন, “আবার আজ বুঝি তেমনি কথা শুনিতেছি 1”

রুক্সিণীকুমার মনে মনে ভানিতেছিলেন, আজি এত দিন হইল, সেই বালিকার কণ্ঠস্বর শুনিয়াছিলাম, ঠিক আজিও সে কণ্ঠ আমার মনের ভিতর জাগিতেছে! যেন কাল

৬.

বািছি। সত: আছি এই কণঠন্র শুনিয়া! আমার সেই রাধারাণীকেই বা মনে: -- পড়ে কেম এই কি দেই? আখি মূর্খ! ! (কোথায় নেই দীনছাষিনী, কুটারবাসিনী রা ্া (ডিধারিদী-_আর কোথায় এই উ্চপ্রাসাদবিহারিণী ইন্্াপী! আমি সে রাধারাণীকে : অন্ধকারে ভাল করিয়া দেখিতে পাই নাই, সুতরাং জানি না যে, সে সুন্দরী, কি কুৎসিতা, টা কিন্ত এই শচীনিন্দিতা রূপমীর শতাংশের একাংশ রূপও ঘদি তাহার থাকে; তাহা হইলে সেও লোকমনোমোহিনী বটে! |

দিকে রাধারামী, অতৃপ্রশ্রবণে রুক্সিণীকুমারের মধুর বচনগুলি শুনিতেছিলেন_ মনে মনে ভাবিতেছিলেন, তুমি যাহা পাপিষ্ঠা রাধার।পীকে বলিতেছ, কেবল তোমাকেই

রঃ সেই কথাগুলি বলা যায়! তুমি আজ আট বংসরের পর রাধারাণীকে ছলিবার জন্য কোন্‌

. অন্দনকানন ছাড়িয়া! পৃথিবীতে নামিলে? এত দিনে কি আমার স্বাদয়ের পূজায় গ্রীত .. হইয়াছ? তুমি কি অস্তর্ধামী? নহিলে আমি লুকাইয়! লুকাইয়া, হাদয়ের ভিতরে লুকাইয়া

রি তোমাকে থে পুজ। করি, তাহ। তুমি কি প্রকারে জানিলে?

এই প্রথম, ছুই জনে স্পষ্ট দিবসালোকে, পরম্পরের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন। দুই জনে, ছুই জনের মুখপাঁনে চাহিয়া ভাবিতে লাগিলেন, আর এমন আছে কি? এই _ সসাগরা, নদনদীচিত্রিতা, জীবসঙ্কুলা পৃথিবীতলে এমন তেজোময়, এমন মধুর, এমন সুখময়, এমন চঞ্চল অথচ স্থির, এমন সহাস্ত অথচ গম্ভীর, এমন প্রফুল্ল অথচ আীড়াময়, এমন আর আছে কি? চিরপরিচিত অথচ অত্যন্ত অভিনব, মূহুর্তে মৃহূর্ধে অভিনব মধুরিমাময়, আত্মীয় অথচ অত্যন্ত পর, চিরম্মৃত অথচ অদৃষ্টপূর্বব-ঞ্চখন দেখি নাই, আর এমন দেখিব না, এমন আর আছে কি? |

রাধারাণী বলিল,_-বড় কষ্টে বলিতে হইল, কেন না, চক্ষের জল থামে না, আবার সেই চক্ষের জলের উপর কোথা হইতে পোড়া হাসি আসিয়। পড়ে-_রাধারাণী বলিল, “তা, আপনি এতক্ষণ কেবল সেই ভিখারিণীর কথাই পনি মামাকে ঘে কেন দর্শন দিয়াছেন, তা এখনও বলেন নাই |”

