রূধনারানের কুলে সিতভীস্ম খগুট

ঘোৌধনের মাকজউপক্া

টি সা পাপা ৯৭৯৬ হল ইত পি কর ৮৮ ) 5গাপবরল.হাালদাক্স , অর্পন

এযান্টীন বাগান কাঁজকাতা-৭৩ ৩০৯১

প্রকাশক এইচ্‌. এল. সাহা পুথিপন্র | এ্যান্টান বাগান লেন কিকাতা-৭০০

প্রচ্ছদ চন্দ্রকুমার দে

মুদ্রক 1ব. রায় রায় প্রিন্টার্স এ্যান্টান বাগান লেন কঁলিকাতা-৭০০ ০০৯

ধচ২)1- 14 22 হু (860)87015051005 : ১০০১) 85 30051 7781921 [২0168 2 50110 ০9019

গীরবীজ্দ্রলাথ বত

নিতেবদন

প্রায় সাত বৎসর যে বই-এর প্রকাশ অপোক্ষত 'ছিল যখন সত্যই ত৷ প্রকাশিত হচ্ছে তখন অনেক সুহদের মতো আমার অশেষ শুভার্থা অধ্যাপক আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তা আম তুলে দিতে পারলাম না, গভীর মম্বেদন। পরিতাপের সঙ্গে এই কথাটি প্রথম মনে পড়ছে। 'রূুপনারানের কৃলে' প্রথম ভাগ ('কৈশোরক' ) তার নিকট যত সমাদর লাভ করেছিল আমার অন্য কোনো লেখাও ত। পায় নি। দিনের পর দিন তিনি আমাকে প্রবতাঁ অংশের জন্য তাঁগদ দিতেন, সমাপ্ত করতে দেরী থাকলে স্বয়ং- সম্পূর্ণ দ্বিতীয় ভাগের জন্য পরামর্শ দিতেন। প্বেই লেখা আরম্ভ করলেও বারে বারে তাতে ছেদ পড়েছে, তা তাকে দুঃখ দয়েছে ; মুদ্রণ আরম্ভ করলেও তার শেষ তান দেখে গেলেন না, দুঃখ আমার আমার প্রকাশক বন্ধুদের সমান আমার অমার্জনীয় কালক্ষয়ের কথা তাই গভীর অনুতাপের সঙ্গেই মনে না করে পারি না।

সেরূপ অপরাধে আমি অপরাধী আমার অনেক সুহদের নিকট ধারা তখন ছিলেন আজ নেই, ধারা লেখা ন৷ দেখাতে আমারও দুঃখের শেষ নেই

[লখতে লিখতে বুঝোছলাম আমার অভ্যাস আমার শিথিলতার জন্য 'রূপনারানের কূলে' যথারীতি সমাপ্ত কর অসাধ্য হবে। স্মৃতি-প্রবাহ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে, লেখাও বার বার বন্ধ হয়ে থাকে__ আমার আয়ুতে তার সম্পূর্ণতা দান অসম্ভব ইচ্ছা ছিল তাই-_ অনেকটা সুনীতিবাবুর পরামর্শ মতো ক্মবাহক ধারায় চিহৃত না করে আবহমানকে পবানুযায়ী স্বসম্পূর্ণ রূপে চাহন্ত কর। ; 'বূপনারানের কূলে'র প্রথম পর্ব যেমন 'কৈশোরক' দ্বিতীয় পৰ “যৌবনের রাজটীক।' বলে নামাঞ্কিত হোক। কতকাংশে সে চেষ্ট৷ করেছি। কারণ যত চেষ্টাই কার, যত সংবত কার কলমকে য৷ অর্থপূর্ণ বলে অনুভব করেছি তার অনেক কিছুই আর লেখা হয়ে উঠবে না। সম্পূর্ণতার প্রাতশ্াত যাঁদ 'দিয়ে থাক তবে পাঠক বন্ধুদের নিকট এবার তা থেকে নিষ্কাতি চাই

॥কাল কারুর দেখার পরোয়া করে না-ঘটনা প্রবাহও না, রূপ প্রবুস্ ন।। দর্শক গোঁণ, কুলেই থাকুন বা অকুলেই ভাসুন ; দর্শকের দৃষ্টির বহমান ঘটনার প্রবাহে যে রূপের ধার! প্রকাশমান, তাই প্রধান বনু। ফি

(৬1)

সেই রূপও 'বাশষ্ট ব্যান্তর বাশষট দৃষ্টিক্ষেত্র থেকে দেখা 'বাঁশষ্ট দৃষ্টিঙ্গীর দ্বারা অনুলিপ্ত হতে বাধ্য বিশেষ করে উত্তম পুরুষের স্মাতি-মন্থনে সেই ব্যন্তকে একেবারে বাতিল করা সম্ভবপর নয়। তবে বান্তর যা বান্তগত তা তাতে প্রক্ষেপ; কিন্তু যা ব্যান্তত্বের মধ্যে জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে সাঙ্গীকৃত, তা প্রকাশের নিয়মে স্বীকার্য। এই নীতি অনুসরণ করতে চাইলেও সত্যই তা অনুসরণ করতে পেরেছি কিনা জানি না, পাঠকই তার বিচারক

আরেকটি কথা ;-বহু মানুষের মুখচ্ছবি আমার চোখে ভাসছে, বহু ঘটনারও কিন্তু নানাকারণে যে সব মুখের এখানে স্থান করে উঠতে পার নি; কিন্তা ঘটনার যথার্থ পাঁরপ্রেক্ষিতে যাদের উপস্থাপিত করা হয় নি নিজের অক্ষমতায়, মৃত জীবত তাদের সকলকেই আমার প্রণাম জানাচ্ছি ! রূপনারানের কুলে বুঝেছি--সকল রূপ সমতুল্য নয়, কিন্তু সকল রূপ সমান সত্য।

তথ্যে, তারখে অন্যান্য বিষয়ে ভ্রম-প্রমাদ, অসাবধানতা৷ এবং আরো অনেক তুটিশবচ্যুতি, বিশেষ করে মুদ্রণকালীন অনুপাস্থিতি অমনোযোগিতার জন্য বহু অপরাধ ঘটেছে সেজন্য লেখক যতটা দায়ী অন্য কেউ ততটা নয়। সে সবের জন্য আম ক্ষমাপ্রারথা

পাালাঁপ প্রস্তাীততে দু-একজন মাঝে মাঝে সাহায্য করেছেন, তাদের নিকট আম কৃতজ্ঞ আমারই দোষে পারুলাপ কত নুটিপূণ ছিল তা জানলে বোঝা যেত মুদ্র্গকর্মী প্রকাশকদের উপর কী অত্যাচার হয়েছে সেই কর্মী বন্ধুদের আম সাবনয়ে কৃতজ্ঞত৷ জানাঁচ্ছ। হাঁত-

কলিকাতা, বিনীত গোপাল হালদার

দুচী

ৃষ্ঠা প্রথম পাঁরচ্ছেদ যৌবনের যান্রারন্ত দ্বিতীয় পারচ্ছেদে লাগল না-লাগূল না ১৯ তৃতীয় পারচ্ছেদ “স্বরাজ সাধন” /০ চতুর্থ পরিচ্ছেদ সবুজের আভিষান ১০৪ গণম পারচ্ছেদ আঁধ ব্যাধি ১৭৩ যষ্ঠ পারচ্ছেদে ভাষা পারচ্ছেদ ১৮৮ সপ্তম পারচ্ছেদ সাহিতা-সৈকতে ২১৯ অঞঙ্ম পরিচ্ছেদ “চোদ্দ নম্বর' ২৪৮ নল্ম পরিচ্ছেদ প্রবাসীব পাথেয় ২৬২ দশম পাঁরচ্ছেদ ফেরারার ঘরে ফের। ২৭৪ একাদশ পারচ্ছেদ ভ্রমণ-ভারতী ২৮১

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ রাজপথ-জনপথ ৩১৬

যৌবনের ব্লাজটীকা। প্রথম পারচ্ছেদ ০ষাঁৰঢনব্ যাত্রান্বস্ত

ইস্কুল ছেড়ে কলেজে_নোয়াখালি থেকে এলাম কলকাতা-জানতাম না যে, তা কৈশোর থেকে যৌবন-যান্ত্রাও

কলকাত৷ কিন্তু আমার কাছে তেমন আজব শহর ঠেকল না। তখন পর্যস্ত কলকাতা আবর্জনার শহর নয়, মাছিলের শহর নয়, মরতে-বসা শহরও নয় কলকাতার তখনো রূপ ছিল, আর সে রূপ মনেও লেগেছিল। কিন্তু চোখে রঙ লাগে নি। তখনো না এখনো না। কলকাতারও মোহ আছে _তা কি আর আমার অজানা 2? কিন্তু সে বিস্ময়ের মোহ নয়। অপাঁরচয়ের রোমান্টিক রস বরং বোষ্বাইতে পেয়োছি। সত্যই, বোম্বাই শুধু 'বোস্বেটে' ফিল্মের পাঁঠস্থান নয় সে মুস্বই_মোহনী। প্রথম দর্শনেও বোস্বাইর প্রেমে পড়া যায়-হয়তে। বেশি পাঁরচয়ে সে প্রেম উবে যেতে পারে, কে জানে 2 কিন্তু দেখা হতেই কলকাতাকে সুন্দরী বলা তখনো দুঃসাধ্য ছিল। মোহনী তো নয়ই। তার রূপ যা তা একটু-একটু করে আবিষ্কার করতে হয়। হয়তো ছাদে দাঁড়য়ে আকাশে মেলানো বাঁড়র সঙ্গে আকাশে ছড়ানেো৷ সূর্যালোকের খেলা দেখতে দেখতে, হয়তো আউটরাম ঘাটে বসে বসে, বা ইডেন গার্ডেনস্‌ ছাঁড়য়ে আরও দাক্ষণে গিয়ে সূর্যাস্তের গঙ্গার ধারে দাঁড়য়ে ; _কিংব৷ “সদর স্ত্রীটে'র মতো কোনোখানে,_বিশেষ মানুষের চক্ষে বিশেষ মুহূতে,_আর ঘা তা এখানে নাই-বা বললাম £ প্রেসিডেন্সি জেলের গরাদের ফাকে দেখা ঝাউ-এর মাথায় পৃিমার চাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতা, অথবা থানার লকৃ-আপের মধ্যে আবদ্ধ বসে শোনা-গর্জমান ট্রাফকের আতনাদের অন্তরালে সেই শত [দিনের শোনা ফেরিওয়ালার ক্লান্ত ডাকে--দ্বিপ্রহরের রোদ্রে বিমন্ত কলকাতা, সেই কলকাতা, এমন কত কত 'দনরান্ির কলকাত।, কি কম সুন্দরী; আসলে কলকাত৷ সুন্দরী হয় পরিচয়ে-দনের পর দন তার রুপ যেন মনের মধ্যে আরও খুলতে থাকে তখন কলমে কলকাতার আড্ডায় আসরে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে আলাপ আলোচনা মনের মধ্যে জমে বসে কলকাতার আরেক রূপ _সে কলকাতা 'ইন্টেলেক্চুয়াল বিউটি 1 তাকে দেখলে চলে না, অনুভব £ীতে হয়। অনুভীতি জাগেও। তখন কলকাতা-_-আমার কলকাত। তাই