হা গা, এমন করিয়া কি কথা কহা যায় গা? যাহার গল! ধরিয়া কাদিতে ইচ্ছ। করিতেছে, প্রাণেশ্বর ! ছুঃখিনীর সর্ধবন্ম | চিরবাঞ্চিত! বলিয়া যাহাকে ডাঁকিতে ইচ্ছা করিতেছে ; আবার যাকে সেই সঙ্গে “ই গা, সেই রাধারাণী পৌড়ারমুখী তোমার কে হয় গা” বলিয়। তামাসা করিতে ইচ্ছা করিতেছে--তার সঙ্গে আপনি, মশাই, দর্শন দিয়াছেন, এই সকল কথা নিয়ে কি কথা কহ যায় গাঁ? তোমরা পাঁচ জন রসিকা, প্রেমিকা,

খারা মনে মনে ধু পরি রি রি দি সা, কথাটা এট ভং খনার মত রি কুষ্পিণীকুমার একটু অপ্রতিত হইয়া বলিলেন, “তাই না বল মই _রাধারাধীকে চিনিতাম__রাধারাদীকে মনে. পড়িক

ন, একটু-_এটুকু-অন্ধকার নে! রা

জোনাকির ম্তায়_-একটু আশা হইল যে, যদি এই রাধারাদী আমার সেই রাধারাণী হয় 0 |

“ভোমার রাধারামী।” রাধারাদী ছল ধরিয়া চুপি চুপি এই কথাটি বলিয়া, মুখ নত রি কিয়া ঈৎৎ দত হাসিল। হা! গা, না হেসে কি থাকা যায়, গা সির :ভামর রাধারাণীর নিন্দ। করিও না

রুক্সিণীকুমারও মনে মনে ছল ধরিল-_এ ভুমি বলে কেন? কেঞ? রকাস্থে ধু

বলিল, “আমারই রাধারাণী। আমি একরাত্রি মাত্র তাহাকে দেখিয়া-__দেখিয়াছিই বা কেমন করিয়া বলি--এই আট বৎসরেও তাঁহাকে ভুলি নাই। আমারই রাধারাণী

রাধারাণী বলিল, “হোক আপনারই রাঁধারাণী।” ০.

রুক্িণী বলিতে লাগিলেন, “সেই ক্ষুদ্র আশায় আমি কামাখ্যা। বাবুর জ্যেষ্ঠ পুজকে'”7 জিজ্ঞাসা করিলাম, রাধারাণী কে? কামাধ্যা বাবুর পুত্র সবিস্তারে পরিচয় দিতে বোধ হয় অনিচ্ছুক ছিলেন ; কেবল, বলিলেন, “আমাদিগের কোন আত্মীয়ার কন্যা যেখানে তাহাকে অনিচ্ছুক দেখিলাম, সেখানে আর অধিক গীড়াপীডি করিলাম না, কেবল জিজ্ঞালা করিলাম, রাধারাণী কেন রুক্কিণীকুমারের সন্ধান করিয়াছিলেন, শুনিতে পাই কি? যদি প্রয়োজন হয় বোধ করি, আমি কিছু সন্ধান দিতে পারি। আমি এই কথা বলিলে, তিনি বলিলেন, “কেন রাধারাণী রুক্সিণীকুমারকে খুঁজিয়াছিলেন, তাহা! আমি সবিশেষ জানি না; আমার পিতৃঠাকুর জানিতেন ; বোধ করি, আমার ভগিন:? জানিতে পারেন। যেখানে আপনি সন্ধান দিতে পারেন বলিতেছেন, সেখানে আমার ভগিনীকে জিজ্ঞাসা করিয়া আসিতে হইতেছে এই বলিয়া তিনি উঠিলেন। প্রত্যাগমন করিয়া তিনি আমাকে যে পত্র দিলেন, সে পত্র আপনাকে দিয়াছি। তিনি আমাকে সেই পত্র দিয়া বলিলেন, আমার ভগিনী সবিশেষ কিছু ভাঙ্গিয়! চুরিয়া বলিলেন না, কেবল এই পত্র দিলেন, আর বলিলেন যে, এই পত্র লইয়া তাহাকে স্বয়ং রাজপুরে যাইতে বলুন। রাজপুরে যিনি অব্সত্র দিয়াছেন, ভাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে বলিবেন। আমি মেই পত্র লইয়া আপনার কাছে আসিয়াছি। কৌন অপরাধ করিয়াছি কি রা