র্পনারানের কুলে

প্রথম দর্শনে কলকাতাকে আমার আজব কিছু মনে হয় নি-এখনো হয় না। গ্রামের মানুষের চোখ নিয়ে দু-চোখ বিস্ষারিত করে শহর-দেখা আমার পক্ষে সেই প্রথম দিনও অসম্ভব ছিল কোলাহলে চমৃকে উঠি নি। উৎকর্ণ হয়েছি

অন্য কারণও ছিল মফঃস্বল থেকে শহরে, স্কুল থেকে কলেজে--সত্যই দৃশ্যান্তর সেই দৃশ্যান্তরের সঙ্গে সঙ্গে ছিল জীবনের পবাস্তরও £ সচেতন যৌবন নিজে নিজেই বুঝলাম কলেজ তো৷ আমার সেই ইস্কুল নয় কলকাতাও নোয়াখাঁল নয় আমার দুরন্তপনা, সেই ডাব-চুরি, সেই অশান্ত কৈশোরের দুষ্টোমি, পাকামি, তারুণ্যের স্বতঃউৎসারিত অদম্য উৎসাহ, দুর্দান্ত আচরণ-_ সব কিছুই সেখানে তাদের এক অশান্ত ছেলের দাস্যপনা সম্নেহ শাসনে তা সেখানে সহজে মার্জনীয় এখানে আমার বিচার হবে নিঃসম্পকিতের প্লেহহীন চক্ষে এই বোধের ফল ফলল যে-ছেলে জন্মোছল চণ্ুল দুরন্ত, আলাপ- আচরণে অকুষ্ঠিত, চলা-ফেরায় স্বচ্ছন্দ, এবার এক 'দনে সে হয়ে পড়ল দেখা- সাক্ষাতে “ভীতু”, আলাপ-পরিচয়ে সংকুচিত, বেমানানো রকমের 9517 ব৷ নুখচোরা অবশ্য পারিচিত বন্ধুগোষ্ঠী ফরে পেলে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে তার শোধ তোলে, মাতে গণ্পে উৎসাহে, আন্ডায়-আলোচনায় কিন্তু নতুনের দেউড্রীটা সহজে পার হতে পারে না পরিবর্তনটা আসলে বয়সের গুণ_ যখন কৈশোর-যৌবন দৃহ্‌* মাল গেল, সেই তারুণ্যের ধর্ম দৃশ্যান্তর হয়তো সে তুলনায় বাইরের কারণ অবশ্য আরও কারণও থাকতে পারে-সেই “তন থেকে সাতে'র মধ্যেকার ব্যন্তত্ব-নয়ামক পরিস্থিতি, দেহ-মনে নিজের উপর আস্থা যাতে দৃঢ় হতে পারে নি। একাম্নবতাঁ বাঁড়র বড়দের ছায়ায় একে ঢাকা, আবার রূপগুণেও চাকচিক্যহীন আসলে হয়তো সব কয়টাই সেই সংকোচের কারণ মোটের উপর কলকাতাতে এসে দেখা দিল একটা অস্বচ্ছন্দ সচেতনতা, অনুভূতির প্রচ্ছন্নতা নিজেকে বাইরে থেকে গ্ৃষ্ঠত করাই তার লক্ষণ। সে লক্ষণ একেবারে কাটে নি কখনো তাতেই কি বাড়ে অনুভুত্র জোর 'বিচারবুদ্ধর ঝেকি।

তবু শুধু আমাকে নিয়েই আম নই দেশ কাল নিয়েই আমি ১৯১৬ থেকে বিপ্লবী দলে ঢুকেছি, 1ববেকানন্দ তাকে বোধন করেছেন, রবীন্দ্রনাথ শোধন করেছেন তখন ১৯১৮ সালের মধ্যভাগ- প্রথম মহাবুদ্ধ শেষ হয় ন। রুশ বিপ্লব অবশ্য কয়েক মাস আগেই ঘটেছে বুঝতে চাইলেও তার স্বর্প তখনো বুঝতে পারছি না রুশিয়ায় জারের পতনের সংবাদে আনন্দিত হলাম ধর্নী-দরিদ্রে সাম্য ম্থাঁপত হচ্ছে,আরও উৎফুল্ল হয়েছি তা পে

যৌবনের যান্লারন্ত

মধ্যএশিয়ার তুর্ক তাঁজিক প্রভাতি জাতিদেরও তার৷ স্বাধীনতা দিচ্ছে জেনে মনে-মনে বলশোভিকদের পক্ষপাতী হয়ে পড়লাম পরাধীন দেশের এমন বন্ধুও থাকতে পারে, এ-ষে স্বপ্নের অগোচর দেখতে না দেখতে জার সাম্রাজ্যের মতো জামান সাম্রাজ্য অস্ট্রো-হ্যাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যও ভেঙে পড়ল। আরও খুশির কারণ। তারপরে ভার্সেঈতে গড়া চলল একদিকে 'লীগ অব নেশনস্‌: ( রবীন্দ্রনাথ যাকে বললেন ক্রু অব্‌ রবার্স” ) আর অন্য দিকে ফরাসী- ইংরেজে পৃঁথবী গ্রাসের ষড়যন্ত্র পশ্চিমের সমুদ্র-মন্ছনে বিষ অমৃত দুই-ই উঠাছল। প্রাচ্যের ভাগ্যেও তা জুটছিল। তবে অমৃতের থেকে 'বিষের ভাগটাই বো শ। আমাদের দেশে যুদ্ধের সঙ্গেই এসেছিল সংবাদপত্র পড়ার নেশা, স্বদে শীর ব্যর্থ আয়োজন আর পুলিশী-পীঁড়ন যুদ্ধ শেষ না হতেই এল 'বুদ্ধজ্বর' বা ইনরফুয়েঞ্জা যুদ্ধশেষে পাঞ্জাবের অত্যাচার জালিয়ানাওয়াল৷ বাগ, ডায়ার ডায়ারের তাণ্বলীলা দেখতে না৷ দেখতে স্বরাজ সমস্ত ভারতের সাধন হল তার পিছনেই দেখা দিল 'হন্দু-মুসলমানের অমীমাংসিত সমস্য। দেশের যৌবনের সম্মুখে ইতিহাসের চ্যালেঞ্জ

এই পাঁরপ্রোক্ষিতেই তো কিশোর আম অন্তরে-বাইরে যৌবনের আম হয়েছি ইতিহাসে যে-কালান্তর আরস্ত হয়োছল, তা প্রাতাদনই দুবারতর হয়। দেশে স্বাধীনতার উন্মাদনা--সে যৌবন-জলতরঙ্গে আমাদের যৌবন উজান বইতে চায় ঘাত-প্রাতিঘাতে এক-একবার চণ্ুল হয়ে উঠতে হ'ত। আবার ফিরে আসতাম নিজের কোটরে, সেখানে বন্ধুগোষ্ঠীতে অসঙ্কোচে জমিয়ে বসতাম সেখান থেকেই বা সাধ্য কি ভুলে থাকণপ সেই যুগ-আবর্তন 2 কালান্তরের পরীক্ষায় দেশের মধ্যে নতুন মানুষ বোরয়ে আসে কালের ঘ্রোতে ভেসে আসে প্রাথবীর যৌবনের রঙীন স্বপ্ন ;কোথায় পাব লেখাপড়ায় স্বস্তি? যুগ-সংঘাতে অশান্ত স্পধিত হয়ে উঠত মন; তবু নিজের মধ্যে ভীত সঙ্কুচিত, জিজ্ঞাসা তাই জাগ্রত হতে চেয়েছে বহুঁদকে বহুরুপে, যৌবন দেখেছে বৃহৎ-এর স্বপ্ন

দ্কাটশ চার্চেস কলেজে ভরাঁতি হলাম- বাবা দাদাও ছিলেন ও-কলেজের ছান্ত। তার থেকেও বোঁশ সে কলেজের হোস্টেল গাঁগল্ভী হোস্টেল তখনো নতুন সেখানেই দাদা আগে থাকতেন ( ১৯১৫-১৬ সালে ? )। মান্র বাহান্নটি ছান্রের জন্য এই ছান্রাবাস_ ছাত্রদের ৪৮ ঘর, প্রায় প্রত্যেকেরই এক-একটি স্বতন্ত্র ঘর খেলাধূলা, পরিষ্কার-পাঁরচ্ছন্নত। সকল 'দিক দয়েই চমৎকার ব্যবস্থা তাই পরে যখন প্রোসডোক্সি কলেজ থেকে ভরাতির মনোনয়ন-পন্ন পেলাম জ্জন আর কলেজ বদলাতে পারলাম না কারণ হোস্টেলও বদলাতে হত

রূপনারানের কূলে

অবশ্য প্রোসডোসি কলেজের, বিশেষতঃ 'হন্দ্র হোস্টেলের, সে সময়কার অনেক ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় সৌহার্দ্য ঘটেছিল তারা কেউ কেউ আমাকে বন্ধুরূণে গণ্য করতেন পরে এম-এ র্লাশে বাইরেকার আরও কারও কারও সঙ্গে পাঁরচয় হয়, সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে বন্ধুচক্ কমেই বৃহত্তর হয়। তাই ভীতু হলেও “কুণো' ছিলাম না