এই. ১০১ _ ্াধারাদী

.. বাধারানী বলিল, “জানি না। বোধ হয় যে, আপনি মহীত্রমে পতিত হুইয়াই এখানে আসিয়াছেন। আপনার রাঁধার|ণী কে, তাহা আমি চিনি কি না, বলিতে পারিতেছি মা। দে রাঁধারাণীর কথ! কি, শুনিলে বলিতে পারি, আমা হইতে তাহার কোন সন্ধান পাওয়া যাইবে কি না।”

| রুশ্মিণী সেই রথের কথা৷ সবিস্তারে বলিলেন, কেবল নিজদত্ত অর্থ বাস্ত্ের কথা কিছু বলিলেন না। রাধারাণী বলিলেন-_“ম্পষ্ট কথ মার্জনা! করিবেন। আপনাকে রাধারাণীর | কোন কথা বলিতে সাহস হয় না; কেন না, আপনাকে দয়ালু লোক বোধ হইতেছে না। যদি আপনি সেরূপ দয়ার্রচিত্ত হইতেন, তাহা হইলে আপনি যে ভিখারী বালিকার কথা বলিজেন, তাহাকে অমন ছুর্দশাপনা দেখিয়া অবশ্য তাঁর কিছু আনুকূল্য করিতেন। কই, আন্থকৃল্য করার কথা কিছু আপনি বলিলেন না ?”

_. ক্ুক্সিণীকুমার বলিলেন, “আনুকূল্য বিশেষ কিছুই করিতে পারি নাই। আমি সে দিন নৌকাপথে রথ দেখিতে আসিয়াছিলাম-_-পাছে কেহ জানিতে পারে, এই জন্য ছদ্লাবেশে রুক্িনীকুমার রায় পরিচয়ে লুকাইয়া৷ আসিয়াছিলাম__-অপরাহ্ে ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় বোটে থাকিতে সাহস না করিয়া! একা ভটে উঠিয়া আসিয়াছিলাম। সঙ্গে যাহা! অল্প ছিল, তাহা রাধারাণীকেই দিয়াছিলাম; কিন্তু সে অতি সামান্থ। পরদিন প্রাতে আসিয়া উহাদিগের বিশেষ সংবাদ লইব মনে করিয়াছিলাম, কিন্তু সেই রাত্রে আমার পিতার গীড়ার বাদ পাইয়া তখনই আমাকে কাশী যাইতে হইল। পিতা অনেক দিন রুষ্ন হইয়। রহিলেন, কাশী হইতে প্রত্যাগমন করিতে আমার বংসরাধিক বিশ্ব হইল। বৎসর পরে আমি ফিরিয়া আসিয়া আবার সেই কুটারের সন্ধান করিলাম--কিন্তু তাহাদিগকে আর সেখানে

দেখিলাম ন11”

... া। একটি কথ। জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা করিতেছে বোধ হয়, সে রথের দিন নিরাশ্রয়ে, বৃষ্টি বাদলে, আপনাকে সেই কুটীরেই আশ্রয় লইতে হইয়াছিল | আপনি কতক্ষণ সেখানে অবস্থিতি করিলেন?

রূ। অধিকক্ষণ নহে। আমি যাহা রাধারাণীর হাতে দিয়াছিলাম, তাহ। দেখিবার জন্য রাধারাণী আলো জবালিতে গেল--আমি সেই অবসরে তাহার বস্ত্র কিনিতে চলিয়া আসিলাম।

রাধা। আরকি দিয়া আসিলেন?

কু। আরকি দিব? একখানি ক্ষুদ্র নোট ছিল, তাহ! কুটারে রাখিয়। আসিলাম।

পরিছে দূ. টি রি রা) নো্িখানি ওরূপে দেওয়া বিবেচনাসিদধ হয় ইহার মনে করিতে পারে,

রি আপনি নোটখানি হারাইয়া গিয়াছেন।

রু। না, আমি পেন্সিলে লিখিয়! দিয়াছিলাম, “রাঁধারাণীর জন্য তাহাতে নাম স্বাক্ষর করিয়াছিলাম, “রুঝ্সিণীকুমার রায়।” যদি সেই রুক্সিণীকুমারকে সেই রাধারাণী অন্বেষণ করিয়। থাকে, এই ভরসায় বিজ্ঞাপনটি তুলিয়া রাখিয়াছিলাম। | রাধা। তাই বলিভেছিলাম, আপনাকে দয়ার্জচিত্ত বলিয়া বোধ হয় না। যে রাধারাণী আপনার শ্রীচরণ দর্শন জন্য-_এইটুকু বলিতেই-__আ' ছি ছি রাধারাণী! ফুলের কুড়ির ভিতর যেমন বৃষ্টির জল ভরা থাকে, ফুলটি নীঢু করিলেই ঝর বর করিয়া পড়িয়! যায়, রাধারীণী মুখ নত করিয়া এইটুকু বলিতেই, তাহার চোখের জল ঝর্ঝর্‌ করিয়া পড়িতে লাগিল। অমনই যে দিকে রুক্সিণীকুমার ছিলেন, সেই দিকের মাথার কাপড়টা বেশী করিয়। টানিয়! দিয়া সে ঘর হইতে রাধারাঁণী বাহির হইয়া গেল। রুল্সিণীকুমার বোধ হয়, চক্ষের জলটুকু দেখিতে পাঁন নাই, কি পাইয়াই থাকিবেন, বলা যায় না।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

বাহিরে আসিয়া, মুখে ঢক্ষে জল দিয়। অশ্রুচিহ্ন বিলুপ্ত করিয়া, রাধারাণী ভাবিতে লাগিল। ভাবিল, “ইনিই রুক্সিণীকুমার | আমিও সেই রাধারাণী। ছুই জনে ছুই জনের জন্য মন তুলিয়া রাখিয়াছি। এখন উপায়? আমি যে রাধারানী, তা উহাকে বিশ্বাস করাইতে পারি-_-তার পর? উনি কিজাতি, তা কে জাঁনে। জাতিটা এখনই জানিতে পার! যায়। কিন্তু উনি যদি আমার জীতি না হন! তবে ধর্ম্মবন্ধন ঘটিবে না, চিরস্তনের যে বন্ধন, তাহা ঘটিবে না, প্রাণের বন্ধন ঘটিবে না। তবে আর উহার সঙ্গে কথায় কাজ কি? না হয় জন্মটা রুক্সিণীকুমার নাম জপ করিয়া কাটাইব। এত দিন সেই জপ করিয়। কাটাইয়াছি, জোয়ারের প্রথম বেগট! কাটিয়। গিয়াছে__-বাকি কাল কাটিবে নাকি?” |

এই ভাবিতে ভাবিতে পি আবার নাকের পাটা কাপিয়া উঠিল, ঠোঁট খানা ফুলিয়া উঠিল-_আবার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। আবার সে জল দিয়া মুখ চোখ ধুইয়! টোয়ালিয়া দিয়া মুছিয়! ঠিক হইয়। আমিল। রাঁধারাণী আবার ভাবিতে লাখিল,_

12. .... রাধারামী

পাচ্ছ | যদি আমার জাতিই হন, ত। হলেই বা ভরসা কি? উনি দেখিতেছি বয়ঃপ্রাপ্ত শাকুমীর, এমন সম্ভাবনা কি? তা হলেনই বা বিবাহিত? না! না! তা হইবে না) নাম জপ করিয়। মরি, দে অনেক ভাল-_দতীন সহিতে পারিব না ।৮

.... পতবে এখন কর্তব্য কি? জাতির কথাটা জিজ্ঞাসা করিয়াই কি হইবে? তবে রাধারাধীর পরিচয়টা দিই। আর উনি কে, ভাহা জানিয়া লই; কেন না, কুক্সিণীকুমার তত ওর নাম নয়--তা শুনিলাম। যে নাম জপ করিয়া মরিতে হইবে, তা শুনিয়া! লই | তার পর বিদায় দিয়া কাদিতে বমি। আ! পৌড়ারমুখী বসস্ত! না বুঝিয়া, না জানিয়া সামগ্রী কেন পাঠাইলি? জানিস্‌ না কি, জীবনসমুদ্র অমন করিয়া মন্থন করিতে গেলে, _ ফ্কাহারও কপালে অমৃত, কাহারও কপালে গরল উঠে!