স্বভবতই কলেজের সহপাঠী অপেক্ষাও হোস্টেলের বাঁসন্দাদের সঙ্গেই আলাপ-পরিচয় প্রথমে হল কিন্তু তা জমবার আগেই ১৯১৮-এর প্জার ছুটি এসে যায় সেবার সেই ছুটি দীর্ঘতর হয় দেশব্যাপী ইনযফুয়েঞ্জায় ১৯২১-এর সেব্সসে দেখা যায়-_ইনকুয়েঞ্জায় সে বছরে ভারতবর্ষে লাখ পণ্াশ লোক মারা গিয়েছে-_চার বৎসরের যুদ্ধেও যুরোপে তার অধেকি লোক মরে নি। আমাদের দেশ তখন ইনফুয়েঞ্জায় অনেক জ্ঞার্নী-গুণী মানুষকে হারায় কলকাতার কলেজ খুলল তাই একেবারে বড়োদিনের পর ১৯১৯-এ ততাঁদন আমরা ছলাম বাঁড় বসে।

তখনে। পাঞ্জাবের দুর্যোগ দেখা দেয় নি-মাস তিন-চার দেরী ছল, কলেজের পাঠ কলকাতার পাঠ নেবার মত জুঁটোছল ওৎসুক্য “সুযোগ, দিনগুলি ভরে দিতেন নোয়াখালির বন্ধুরা, বিশেষ করে দাদা রঙ্গীন হালদার

কলকাভাব্স প্রথম পাত

দ্-দনও হয় নি কলকাতায় এসোছ। দ্বিতীয় দিন_রান্ির পরে প্রথম দন-_. সিনেট হলে কেম গিয়োছিলাম দাদার সঙ্গে মনে নেই। বোধহয় দেয়ালে টাঙানো পাশের তালিকায় নামটা স্বচক্ষে দেখতে ছাপার হরফে পাশের তালকায় নাম দেখা-সে কিকম কথা তা ছাড়া, সিনেট হাউস দেখব না? যার সেই বিরাট অপরূপ স্তপ্ত গম্ভীর রূপের মাঁহমার কথ। অত শুনোছ বাবার মুখে ? ফুটপাত থেকে উপরে উঠে গেছে ধাপের পর ধাপ পসিঁড়। প্রশস্ত বারান্দায় প্রসন্বকুমার ঠাকুর- রাস্তার ওপারে কলেজ ক্ডোয়ারে বদ্যাসাগর-মৃতি সাঁতাই, কী নতুন চেতনা অনুভব করেছি ঠিক সেই মুহূর্তে ওপারের ফুটপাত 'দয়ে শার্ট পরা, ক্যাম্বসের জুতো-পায়ে বছর পাঁচশের এক যুবক যাচ্ছিলেন, সিনেট হাউসের বারান্দা থেকে দাদা দেখিয়ে দিয়ে বলেন, “ওই সত্যেন বোস ।' নাম অপরিচিত নয়-বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন নতুন উজ্বল জ্যোতি পুরানে৷ জ্যোতিষ্কদের নাম আমাদের প্রায়ই জানা 'ছিল- বাবার আলমারিতে ছিল কলকাত। বিশ্বাবদ্যালয়ের পুরানো এক খণ্ড ক্যাজে এর

যৌবনের যান্নারন্ত &

-১৮৫৮ থেকে ১৯০০ বা ১৯০১ সাল অবাধ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফলাফলও সেই এক খণ্ডেই তখনে। পাওয়। যেত বাঁজ্কমচন্দ্র থেকে আরন্ত করে সোঁদিনের বখ্যাত পুরুষদের পারীক্ষক পাঁরচয় তাতেই জানা ছিল। তার পরেকার রেকর্ড-ভাঙ কৃতী ছাত্রদের কথা, এমনাঁক সমসাময়িক পি-এচ্‌-ভি-ডি-এস-সি, ছান্র অধ্যাপকদের কথাও মুখস্থ হয়েছিল দাদার মুখের গণ্পে সেই প্রথম দেখলাম একজনকে সত্যেন বোস সত্োন্দ্রনাথ বসু তখনি আমাদের কাছে িজেও। ভাগ্যরমে কলকাতায় আমার প্রথম দেখ! সেই 'দর্শনীয়' তিনি সবের জন্যই তো কলকাত। আমার কাছে কলকাত।৷ অবশ্য অন্যদিকের বড়ো নামগ্ীলও ছিল জানা-শিব ভাদুড়ী, বিজয় ভাদুড়ী তখন খেলেন না-গ্োঠ পাল তখন উচ্চ চূড়ায় সাহেব খেলোয়াড় নাইট, বেনেউদেরও নাম জানতাম আই-এফ-এ পর শীল্ডের খেলায় হাতে ধরে আমাকে দাদার নিয়ে যেতে হয় _আমাদের হোস্টেলের ভূতপূব ছাত্র ছিলেন উমাপাঁত কুমার, প্রফুল্ল সান্যাল অন্য কেউ কেউ হোস্টেলের 'সাঁনয়রদের নেতৃত্বে বড়ে। বড়ো খেলাগুলিতে দল বেধে আমরা জ্রীনয়ররা যেতাম দাদা জিজ্ঞাসা করতেন, শগয়োছালি' 2 যেন না যাওয়াই অন্যায় তবে, সভা-সাঁমাতির পথটা আমি নিজেই চিনে নিই-_সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপিনচন্দ্র পাল প্রভাতি একাঁদকে, অন্যাদ্দকে গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো শিক্ষাগুবুরা ওদের স্বচক্ষে না দেখলে, এবং স্বকণে না শুনলে এদের কথা, কলকাতায় আসা কেন £ অবশ) সকলের বড় আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথ কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তখন কলকাতায় ছিলেন না-_আর এলেও তখন দুলভ-দর্শন না হলে দাদাই সবাগ্রে সেজন্য উদ্যোগী হতেন, কিন্তু আমার সাহসে কুলোত কিনা জানি না ৬/1০ ০৪ ৮৪ ৪8$৩ 2 2197. 2 অবশ্য দশজনার মতো প্রথম কলকাতায় এসে আমও জাদুঘর, 'চাঁড়য়াখানা না৷ দেখোঁছলাম তা নয়। তবে তাড়া ছল না। চাঁড়য়াখানার থেকে আমাকে বোশ আকর্ষণ করেছে জাদুঘর--তার প্রান ভারতীয় ভাস্কর্য স্াপত্য_ওটা ইাতহাসের আকর্ষণ

পূজার পূর্বে বোধ হয় ইউীনভাঁসাঁট ইনস্টাটিউটে ছাত্রদের নাটক আঁভনয় হত। সেখানকার অভিনয়েই যে শিশির ভাদুড়ী, নরেশ মিত্র, র্লাধিকানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রভতি অভিনয়ে একটা নতুন ধারার সূচনা করেছেন, নোয়াখালি বসেও তা না জেনে উপায় ছিল না কারণ, দাদ। আবাল্য ছিলেন থিয়েটারে অঞ্্ট, আভনয়ে উৎসাহী আর নোয়াখালিতে আমাদের দলের (সবুজসঙ্ঘ) নাম ছিল নাটকের জন্য গারশবাবু, দানীবাবুরাও যেমন দাদার "হরো”, তেমান তান অনুরাগী ছিলেন ইন্স্টাটউটের নতুন আভনয়-ধারার অবশ্য

রূপনারানের কুলে

কলকাতায় “ফানুনী'র আভনয় তিনি যে না দেখে ছেড়েছেন, কিন্বা 'ডাকঘর'-এর বে প্রথম আভনয় দেখেন ন-এমন মানুষ তে। কখাঁন নন। তার মুখে সে সব বর্ণনাও শুনতাম--সেই অন্ধ বাউল, সেই ডাকঘরের কালে দৃশ্যপট, আর তার শেষ দৃশ্যের শূন্য খাঁচা দেখার থেকে না দেখা সেই সব আমার কল্পনায় আঙ্গও অপরুপ শৈলেন চৌধুরী ছিলেন ইনাস্টাটিউটের সেই ১৯১৮-২০-এর সময়কার আঁভনেতাদের অন্যতম নোয়াখালির মানুষ দাদার অনুরাগী দাদাকে তান সেবারের আভনয় দেখবার জন্য কার্ড দিয়োছলেন। আমাকে কার্ডটা দিয়ে দাদা বললেন, যা দেখে আয় দেখাব !--বলে বড় চোখ আরও বড় করে বিনা বাক্যে যা বোঝালেন তা বাক্যের অসাধ্য কিন্তু আমার 1নজের নাটকের নেশা বিশেষ ছিল না। ওটা সংক্লামক ব্যাধ-নোয়াখালতে আমরাও তখান তার কবলে পড়েছি তবে আমাকে ততটা পায় ন। লাধারণ থিয়েটারে তখনো আভনয় দোখ | ন_আরও দেড় বছর পরে তা দেখো সামান্য ভূঁমিকায়ও দেখোছলাম 'শিশিরবাবুর অসামান্যতা, সেই সঙ্গে সহযোগীদেরও তিনি তার শিক্ষায় একটা স্তরে তুলে আনেন-এট। সাধারণ রঙ্গালয়ে তখনকার দিনে একেবারেই অসম্ভব হত। তবু দাদাকে বললাম, 'যাই বলুন, ?সনেমায় আঁভনয় দেখে কিন্তু বাঙালি থিয়েটারের আঁভিনয় দেখতে মন ওঠে না'_-তখনও সবই বালাত ছবি-সনেমায় দেখি ওরা সবাই নিখুস্ত আভনেতা ।'* দাদা বললেন, “সে ঠিক, কিন্তু আমর৷ নাটকে আভনয়ে কোন স্তরের তা তো বুঝ !' 1সনেমার পথটা আঁচরেই 'চানয়ে ?দয়ে নয়ে গয়োছল উপেন সেন,_কলকাতায় সাধারণ বাংলা থিয়েটার দেখতে দোর ছিল ছবি যা কিছু দেখোঁছ তাই ভাল লেগেছে-তবে মনে আছে তিনটি নাম £ চ্যাল চ্যাপালন, মেরী 'িকফোর্ড, ডগলাস ফেয়ারব্যাংকৃস্‌ চ্যাপলিনের প্রীতভার আসল রহস্য অবশ্য তখনও বুঝি ন-শুধু হেসেই খুন হয়োছ। নাটকের পথটা চিনবার মতে৷ উৎসাহ দাদার কাছেই পেতাম আর, গান, সাহত্য বোধহয় উংসাহের বিশেষ দরকার ছিল না। হ্যারসন রোডের কৃষফদাস পালের মূর্তির কোণায় পন্র-পাঁত্ুকার স্টল-_যেখান থেকে ব্যাগ্-বিক্েতারা বই-এর স্টলগুঁলকে বেদখল করে অনেক পরে,যে-স্টল থেকে সদ্য প্রকাশিত 'সবৃজপর্র' কিনে প্রথমেই গেলাম &নং মীরজাফর লেনের (কলেজ রো) মেসে পরাঁদনই দাদার পরীক্ষা তখনো তান চা খান নি। চা খেতে তান আমাকে নিয়ে বেরুবেন পেলেটিতে বা পেস্তোলাজ্জিতে (পরে যেখানে দিখ। দেয় ণফরপো' )। তার পক্ষে বাইরে চা খেতে হলে ওসব জায়গাতেই যেতে হয়_-কারণ, ওসব রেস্টুরেপ্ট পরিষ্কার-পারচ্ছনম, আর ওখানেই ঢা একমান্ত