“আচ্ছা! পরিচয়টা দিই” এই ভাবিয়া রাধারাণী, যাহা প্রাণের অধিক যত করিয়। তুলিয়া রাখিয়াছিল, তাহ! বাহির করিয়া আনিল। সেসেই নোটখাঁনি। বলিয়াছি, রাঁধারাণী তাহ তুলিয়! রাখিয়াছিল। রাধারানী তাহা আঁচলে বাধিল। বাঁধিতে বাঁধিতে

ভাবিতে লাগিল--

“আচ্ছা, যদি মনের বাসনা পরিবার মতনই হয় ? তবে শেষ কথাটা কে বলিবে £” এই ভাবিয়। রাধারাণী আপনা আপনি হাঁসিয়া কুটপাট হইল “আ, ছি-ছি-ছি! তাঁত আমি পারিব না। বসন্তকে যদি আনাইভাম ! ভাল, উহাকে এখন ছুদিন বসাইয়। রাখিয়া বসস্তকে আনাইতে পারিব না? উনিনাহয় সে দুই দিন আমার লাইব্রেরি হইতে বহি লইয়া পড়ুন নাঁ! পড়া শুনা করেন নাকি? ওরই জন্য লাইব্রেরি করিয়! রাখিয়াছি। তা। যদি ছুই দিন থাকিতে রাজি না হন? উহার যদি কাজ থাকে? তবেকিহবে? ওতে আমাতেই দে কথাট! কি হবে? ক্ষতি কি, ইংরেজের মেয়ের কি হয়? আমাদের দেশে তাতে নিন্দা আছে, তা আমি দেশের লোকের নিন্দার ভয়ে কোন্‌ কাজটাই করি? এই যে উনিশ বছর বয়স পর্ধ্যস্ত আমি বিয়ে কর্লেম না, এতে কে না কি বলে? আমি বুড়া বয়স পর্য্যন্ত কুমারী ;_-তা! কাজটাও ন! হয় ইংরেজের মেয়ের মত হইল ।”

তার পর রাধারাণী বিষঞ্ধ মনে ভাবিল, “তা যেন হলো; তাতেও বড় গোল ! মম- বাতিতে গডা মেয়েদের মাঝখানে প্রথাটা এই যে, পুরুষ মানুষেই কথাট। পাড়িবে। ইনি যদি কথাটা না পাঁড়েন? না পাঁড়েন, তবে-_-তবে হে ভগবান! বলিয়া দাও, কি করিব ! লঙ্জাও তৃমি গড়িয়াছ--যে আগুনে আমি পুড়িতেছি, ভাহাও তুমি গড়িয়াছ! আগুনে সে লজ্জা কি পুড়িবে না? তুমি এই সহায়হীনা, অনাথাকে দয়া করিয়া, পবিত্রতার আবরণে

আগাকে রত রয় গার আতর কাড়ি লও ।. তোঁমার কৃপায় যেন আমি এক দণ্ডের জন্য মুখর! হই !”

সপ্তম পরিচ্ছেদ ভগবান্‌ বুঝি, সে কথাও শুনিলেন। বিশুদ্ধচিত্তে যাহ! বলিবে, তাহাই বুঝি তিনি শুনেন। রাধারাণী মৃদু হাসি হাসিতে হাসিতে, গজেন্দ্রগমনে রুক্সিণীকুমারের নিকট আসিয়! উপস্থিত হইলেন। » ক্ুক্সিণীকুমার তখন বলিলেন, “আপনি আমাকে বিদায় দিয়াও যাঁন নাই, আমি যে কথা জানিবার জন্য আসিয়াছি, তাহাও জানিতে পারি নাই। তাই এখনও যাই নাই ।” রাধা আপনি রাপারানীন জন্য আসিয়াছেন, তাহা আমারও মনে আছে। বাঁড়ীতে একজন রাঁধারানী আছে, সত্য বটে সে আপনার নিকট পরিচিত হইবে কি না, সেই কথাট। ঠিক করিতে গিয়াছিলাম রু। তার পর! রাধারাণী তখন অল্প একটু হাসিয়া, একবার আপনার পার দিকে চাহিয়া, আপনার হাঁতের অলঙ্কার খু'টিয়া, সেই ঘরে বসান একট! প্রস্তরনিদ্মিত 1০১৪ প্রতিকতি পানে টাহিয়। রুক্সিণাকুমারের পানে না চাহিয়া, বলিল--“আপনি বলিয়াছেন, রুক্সিণীকুমার আপনার যথার্থ নাম নহে রাধারাণীর ষে আরাধ্য দেবতা, তাহার নাম পধ্যন্ত এখনও সে শুনিতে পায় নাই ।৮ | রুক্সিণীকুমার বলিলেন, “আরাধ্য দেবতা ! কে বলিল 1” রাঁধারাণী কথাটা! অনবধানে বলিয়া ফেলিয়াছিলেন, এখন সামলাইতে গিয়। বলিয়া ফেলিলেন, “নাম এরূপে জিজ্ঞাসা করিতে হয় ।” কি বোকা মেয়ে। রুক্সিণীকুমার বলিলেন, “আমার নাম দেবেন্দ্রনারায়ণ রায়” রাধারাণী গুপ্তভাবে ছুই হাত যুক্ত করিয়। মনে মনে ডাকিল, “জয় জগদীশ্বর ! তোমার কৃপা অনন্ত !” প্রকাশ্যে বলিল, “রাজা দেবেন্দ্রনারায়ণের নাম শুনিয়াছি।” , দেবেন্দ্রনারায়ণ বলিলেন, “অমন সকলেই রাজা! কব্লায়। আমাকে যে কুমার বলে, সে যথেষ্ট সম্মান করে।”

২৪ প্র রাঁধারাণী

রা। এক্ষণে আমার সাহস বাঁড়িল। জানিলাম যে, নিত আমার, তি | এখন স্পর্থা হইতেছে, আজি আপনাকে আমার আতিথ্য স্বীকার করাই। রি দেবেন্দ্র। সে কথ! পরে হবে। রাধারাণী কৈ? রা। ভোঁজনের পর সে কথ! বলিব। দে। মনে দুঃখ থাকিলে ভোজনে তৃপ্তি হয় না। রা। রাধারাণীর জন্য এত ছুঃখ ? কেন! দে। তা জানি না, বড় ছুঃখ-_আট বৎসরের ছুঃখ, তাই জানি ! | রাঁ। হঠাৎ রাধারাণীর পরিচয় দিতে আমার কিছু সঙ্কোচ চি ) আপনি | রাধারাণীকে পাইলে কি করিবেন ? রি নে কিআর করিব? একবার দেখিব। রা। একবার দেখিবার জন্য এই আট বর এত কাতর? দে। রকম রকমের মানুষ থাকে রা রা। আচ্ছা, আমি ভোজনের পরে আপনাকে আপনার রাধারানী দখাইব।, রঃ

- বড় আয়না দেখিতেছেন ; উহার ভিতর দেখাইব। চাক্ষুষ দেখিতে পাইবেন না।

দে। চাক্ষুষ সাক্ষাতেই বা কি আপত্তি? আমি যে আট বংসর কাতর | ভিতরে ভিতরে ছুই জনে ছুই জনকে বুঝিতেছেন কি না জানি না, কিন্ত কথা বার্তা এইরূপ হইতে লাগিল। রাধারানী বলিতে লাগিল, “সে কথাটায় তত বিশ্বাস হয় না। আপনি আট বৎসর পুর্ব্বে তাহাকে দেখিয়াছিলেন, তখন তাহার বয়স

কত ?” দে। এগার হইবে রা। এগার বৎসরের বালিকার উপর এত অনুরাগ ? দে। হয়নাকি?