যৌবনের যাল্লারন্ত &

পানের যোগ্য কিন্তু সেজন্য প্রস্তুত হতে দাদার অন্তত একঘণ্টা লাগবে- হাত ধোবেন, মুখ ধোবেন, প্লান করবেন, পোশাক-পারচ্ছদ দোরস্ত করে নেবেন, তবে তো। ততক্ষণে আমি এক '[নঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম রবীন্দ্রনাথের লেখা ( পয়লা নম্বর )। তিন বললেন, “রেখে যা, রান্রে পড়তে হবে ।, বলেন কি! এম-এ পরীক্ষার খড্াটা যে একেবারে মাথার ওপর !-তাতেও দৃষ্টি নেই !

সে পরীক্ষা হয়ে গেল। হণ্ঠাং এল একখানা পোস্টকার্ড “কাল চারটায় এসে | বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রীভারশিপের' বন্তৃত৷ দিচ্ছেন 'বিজয়চন্দ্র মজুমদার, বাঙলা ভাষার ইতিহাস বন্তৃতার বিষয় ।' বিজয়চন্্র মজুমদারের লেখা 'প্রবাসী'তে, পড়োছ, দুজনারই তা ভালো লাগত পাচটার 'মাঁনট দশেক আগেই সনেট হাউসের পশ্চিমের হলে গিয়ে দ্র'জনায় বসলাম পাঁওত লোকেরা একে একে আসছেন অজাত-শ্মশ্রু বালকের 'দকে কেউ যেন হ্াকিয়ে না দেখেন, মনে মনে এই প্রার্থনাই বিধাতার নিকটে করাছি। কন্তু যাঁদ দেখেন সে বিপদ কাটাবার জন্য ভয়ে নতচক্ষু নতমুখ দাদার সে দিকে কোনো দৃঁষ্ট নেই যাঁরা আসছেন চাপ। গলায় তার্দের পরিচয় বলাছলেন আমাকে হঠাৎ বললেন_-এই-_এই সুনীতি চ্যাটুজ্জে চমকিত হলাম নাম আগেই জানতাম--তানও এক লিজেও। কুত্হলী চোখ তুলে একবার দেখলাম, পরক্ষণেই নামিয়ে নিলাম সুস্থ সবল দেহ, চশমার আড়ালে উজ্্বল চক্ষু, বুদ্ধি মাজিত ললাট ওষঠতট তখনে৷ জানতাম না-সেই আমার শিক্ষা গুরুর দর্শনলাভ জানবার কথাও নয় তার স্বচ্ছন্দ আলাপ-কৌত্ৃকের আশ্চর্য 'মতা অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায় বন্তুতার নোট নেবার জন্য পকেটের কলম খুলাছলেন কে বললে বন্তৃতা টাইপ করা, 'তাঁন কাঁপ পাবেন, মুদ্রতও হবে। কলম বন্ধ করলেন। বিজয়চন্দ্রের সে বন্তৃতা শহস্টোরি অব বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ' নামে পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। প্রারন্তিক বন্তৃতা সোদদন একরকম করে বুঝোঁছলাম, তবে বুঝব বলে যাই 'ন, শুনতেই গিয়েছিলাম বুঝি বা না বুঝি দাদার যা মনে হত মূল্যবান আমার সামনে তা খুলে দিতে উৎসাহ ; আর শুধু আমার সামনে নয়, আমার বন্ধুদের সামনেও, যারা তার সঙ্গী-সহচর তাদের সকলের সামনেই,-তার এই স্বভাব ছোটদের নিজের সমকক্ষ করে নেওয়া ছোট না রাখা

মূলাবান কি শুধু নাটক সাহিত্য? সামনে তার পরীক্ষা,_এ পেলেটির পেস্তোলিজ্জিতে চা কেক-এর সঙ্গে আমার পরিচয় কারয়ে দিতে তবু এক সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ে গেলেন তারপর, পটলডাঙার দীনু ময়রার খাপ্‌রার দোকানের রসগোল্লা ভীমনাগ্ের সন্দেশের তুলনামূলক রসতত্বের (কম্প্যারাটিব্‌

রূপনারানের কূলে

গ্যাস্োনোমির ) অনুশীলনে আমাকে দীক্ষিত করতে ছাড়লেন না। তার দৃঢ় ধারণা রসনাতেই রসের আসল বাসা ; কলকাতার তাও একটা পাঠ

এমন মানুষ পরীক্ষায় খুব ভালো না করলেও যে মোটামুটি ভালো করলেন, তার কারণ বোধ হয় দুটি ৪__-একটা, তার বহু ব্যাপারে কোতৃহল, আরেকটা ঠার সুনিশ্চিত হবার দুবায়ু প্রথমটা আমাদের বাড়তে আশ্চর্য নয়, দ্বিতীয়টা কিন্তু অনেক পাঁরমাণে বাঁড়র ব্যাতক্রম--পারফেকশ্যানের নেশা অত্ন্ত নিপুণ ভাবে বারে বারে তিনি হাত ধোবেন, বারে বারে পা ধোবেন, পোশাক- পারচ্ছদ সযত্বে পরেন, পরে বার বার দেখেন_ানখূ'ত হওয়া চাই বেশভৃষা তেমান পড়তে বসে গ্রাত কথাট৷ উ্টিয়ে পাণ্টিয়ে পড়েন, সঠিক বুঝে নেন, তার পূেকার কথার সঙ্গে নতুন কথাট। 'মাঁলয়ে বিচার করেন, অর্থ গ্রহণ করেন। কিছু ঝাপসা বা আনশ্চিত থাকার উপায় নেই। তাই একবার পড়া হয়ে উঠলে তিনি সুনিশ্চিত হয়ে উঠবেন লেখার বিষয়েও তাই এক পৃষ্ঠ পড়তে লাগতে পারে কমপক্ষে আধ ঘণ্টা, একপৃষ্ঠ লিখতে কিন্তু একদিন। কিন্তু যা পড়া হয়ে গেল তা আর মন থেকে মুছে যাবে না কোনোঁদন ; যা লেখা হবে তার ওপরে কলম ছোয়াতে হবে না দ্বিতীয় বার উত্তর নিত পরীক্ষায় প্র্যাকীটিকাল কাজ যতটুকু করলেন অনবদ্য বল! বাহুল্য, অত ধার “নিখু'ত' হবার দুঝায়ু তার পক্ষে সময়ের অভাব আনবাধ কোথাও বেরুতে হলেও যেমন, পরীক্ষায় হলেও তেমন এ-রোগটা কিন্তু সংক্রামক না, বরং তা বিপরীত প্রাতক্রিয়াই ঘটিয়েছে-_ অন্তত আমার পক্ষে “পারফেকৃশ্যান' থাক, নিখুত নিপুণতা না খুজে আম চাই চলনসই বিদ্যা বুঝে না বুঝে পড়ে বাই রুদ্ধশ্থাসে, যা হোক িখে যাই উধর্বশ্বাসে _যা পড়ি ত৷ ভুলে যাই পর মুহূর্তেই, যা লিখি তাও মুছে যায় পরাদনই। আমার মনে থাকে না, পরেরও না আমি ক্ষণিকবাদী, আর অপূর্ণতাবাদী,_সবই স্বপ্পায়ু, আর সবই অসম্পূ্ণ_তাই বিধাতারও এই দশ! বিধাতা কিছুই নিখুত করে গড়তে পারছেন না-গড়ছেন আর ভাঙছেন; না হলে সৃষ্তি পারফেন্ হত--অর্থাং থেমে যেত আমাদের দুজনার স্বক্ষেত্রে দাঁড়িয়েছে এই-দাদার কিছুই লেখা হয় না, আমার লেখা কিছুই হয় না সাহিত্যে হোক, বিজ্ঞানে হোক, ওর যা জানা, তা সত্যই জানা, বোঝা, আপনার করে ফেলা আর সে দিকে ওর কোতৃহল যেমন প্রচুর, রুচি তেমানি সুনিশ্চিত আমার সেই ষোল বছরের গোড়ায় কলকাতার এই বহুমুখী বাহমুর্খী জীবনধারার সামনে তখন এই কুতৃহলী মানুষ আমাকে জীবনের বহুমুখী জিজ্ঞাসার দিকেও এগিয়ে দেন-_অর্থাং শাদা কথায়, দাদা আমার মাথাট খেলেন তিনি অবশ্য পাশ করলেন, আর

যৌবনের যান্রারন্ত ৯১

বছর শেষ হতে না হতেই চলে গেলেন পাটনায় বি. এন. কলেজে (ডিসেম্বর ১৯১৮ )। খাবার মতো মাথা সেখানেও হয়তো ছিল আমাদেরও জুটত নিমন্ত্রণ আমি রইলাম কলকাতায়_সেখানেও পাকার পাথেয় জুটত সর্বত্র

কলকাতায় তখন তাই উপেন সেন ছিল আমার প্রধান সঙ্গী। অথবা, আমিই ছিলাম উপেনের সঙ্গী স্কুলের শেষ কয় বংনর উপেন কলকাতায় পড়ে, কোর্ট অব ওয়ার্ডসৃ-এর সে ওয়ার্-বড় না হোক, কিছু জমিদারী তাদের ছিল-সরকার নিয়েছে নাবালকের সম্পান্ত রক্ষার ভার ও-রকম আরে দু-চারটি ছেলের সঙ্গে তার কলকাতা বাস নিধারিত করোছিল সেই সরকারী আভভাবকরা ছুটিতে সে যেত দাদা-বৌঁদর কাছে নোয়াখালি দু'জনায় একই বংসরে পাশ করে একসঙ্গে কলকাতায় আস পড়তে-_সে পড়ে প্রোসিডেসীতে, আম পাঁড় ক্কাটিশে | সে আই-এস-সি পড়ে, থাকে হিন্দু হোস্টেলের ওয়ার্ড ফাইব-এ। সেই ৬%র নানা কারণে নাম, তার আঁধকাংশ ছাত্র বাঁসন্দাই অবস্থাপন্ন, বড়- মানুষি চালে অভ্যন্ত ; অনেকেই দুরস্ত, হৈ-চৈতে ওস্তাদ অবশ্য সেই সঙ্গে কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগণ্য তিন বৎসর পরে সেই দুর্দাস্তদের শায়েস্তা করবার জন্য 'হন্দু হোস্টেলের কর্তা প্রিন্সিপ্যাল ব্যারে৷ দু'জনায় মিলে হোস্টেল থেকে ধাদের বিতাঁড়ত করেন তাদের মধ্যে উপেন ছাড়াও ছিলেন আরও কয়- জনা | উপেনের চেনায় তারাও আমার বন্ধু সে কলেজে পড়লে সে হোস্টেলেই থাকতাম, হোস্টেলে থাকলে সে ভাগ্য আমারও হত-দের করতে হত না। দুরস্ত বলে আমার নাম উপেনের থেকে বরাবরই বেশি ছিল ধাতটা হয়তে। উপেনেরও পরিবারগত তার দাদ! নগেন সেন স্বদেশীতে জুটে পাঁরবারে সঙ্কট এনোছলেন। উপেনের মধ্যে এসোঁছল তার প্রাতিক্রিয়৷ স্বদেশীর ছায়াও সে একেবারে মাড়ায় না এবং সে সমীহ করে ইংরেজকে, ইংরেজের মতো জীবনযাপনেই তার বুচি কারণ, আমাদের এদেশীয়দের তুলনায় ইংরেজ শুধু প্রবল নয়, রূপে-গুণে, জ্ঞানে-প্রাণে, জীবনধান্রা় অনেক অনেক উন্নত ধনে-মানে, শান্ততে-সামর্ঘে, শিক্ষায়-কেতায় ইংরেজ আধুনিক পৃথিবীতে তখন সেরা জাত-_এ কথা কি আমরাও কেউ না জানতাম ? তবু সে কথাটা আমাদের বিশেষ করে না জানালে নয়-উপেনের দাদার দাদা বলতেন, ওর! জীবনটা উপভোগ করতে জানে জীবন উপভোগের জন্য-_ত্যাগ' আর কৃচ্ছুসাধনের জন্য নয়। এাঁদকে দাদা আর উপেন একমত তবে উপেনের এঁদকে এককটরবোশ যোগ্যতা ছিল। দেখতে সে মোটের উপর রূপবান কোমলকান্ত নয়, তেজোব্ঞজজক ছিল তার মুখশ্রী, পাঁরমিত ব্যায়ামে সে সর্বদা! অবহিত, সুচ্ছদেহ এবং স্বাস্থাসচেতন বাঙালির সন্ত। স্যুট সস্তা বাবৃগিরর প্রাতি

১০ রূপনারানের কূলে

দু'্জনারই ছিল আভজাত অবজ্ঞা পোশাক-পারচ্ছদে বাঙালী হলেও দু'জনারই বেশভূষা সতর্ক, পারচ্ছন্ন, পরিপাটি আচার-ব্যবহারে উপেন সহজ মর্যাদার আঁধকারী, দাদা স্বচ্ছন্দ সামাজিক | আহারে-বিহারে জীবনধাত্ায় দ'জনেই একমত--“ওদের ( “ওদের বলতেই বৃঝতে হবে ইংরেজদের ),--মতো জীবন উপভোগ না করলে জীবনটা কেন 2 বিশেষ করে আহারে পারচ্ছদে ইংরেজী খানা খেলেই মনে হবে “বেচে থাকি' ইংরেজী হ্যাট- কোট পরলেই মনে হবে-গটুগট করে বুক ফুলিয়ে চাল তা না, ওই থোড়- বাঁড়-খাড়া খেয়ে চাদরে মুঁড়-সুঁড়ি দিয়ে চলো, আপন থেকেই মনে হবে হরি হে, পার করো' বলা বাহুল্য, ওরকম খানা সাহোবি জীবনমান আয়ত্ত ন৷ হলে ভদ্রলোকের বিয়ে করা চলে না বিষয়েও দাদার সঙ্গে উপেন একমত, তবে পুরোপুরি নয়। উপেনের বন্তব্য আরও একটু 1বাঁশষ্ট-“ভদ্রলোকের [বিয়েই করা চলে না। জীবনমান আয়ত্ত হলে তো নিশ্য়ই না ।” ভদ্রলোক' কাকে বলে 2 ভদ্রলোকের প্রথম চাই-জীবনমান আর সে জীবনমানই যাঁদ আয়ত্ত হয়, ত৷ হলে স্ত্রী না হলেও চলে, বরং না হলেই ভালো একজন বাঙাল আই-স-এস পাশ করে স্বভাবতই আত্মসন্তৃষ্ট--তার বদ্ধকে নাকি জানয়েছিলেন-অবশ্য ইংরেজিতে-'এখন আম চাই একটা ঘোড়া, একটা কুকুর একটি স্ত্রী। তার প্রাতও উপেনের অবজ্ঞ-“হর্স ইজ নোবেল এানম্যাল, ডগ গুড কম্পাঁন,ম্ত্রীঃ ওর একটাও না।' স্বভাবতই এ-ধরনের ইয়াকিতে আমাদের মধ্যেও হাস্যপারহাসের অন্ত থাকত না। যেমন, আমরা হলাম উপেনের মতের উল্টো পক্ষ_-আমাদের বন্তব্--“জীবনমান না হলে না হলো, কিন্তু জীবনযাত্রায় স্ত্রী নাহলে নয়।” বলতাম, “আই-পি-এসদের ঘোড়া আর কুকুর হলেই হয়--ওয়াইফ ওদের কম্বাইন্ড হর্স যাও ডগ কিন্তু আমাদের কেরানীদের গৃহে গৃহিণী সচিব সখা, কম্বাইন্ড হ্যাও--সবার উপরে “ওগে।? 1 বন্ধুগোষ্ঠী ভাগ হয়ে যায়উপেন 'কনফারমড ব্যাচেলর", আমরা 'বর্ন্‌ ম্যারেড্ম্যান' কনফারমড ব্যাচেলরদের মধ্যে উপেনের আবার আরও নিজন্ব বন্তব্য আছে সেই সব এখানেই শেষ কার--ভদ্রুলোকের এদেশেও থাকা চলে না ।' কোথায় তবে থাকা চলে 2 “ওদের দেশে" অর্থাং বিলেতে দাদার হয়তে৷ তাতে অমত হত না-_কিন্তু হাত ধোবার ঘ্লানাদর বিষয়ে "ওদের ব্যবস্থা সম্বন্ধে তিনি সন্ত নন। 'সে সবব্যবস্থা করে দোব আপনার, উপেন আশ্বাস দিত উপেন, এবার বোধহয় রা উচিত-উপেনর। 'ওদের দেশে, থাকবার লোক, আমরা নেটিব নোটবর৷ উপেনকে খোঁচা 'দিতাম-“যাও না-গিয়ে দ্যাখো নাকী আরাম তোমাদের,

যোবনের যান্রারন্ত ১৯

“ওদের দেশে' |” উপেন বলত “দে টাক আমাকে দ্যাখ, আম থাঁক কিনা ওদের দেশে ।' বুঝলাম উপেনদের তাতে বাধা--টাকা, “ওদের মত থাকার; জন্য টাকা আবশ্যিক “ওদের দেশে" থাকবার জন্য টাক আমাদের “নোটব'দের যোগাতে হবে কেন, তা দুবোধ্য নয়_নেটিবদের দেশ টাকা না যোগালে কোনো ভারতত্যাগী ভারতবাসী বা ভারততগ্রাসী ইংরেজের পক্ষেও, 'ওদের দেশে' থাক চলে নানা হলে সে দেশে হাড়াভাঙ। পাঁরশ্রম “ওদের দেশে যার। খেটে খেয়ে সামান্যভাবে থাকে তাদের আবার 'জীবনমান' ?-ত। জীবনই নয় যাক, দাদার মতে 'কনফারমড ব্যাচেলরদের" দলের উপেনই হল আদর্শ, 'পারফেকশ্যান সে কোনে। কম্প্রোমাইজ্‌ করবে না 'বরনূ ম্যারেডম্যানদের' সঙ্গে। তাই উপেন-এর “কনফারমড ব্যাচেলর' ভিন্ন আর একটা নাম হল- “মিস্টার পারফেকৃশ্যান' আমাদের একটাই নাম বরন্‌ ম্যারেডম্যান- অবশ্য তখনও নিরানন্ুই জনেরই ভাগ্যে স্ত্রী জোটে নি। 'বরন্‌ ম্যারেডম্যানরা' 'হাজবেও রূপে শরবরন্‌' হয়োছিল অনেক পরে