রা। কখনও শুনি নাই।

দে। তবে মনে করুন কৌতৃহুল !

রা। সে আবাব কি?

দে। শুধুই দেখিবার ইচ্ছা

রা। তা, দেখাইব, বড় আয়নার ভিতর আপনি বাহিরে থাকিবেন। দে। কেন, সম্মুখ সাক্ষাতে আপত্তি কি?

সপ্তম পরিচ্ছেদ ২৫ রা। সে কুলের কুলবতী। দে। আপনিও তাই। | রা। আমার কিছু বিষয় আছে। নিজে তাহার তব্বাবধান করি। সুতরাং সকন্দের সমুখেই আমাকে বাহির হইতে হয়। আমি কাহারও অধীন নই। পে তাহার স্বামীর অধীন, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত-__

দে। স্বামী! রা। হা! আশ্চর্য্য হইলেন যে? দে। বিবাহিতা |

রা। হিন্দুর মেয়ে--উনিশ বৎসর বয়স--বিরাহিতা নহে 1

দেবেন্দ্রনারায়ণ অনেকক্ষণ মাথায় হাত দিয়া রহিলেন রাধারাদী লেন, “কেন, পারার বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন 1. রি

দে। মানুষ কি না ইচ্ছা করে?

রা। এরূপ ইচ্ছা রাশীজি জানিতে পারিয়াছেন কি? বা

দে। রাণীজি কেহ ইহার ভিতর নাই। রাধাবাণী- 'াক্ষাতের অনেক মাহ ্‌ পত্বীবিয়োগ হইয়াছে

রাধারাণী আবার যুক্তকরে ভাকিল, “জয় জগদীশ্বর ! আর ক্ষণকাল যেন আমার এমনই সাহস থাকে ।” প্রকান্যে বলিল, “তা শুনিলেন ত, রাধারাণী পরক্ত্রী। এখনও কি তাহার দর্শন অভিলাষ করেন ?”

দে। করিবৈকি।

রা। সে কথাটা কি আপনার যোগ্য ?

দে। রাধারাণী আমার সন্ধান করিয়াছিল কেন, তাহা এখনও আমার জানা হয়

নাই।

রা। আপনি রাধারাণীকে যাহা দিয়াছিলেন, তাহ! পরিশোধ করিবে বলিয়া আপনি শোধ লইবেন কি?

দেবেন্দ্র হাসিয়া বজিলেন, “হা য়া তাহা পাইলে লইতে পারি”

বা। কিকি দিয়াছেন?

দে। একখানা নোট

বা। এই নিন।

8

ট্ গন রানী

সা. দেবে্নারার়ণ পানি াহ পার (হাতে লেখ! রা নাম সে সলোট টি ছি। : পক বলিলেন, “এ নোট কি রাধারানীর স্বামী কখনও দেখিয়াছেন1” ... রা।' রাধারাদী কুমারী স্বামীর কথাটা আপনাকে মিথ্যা বি মা ছলাম।

দে। তা, সব শোধ হইল ন। রি

রা। আর কি বাকি?

দে। ছুইটা টাকা, আর কাপড়। .. রা। সব খণ যদি এখন পরিশোধ হয়, তবে আপনি আহার ন। জা রা যাইবেন। পাঁওন! বুঝিয়া পাইলে কোন্‌ মহাজন বসে? খণের সে অংশ ভোজনের পর রাধারাণী পরিশোধ করিবে

দে। আমার যে এখনও অনেক পাওনা বাকি।

রা। আবার কি?

দে। রাঁধারাণীকে মনঃপ্রাণ দিয়াছি--ত! পাই নাই

রা। অনেক দিন পাইয়াছেন। রাধারাণীর মনঃগ্রাণ আপনি অনেক দিন লইয়াছেন --ভা সে দেনাটা শোধ-বোধ গিয়াছে

দে। সুদ কিছু পাই না!

রা। পাইবেন বে কি।

দে। কিপাইব?

রা। শুভ লগ্নে সুতহিবুক যোগে এই অধম নীরীদেহ আপনাকে দিয়া, রাঁধারাণী খণ হইতে মুক্ত হইবে।

এই বলিয়। রাঁধারাণী ঘর হইতে বাহির হইয়। গেল।

অঃম পরিচ্ছেদ

রাধারাণীর আজ্ঞা পাইয়া, দেওয়ানজি আসিয়। রাজ দেবেন্দ্রনারায়ণকে বহির্ব্বাটীতে লইয়। গিয়া যথেষ্ট সমাদর করিলেন যথাবিহিত সময়ে রাজা দেবেন্দ্রনারাঁয়ণ ভোজন করিলেন। রাধারাণী স্বয়ং উপস্থিত থাকিয়। তাহাকে ভোজন করাইলেন। ভোজনাস্তে

ইটা সু কাশি বনি ছড়ি কা খরচ করিয়াছি? ভা! নার ফেরত, বিবার যো আই আহাদ -ঃ বদলে যাহা আপনার জন্য রাখিয়াছি, তাহা গ্রহণ করুন” ;

দিতে গেলেন। দেবেক্ররনারায়ণ, নিষেধ করিয়া বলিলেন, পদ পে না করিবে, তবে তোমার গলায় যে ছড়া আছে, তাহাই লব”

রাধারাণী হাসিতে হাসিতে আপনার গলার হার খুলিয়া দেবেকনারায়ণের গলায় পরাইল। তখন দেবেন্্রনারায়ণ বলিলেন, “সব শোধ হইল-কিন্ত আমি একটু ধস রহিলাম ।”

রাধা। কিসে?

দে। সেই ছুই পয়সার ফুলের মালার মুল্য ফেরত পাইলাম তবে এখন মালা ফেরত দিতে আমি বাধ্য

রাধারাণী হাসিল

দেবেন্্নাবারণ ইচ্ছাপূর্ধক যুক্তাহার পরিয়া াসিয়াছিলেন, তাহা রাধারাণীর কণ্ঠে পরাইয়া দিয়া বলিলেন, “এই ফেরত দিলাম |”

এমন সময়ে পেঁ। করিয়া শীক বাজিল।

রাধারাণী হাসিয়! জিজ্ঞাসা করিল, “শীক বাজাইল কে ?”

তাহার একজন দাসী, চিত্রা, উত্তর করিল, “আজ্জে, আমি

রাধারাণী জিজ্ঞাসা করিল, “কেন বাঁজাইলি ?”

চিত্রা বলিল, “কিছু পাইব বলিয়! ॥৮

বলা বানুল্য যে, চিত্রা পুরস্কৃত হইল কিন্তু তাহার কথাটা মিথ্যা। রাধারাণী তাহাকে শিখাইয়া পড়াইয়! দ্বারের নিকট বসাইয়া আসিয়াছিল। |

তার পর ছুই জনে বিরলে বসিয়! মনের কথ হইল রাধারাণী দেবেন্দ্রনারায়ণের বিশ্ময় দূর করিবার জন্তা, ঠোই রথের দিনের সাক্ষাতের পর যাহা যাহা ঘটিরাছিল, তাহার পিতামহের বিষয়সম্পত্তির কথা, পিতামহের উইল লইয়া মোকদ্দমার কথা, তজ্জন্য রাধারাণীর মার দৈচ্যের কথা, মার মৃত্যুর কথা, কামাখ্যা বাবুর আশ্রয়ের কথা, প্রিবি কৌন্সিলের ডিন্রীর কথা, কামাখ্য। বাবুর মৃত্যুর কথা, সব বলিল। বসন্তের কথা বলিল, আপনার