উপেন আমাকে [সনেমায় প্রথম নিয়ে গেছল কী ছাঁব, নাম মনে নেই & খুব রোমাণ্টিক। গ্রীক কাহনী হবে হয়তো--'সাইরেনদের' অবলম্বন করে সমুদ্র-পবতের অপ্ব দৃশ্য, আর তেমাঁন মোহিনীদের নৃত্যগীত প্রণয়লীল৷ ; এর বোশ কিছু মনে নেই। কিন্তু এক অদ্ভুত আঁভজ্ঞতা ! যুগের প্রধান মোহনী ফিল্মী কলালক্ষমী--তবে তার নেশায় তখন পেল না। কারণ উপেন বাজে ছাব দেখবে না বাজে সিনেমা হল-এ বসেও ছবি দেখবে না। সস্তায় ছবি দেখা সপ্তায় সাহেবি-করার মতোই তার কাছে ভাল্গার ভালো ছবি থাকলে সোঁদনের মাঝারি-দামের আসনে আমরা দেখতে যাব, মাসে এক- আধাঁদন সোঁদনের আট আনার আসনই ছল আমাদের আয়ের তুলনায় উপেনের মতেও ভদ্র, রেস্পেকটেবল আমরাও বোধহয় দেখেই মুগ্ধ হতাম ভুলতাম এবং ভূলে যেতাম তাই এখন তো কোন নাম মনে পড়ে না_ সেই ডগলাস্‌ ফেয়ারব্যাংকস, মেরী পিকৃফোর্ড, চাঁলি চ্যাপালন ছাড়া বোধ হয় [নবাক ছবিতে হাত-প৷ নাড়া লাফ-ঝাঁপ একটু বোঁশই প্রয়োজন ভাবভা্গ চাই, কারণ বাকা নেই না হলে ফিল্ম সচল জীবন হবে করে 2 হয়তো বাকস্ফতির অভাবটা প্রাণস্ফাতি দিয়ে ভরানো প্রয়োজন। আশ্চর্য আভিনয়-নৈপুণ্য হিল শিল্পীদের সবাক যুগে এখন বাকের বর পেয়েছে ফিল্ম, কিন্তু বাক্যের 6 আযাটলান্টিকী টাইফুন-এর মতোই মাঝে মাঝে মনকে দুমড়ে দেয় তথাপি আমার তো সেই প্রথম দিককার দেখা ছবির কথা এখন আর বিশেষ মনেই পড়ে না-ডগলাস ফের়ারব্যাংকসৃ-এর দুরস্ত প্রাণচাণ্চল্য যতটা অবাক হয়োছ

৯২ রূপনারানের কুলে

ততটাই মনে করোছি তা মান্রাছাড়া এমন কি, চ্যাপালন-এর ফিলা-এর অদ্ভুত উন্তাবনাও ভাবভাঙ্গতে হাসতে হাসতেও মনে করেছি "চমৎকার--কিস্তু একটু ভাড়ামও 1 আসলে চ্যাপালিনের প্রাতভার সন্ধান প্রথম পাই “কীড'-এ, তারপরে 'গোলড্‌ রাশ, শসটি লাইট” যখন দেখি তখন তার স্বরূপ বুঝলাম তবে আমার চোখে চাঁলির চরম সৃষ্টি 'মসিয়ে ভার পরমসৃষ্টি 'লাইম্‌ লাইট ।' আমি ফিল্মের নিছক দর্শক, কলারাসক বিশেষ নই তখন তে নই-ই। আর দর্শন করতে যেতাম প্রায়ই সে ছবি যা উপন্যাস হসাবে বা এীতিহাপসিক কাহিনী হিসাবে আমার জানা তাতে ঠকতেও হ'ত একবার তলস্তোয়ের শলভিং কর্পস' দেখতে গিয়ে দেখি শেষটা ট্রাজেডি থেকে তা কমিডিতে রুপান্তরত ষ। ঘটেছে “সব স্বপ্ন 2 ছবিটা সম্বন্ধে আমার মনের ভাবটা হয়েছিল “সব ঝুটা হ্যায় তবে 'ল্য মিজারেবল', 'হাণব্যাক অব নতরদ্যুম*; কিম্বা “কুয়ে। ভাঁদস্‌ প্রভীতি ছাব এলে তা৷ দেখবার জন্য খুন চেপে যেত। উপেনেরও তাই মোটা উপন্যাস দেখলে সে বলত-'থাক। ছবি হয়ে আসুক ।' সাহিত্যে তার রুচি নেই-ব্যতিক্রম ছিলেন একজন, শরৎচন্দ্র অবশ্য তখনো তার বই ছবি হয় ি-দেশী ছবি দেখা দেয় নি। দেখা যখন দিল তখন আমর৷ তাতে বিরূপ হয়োছলাম প্রথম দেখ 'ইল্যাও রিটার্নড'-_ হাসি ছাড়া আর কি পাবে 2 তখন মেরী পিকৃফোর্ড প্রাসদ্ধা। মনে আছে, তার একটা ছবির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল “লক্ষ হৃদয়ের বাঞ্ছতা”-_'সুইট্‌ হার্ট অব দি িলিয়নস্‌' হিন্দু হোস্টেল থেকে বোরিয়ে দু'জনায় চলাছ--বাইরের দেয়ালে দোঁখ প্লেকার্ড_মেরী পিপিকৃফোর্ডের ছবিশুদ্ধ বিজ্ঞপন। উপেন দেখে তাড়াতাড়ি 'মিলিয়নের' পরে কলমের কালি দিয়ে জুড়ে দিল “+ 1” ; আমি বললাম, 'একি করাছস' উপেন বললে, “আমার কথাটা বাদ গিয়েছিল, শুদ্ধ করে দিলাম |, হাসতে হাসতে দুজনায় চললাম আবার বউবাজার হয়ে চৌরাঙ্গর দিকে উপেনের মতে রূপসী মাত্রই-নেহাত নিকট আত্মীয়া না হলে-প্রেয়সাঁ। “চোখে নাই বা দেখলাম না পেলাম তার চুম্বন-আিঙ্গন | বিষয়ে কন্তু “ওদের' 'আমাদের' প্রাত উপেন সমান অপক্ষপাত

একটা জায়গায় ফিন্তু উপেনের পক্ষপাতিত্ব দেখেছি-খেলার মাঠে, বিলিতী দলের সঙ্গে দেশীয় দলের খেলার সময়ে “ভারতীয় বনাম রুরোপীয় ছিল সোঁদনের বিশেষ প্রাসিদ্ধ ফুটবল খেলা সে খেলায় আমাদের না গেলেই নয়। বিভিন্ন ক্লাবের এক-আধাঁট করে বাছাই করা প্রেয়ার নিয়ে দু'দল তাদের পক্ষে হঠাৎ সেদিন খেলার মাঠে জোট বাঁধা সগ্তব হয় না। স্ব-স্থ ব্যন্তনৈপুণ্যেই তারা খেলত | তবু খেলা জমত- খেলোয়াড়ের গুণে যেমন,

যৌবনের যারারন্ত ১৩

তার চেয়েও বৌশ দর্শকের আগ্রহ-উত্তেজনায় তবে দু'-একজনের খেলা সত্যই দেখবার মতো-_শাদার দলে নাইট, বেনেট, আর কালার দলের কুমার, বলাই চাটুজ্যে, গোষ্ঠ পাল, বিশেষ করে সামাদ সামাদকে চিরাদন খেলতে হয় বাজে দলে,_নিয়াতর পাঁরহাস কিন্তু আন্তর্জাতক খেলায় সোঁদন দেখা যেত নিয়াতির ওপর সামাদের টেক্কা মারা সে কি খেলা, জাদু বাঙালি খেলোয়াড়রা গোলের মুখে বল নিয়ে গেলেও সেখানে ঠিক তালগোল পাকায় একে অন্যের থেকে বল কেড়ে তে যায়। সামাদের সে গরজ নেই। প্রাতপক্ষর থেকে সে বল কেড়ে নিতে জানে আশ্চর্য তার কৌশল যতটুকু খেল৷ কোথাও নুটির দেখা নেই বল যখন একবার সামাদের পায়ে যেত তখন আমরা কালার দল আশা -উত্তেজনায় আঁম্ছর হয়ে উঠতাম ভাঙ চিনেবাদাম মুখে যেত না, শন্ত-মুঠোয় তা চূর্ণ হ'ত মুখের সে অবসর নেই, তারস্বরে চীৎকার উঠেছে সামাদ, সামাদ, সামাদ সে উত্তেজন। চতুদিকে সহমত কণ্ঠে উপেনের চিনেবাদামসুদ্ধ মুঠো কর হাত কখনো উধ্র্বে উঠছে, কখনে। সামনে প্রসারত, আর কখনো আমার দুবল ক্বন্ধের শান্ত পরীক্ষা করছে আমারও আশায়-আশঙ্কায় বুক টিব্‌ টিবু করছে কিন্ত স্কদ্ধের পরীক্ষাও সামান্য না। বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলাঁছ, 'করাছস কী 2-বল তে আউট: হয়ে গেল। সামাদ আর কী করবে? তারপর টিঞ্পনী কেটে বলি “ওদের সঙ্গে নোটব্‌দের তুলনা কোথায় 2 উপেন একটু দম নেবার চেষ্টা করে বলটা সাঁত্য আউট হয়েছে হাতের চিনেবারদাম মুখে পোরে গনম্ভীরভাবে বলে, দ্যাখো, (এবার আমি আর দ্যাখ" নই, দ্যাখো" ) সব সময় ইয়াকি নয় 'সাঁরয়াস্‌ মেটার জীবন-মরণের প্রশ্ন তার চোখ-মুখ আরন্ত |

সত্যই 'জীবন-মরণের খেলা' হ'ত সোঁদন খেলার মাঠে এ্যাণ্টি ইম্পারিয়াল জন্-এর এমন পাঠ সাধারণ মানুষ আর কোথায় পেত ? জে. এল. বাড়ুজ্জের বস্তুতার ঝড়ে, না বাপন পালের মেঘগজনে £ সত্যই, উপেন ষে উপেন, সেও সোঁদন 'নয়াতর পাঁরহাসে নিজেকে 'নোঁটব্‌* মেনে ফেলত- ব্লাড ইজ থকার দ্যান ওয়াটার ।' বলমান রৃপগুণ বিলাস বৈভব যত কিছু “ওদের' থাক, সামাদই তার আপনার

এই বস্তুনষ্ঠ বন্ধাটি জীবনের আরও বাস্তব পারহাস থেকে নিস্তার পায় নি। আই-এস-সি. পাশ করে তার ডান্তার হওয়া হ'ল না। পরীক্ষার মার্ক ছাড়াও মোঁডক্যাল কলেজে ভরাতির যোগ্যতা -লাভ তার পক্ষে দুঃসাধ্য ?ছল না। ভতির যোগ্যত। অন্য বস্তুর মতোই অর্জন করা যেত উপেনেরও ত৷ অসাধ্য হ'ত না।

সে কোর্ট অব্‌ ওয়ার্ডস্‌-এর “নাবালক”, তার শ্বেতাঙ্গ আঁভভাবকরা মানবে

০. বপনারানের কূলে

'ফেন বে মোঁডিকাাল কলেজে বানার্ড প্রমুখ পাকা আই-এম-এস্দের যথোচিত দাক্ষণা দিয়ে ভরাঁতর পথ সুগম করতে হয়। উপেনের থেকে পরাক্ষায় খারাপ করেও অনেকে ভরাতি হ'ল কিন্তু উপেন ভরাতির অযোগ্যই রইল সরকারী আভিভাবকরা কিছুতেই দু-একটা রোগী দর্শনের 'দক্ষিণার' বন্দোবস্ত করলে না। কারমাইকেল মোঁডক্যাল কলেজে সে ভরাত হতে পারত ; কিন্তু উপেনের মাপকাঠিতে তার হাসপাতালে না আছে ডান্তারি শেখবার মতো আয়োজন-প্র, না তার ছাত্রদের চাল-লনে, পোশাক-পাঁরচ্ছদে, কথাবার্তায়__ ডান্তারী ছাত্রের যোগ্য স্মার্টনেস্‌ মর্যাদাবোধ বি এস-সি-তে পরীক্ষার বছরে সে কয়েক বন্ধু পড়ে গেল কলেজের অধ্যক্ষের কোপে স্যার আশুতোষের পায় তাদের পরীক্ষা বন্ধ হ'ল না। যেমন করে হোক পাশ করে উপেন ব্যবসার ক্ষেত্রে ঘোরাফেরা করাছল--বান পয়সার এপ্রোন্টিস্‌ থেকে শেষে ইস্তফা দিল সে চাকারর আশা নিজের পর্ণজ নিয়ে গেল শেয়ারের বাজারে উপার্জন হাচ্ছল। আমাদের জানাত অরেকটুকু সুস্থির হলেই আমাদের মতো ভীতু বদ্ধুদেরও সে একটা “ডসেন্ট- লাইফ্‌এ স্থাপিত করবে “উইক্‌-এও করবে- তোমরা আমার সঙ্গে বাইরে থাকবে ইউরোপীয়ান স্টাইলে কলকাতায়ও এক-আধ সন্ধ্যায় থাকবে ডিনার 'বালতী পানীয় থেকে বণ্চিত থাকবে না-উইকৃ-এণ্ডে আরও পাবে ফেয়ার কম্পোন বাট রেস্পেক্টবল্‌ এ্যাও ডিসেন্ট |” কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমাদের লাভ হবার আগেই এল ১৯২৯, মন্দার বাজার মাকিন রাজ্যের ভাগ্যবিপর্ষয়ের সঙ্গে উপেনের ভাগ্যের ভরাডুবও ঘটল কলকাতায় ১৯৩৭-এ জেল থেকে বোরয়ে শুনলাম- সকল কিছু থেকে নিজেকে ছাঁড়য়ে নিয়ে সাহেব-অনুরাগী উপেন হ্যারিসন রোডের একটা হোটেলের কোটর আশ্রয় করেছে কিছুতেই ফোনে ছাড়া তার সঙ্গে কথ। হয় না- সাক্ষাৎ সে করবে না। আরও পরে শুন্লাম একাদন-দ্বিতীয় যুদ্ধের মধ্যে সেই স্বাস্থ্যবান, রুচিমান, বন্ধু-আমাদের অগোচরে- কীচড়াপাড়ার যক্ষা হাসপাতালে নিবে গয়েছে। মনে হল আমাদেরই নিয়াত কম পাঁরহাস করেছে

আমার কলকাতার সঙ্গে পারচয়ে প্রথম বংসর উপেনই ছিল সঙ্গী পর বৎসর চারু, সাধু, উপেন রায় প্রভৃতি এসে গেল। খেলা ফলকাতায় এসে একে- বারে ছেড়ে 'দিই-বকালে হেদুয়া থেকে হেঁটে যেতাম 'হন্দ্র হোস্টেলে, দু'বদ্ধুতে “বনমালীর' মিষ্টতে কিপিং রসনা তৃপ্ত করে বোরয়ে পড়তাম-সেই বউবাজার-__ কেগ্ডারডেন লেন ধরে গলিতে চাদাঁনর দিক দিয়ে এস্প্লানেড--তখনো সেনগ্রাল এ্যাভিনুর স্িম-এর কর্ম-সূচনা হয় নি-বাড়ি ভাঙা শুরু হয় কিছু পরে। এস্‌প্রানেড থেকে কখনে৷ হগ্‌ সাহেবের বাজার ঘুরে চৌরঙ্গী ধরে যেতাম বরাবর

যৌবনের ধান্নারন্ত ৬৫

'আর কখনো এস্প্লানেড থেকে কার্জন পার্ক পৌরিয়ে ইডেন গার্ডেন, আউটরাম ঘাট সেখানে খোল! ফ্লাটে বসে গঙ্গা দেখ শুধু আম আর উপেন নয়, বৎসরে বৎসরে আমাদের পুরনো বন্ধুরা কলকাতায় এলে, চারু, উপেন, প্রফুল্ল, আমরা কলে-এই ভাবেই বিকাল সন্ধা কাটিয়েছি আউটরাম ঘাটে ছোট- বড় শত শত নৌকা চলছে পোর্ট কমিশনারের স্টিমার কাছের জেটি থেকে শিবপুর যায় সম্পন্ন পদচ্ছ কেউ কেউ তাতে দৈনান্দিন যারী- সন্ধ্যাকালে গঙ্গায় নৌ বিহার গঙ্গার হাওয়। খাওয়া ওপারে হাওড়ার কল-কারখানা সূর্য অস্ত যায়, তার আভায় কলের কালো ধোঁয়া তামাটে হয়ে ওঠে ধারে সন্ধা নামে-নিচে সেই চিরাঁদনের গঙ্গা-যা এদিনের গঙ্গার মত স্রান-মুমূর্যু নয় আউটরাম ঘাটে তখনো বিলাতের জাহাজ এসে ভেড়ে-দু' একদিন দোঁখ [বলাতের যাত্রীরা নামছে একাঁদনের কথা তো বেশ নে পড়ে-সে অবশ্য বছর দুই-তিন পরের কথা আমরা কয়েক বন্ধু বসোছলাম ; দেখলাম জাহাজ এলো দেখতে না দেখতে যাত্রীরা নামতে শুরু করলে সব শাদা মুখ নারী পুরুষ কী তাদের ব্যস্ততা_যেন দেরী সয় না; জাহাজের একঘেয়ে জীবন থেকে পাড়ে নামতে পারলেই বাচে। আর পার পাওয়৷ শুধু নয়_ক্যালকাটা ! প্রাচুর্য, আরাম, আয়েস, যা দেশে তাদের ভাগ্যে জোটে না, সেখানে তে। ওরাও" আর “ওরা” নয়, যতই থাক ভারতের লুঠ-কর! টাকায় স্বচ্ছলতা, বাবুচি-বেয়ারা খানসামা-আয়া দেশে কোথায় পাবে ? সবই নিজেরা খাটতে খাটতে প্রাণ বোরয়ে যায়

নামছে, নামছে, নামছে কালো অর্ধনগ্ন কুলীর৷ ছুটছে মালপন্ন বহন করে তীরে নামাতে আর তাদের চিন্তা নেই, আর তাদের মল বহন করতে হবে না, রাধতে হবে না বাড়তে হবে না-এবার আরাম ক্যালকাটা নামছে, নামছে,-তাদের দেরী সয় না এক-একটা জাহাজে সামহব-মেম আসছে কত! না দেখলে তার অর্থ সম্পূর্ণ বুঝতাম না- হয়তো সংখ্যায় তিনশ চারশ, কিম্বা তাও নয়, কিন্তু দেখে বুঝতে হয় তার অর্থ। উল্লাসত, বেশভূষায় সুসাজ্জত, ফ্যাশান-দোরস্ত, আঁভনন্দনকারী আত্ীয়-বন্ধু সমাগমে উৎফুল্ল, করমর্দনে, আলিঙ্গনে, চুম্বনে উদ্ভাসিত শ্বেতাঙ্গ শ্বেতাঁঙ্গনীর পাল, সঙ্গে কিছু কিছু দেশের শাদা ক্ষুদে মুনিব,--সকলের মুখে স্বাঙ্ছ্য, স্ফৃতি, সুনিশ্চিত স্বাচ্ছন্দ্য-বলাসের সম্ভাবনায় স্বতঃস্ফৃর্ত নিশ্চন্ততা, দৃঢ় প্রত্যয় এই 'এম্পায়ার', তারা এর রাজা, তারা এম্বর্ষে সৌন্দর্যে দেশে রাজত্ব করবার জন্য জন্মেছে-- জীবনের সব দান এখানে তাদেরই আয়ত্তে তারা জীবনকে উপভোগ করবে, তার সকল সুখ-আরাম দু'হাতে ভোগ করবে -দেখতে দেখতে আপন থেকে

১৬ রূপনারানের কুলে

আমাদের কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে-মন বিষাদে গম্ভীর সন্ধা হয়ে গেল, জাহাজের যাত্রীও কমে গিয়েছে আলো আলে গিয়েছে বেশ খাঁনকক্ষণ আগেই জাহাজের আলো, নৌকোর আলো, ওপারে কল-কারখানার আলো, পারের পথ-ঘাটের আলো-নিচে গঙ্গা বহমান, কম্পমান আলোর মাল! দু'লিয়েও যেন বিষণ্ন অন্ধকার ওঠো", কে একজন বললে, "ফরতে হবে উপেনই প্রথম বললে, 'দেখলে তো, এক-একট৷ জাহাজে কত ওরা আসছে ।, তারপর একটু হতাশ ব্যঙ্গে, আর তোমরা ভাবছ ওদের তাড়াবে 1 অনেকেরই মনে এই হতাশা নিজেদের মন থেকে তা ঝেড়ে ফেলা যাবে না কিন্তু চাপা দেওয়া যাক লঘু রঙ্গ-রাঁসকতায় বললাম,_অমাঁন করেই জাহাজ বোঝাই তুলে দেব ওদের সবাইকে এই ঘাট থেকে_-সাহেব, মেম, আওী-বাচ্চা সুদ্ধ উপেন তৎক্ষণাৎ উত্তর দলে, 'কখনো না! মেমসাহেবগুলোকে রেখে 'দতে হবে-না হলে স্বরাজের কী মূল্য থাকবে ? সকলেই হেসে উঠলাম আবহাওয়া লঘু হল। কে বললে, “তোর তাতে লাভ ? তুই তে৷ “ওদের দেশেই চলে যাব আমার জন্য আম বলছি নাক? তোদের জন্যই বলাছ-ওদের [নিয়ে তোরা একটু ফুঁতি করাব--ওদের সঙ্গে লাইফটা এন্জয় করতে শিখাঁব হাস্য হোক পাঁরহাস হোক, এই বন্ধুদের সঙ্গে ওই গঙ্গার ধারে বসে, চৌরঙ্গীর ধারে হেঁটে হেঁটে, পথে ঘুরে ঘুরে, সূর্যাস্ত সন্ধ্যায় কলকাতার এই গঙ্গা- [বধোত রূপ দেখতে দেখতে, এই নদী-পালিত বাঙাল রন্তধারা অজ্ঞাতে এই গঙ্গার সঙ্গে, কলকাতার সঙ্গে, আত্মীয়তার বন্ধন খুজে পেয়েছিল কিনা কে জানে _ কিন্তু কলকাতায় প্রথম এই গঙ্গার পারের কলকাতা আমার ভালো লেগেছিল আর সেই সঙ্গে তার মাঠ-ময়দ্ান, তার পথঘাট, চৌরঙ্গীর উজ্বল শ্রী, তার উল্টে৷ দিকে গাছপালার আলো-ছায়ায় বোনা থিয়েটার রোড পর্যন্ত বিস্তৃত ময়দানের ধারের লাল শুরকির নিন 'লাভার্স লেন, আমাদের ডাফ স্ম্রীটের কৃষ্ণচূড়ার একান্ত শ্রী, তখনকার হেদুয়া-বিডন স্্রীট অণ্চলের নাতিপ্রথর স্বচ্ছন্দ স্বচ্ছল বূপ-এসবও ভালে৷ লেগেছিল পত্য কথা, মিউজিয়াম ভবনের অচণুল আত্মমর্ষাদা, হাইকোর্ট, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, চৌরঙ্গীর বালতী- বৈভবের উদ্ধত দৃঁষ্ট, সাহেব পাড়ার সবত্ব পালিত পার্ক, পথঘাট, বাগান ঘেরা বাঁড়ঘর,_-যতই 'এ সবে মিলিত থাক আমাদের জাতীয়ু-পঙ্গুতার সাক্ষ্য, অথবা বাঙালিপাড়ার শোভাবাজার বা পাথুরিয়াঘাটা জোড়াসাকো পাড়ায় কোম্পানির দাক্ষণ্য-মাথা বাঁড়ঘর--পথে তখনকার তের্জীয়ান ওয়েলারের জুড়ী গাড়ি, বা নতুন হাওয়৷ গাঁড়,_এ সবের দিকেও চোখ মেলে কৌতৃহলে চেয়ে থেকেছি ।-_ না, আজব নয় তবু মনোরঞ্জক কিন্তু গঙ্গাপারের পটে যে কলকাতাকে ঠ1থম

যৌবনের যান্রারন্ত ১৫

থেকেই আমার পদ্মাপারের চোখে আপনার মনে হয়েছে-সেও কি একছু মনের মায়ায় মাথা নয় 2 হেদুয়া, গোলাদঘি, সিনেট হাউসের কলকাতা, সংস্কৃত কলেজ, হন্দু কলেজ, ডেভিড হেয়ার, মধুসূদন, বিদ্যাসাগরের স্মৃতিসুরাভিত কলকাতা, যেখানে মনুমেন্টের মাথায় ত্রিবর্ণ পতাকা উীঁড়য়ে দিয়েছে ১৮৩২-এ ইয়ংবেঙ্গল ; যেখানে স্বদেশীর জন্ম, রাখবন্ধনের সূচনা, ভারতীয় জাগরণের বোধন, উত্তর-দাক্ষণ প্ব-পশ্চিম সকল জাতির ভারতীয় মানুষের পদপাতে যার পথে পথে ভারতীয় মহাজাতির পদধবাঁন বাজে-সেই ধুঁলিধৃসারত দেশী পাড়ার কলকাতা, তারই জন্য গোপন আশা মনে নিয়ে আত্মীয়তা বহন করে আমি এসেছিলাম একটু একট করে ক্রমে সে আশা একদিকে পরিণত হয়ে গেল মমতায় এই কলকাতার পুরানো বই-এর দোকান, এলবার্ট হলের নান গ্রস্থাগারের পাঠব্যবস্থা, তার মাঠের খেলা রাজনীতির সভার মত তার “বদ্যাসাগরের গ্রন্থ-সংগ্রহে গোরবাদ্বত সাহত্যপাঁরষদ, বিজ্ঞান কলেজ, বজ্ুচুড় বসু বিজ্ঞান মান্দর, আর সমবায় ম্যানসনের ওঁরয়েপ্টাল আর্ট সামাঁত__ যে কলকাতার হেদুয়ায় দোঁখ সতোোন দত্তকে, ডাফ: স্ত্রীটে ঠিকে গাঁড় ভাড়া করতে দেখি ব্রজেন্দ্রনাথ শীলকে-কলেজে যাবেন, পথের ধারে কলের তলায় করুণানিধানকে দেখি প্লান সেরে ভেজ। কাপড়ে অদূরের ভাঙা বাড়তে ফিরছেন, যেখানে সত্যেন বোস সুনীতি চাট্ুজ্জেদের মতই হঠাৎ রামানন্দ চাটুজ্জেকেও দেখি কর্নোওয়ালস্‌ স্্রীটের সামনে,_-এই মনে মনে চেন৷ কলকাতা প্রাতীর্কার পরিচয়ে-পারচয়ে আমাকে তার সঙ্গে ব্মে কমে মমতায় বেধে ফেলল অন্যাদকে সেই কলকাতাতেই আম আবিষ্কার করলাম আমার আজন্মের বাঙাল সন্তাকে। আমার যে-সন্তা পদ্মার বুকে_ ঢাকা-বিক্রমপুর-নোয়াখাঁলর মেঘনার কোলে দোল খেয়ে-খেয়ে পুলকিত, ঘনশ্যাম গাছপালা, ঝাউ-নারকল-হজল- সাপলা-বাশঝাড়-বেতবনের সঙ্গে মিলৌমশে অচেতন আনন্দে বাল্য-কৈশোরকে আপন গন্ধে মুগ্ধ কন্তুরী মৃগের মতই ছুটে ছুটে নিয়ে এসেছে যৌবনের দিকে_ একবারের মতও হাঁতিপ্‌্বে সচেতন হয়ে বুঝতে পায় ?ন সেই বাঙাল 'বাঙলার রূপকে'_পৃববঙ্গের নিসর্গ-সত্তার মধ্যে আমার যে-সন্তা তখনে। ছিল 'নমজ্জত, আমারই নিকট অনাবষ্কৃত- এই কলকাতাই গঙ্গার নাতিপ্রথর প্রবাহ তার পৌর-পারবেষ্টনের মধ্যে আমাকে গ্রহণ করে, মমতাময় হাতে আমার চোখ খুলে দিল আমার সেই পুববাঙলার জন্মগত প্রকাঁত-পরিবেশের দিকে এই কন্গ্তাতার প্রথম পাঠ-অনুভূতির এই উত্তরণ। সেই পদ্মা-মেঘনার দুধার বিস্তাত গর্জন, মেঘবৃষ্টি মুখর বাঙলার সকাল-সন্ধ্যা ঝিশঝ'-ডাকা, জোনাকি-ফোটা বনজঙ্গল, বাশঝাড়ের গা ছম ছম করা শব্দ, ঝাউগাছের মাথায় মাথায় ্‌

১৮ বুপনারানের কূলে

বাতাসের রুন্দন-সাপলা-ফোটা বিক্রমপুরের খালাব্, জোয়ারে গারক্ষাত নোয়াখালির নদীর যৌবন-মদমন্ততা, পদ্মা-মেঘনার 'মলন-উল্লাসের উদ্দাম এব্য, নোয়াখালির বিস্তৃত খোল মাঠে 'দিগ্রহরে চন্লাকারে ওড়। চিলের ছায়ায় অনুকমণ, আর লামান্য শহরের লাল সুরাঁকর পথের দুধারে বু'কে-পড়৷ ঝাউ- গ্রছের সেই মিলন-বিরহের অনস্ত আলাপ-এস্বু আবালোর দেখা সেই সঙ্গীদের মন দয়ে গ্রহণের মত অনুভীতিও আমাকে দিল কলকাতা-কলকাত। আমাকে দিনে দিনে দৃফিদান করলে

দ্বিতীয় পারচ্ছেদ লাগল না_লাগল ন!

আমার কলেজ-জীবন মান ছয় বছরের ( ১৯১৮-১৯২৪ )। কলকাতাতেই তা কাটে অবশ্য, তারও একটা বড় অংশ আবার ছুটিতে নোয়াখাঁলর জীবন আর সে সময়ে এক-আধবার পাটনা, দিল্লী প্রভাত ভ্রমণ। কলকাতার বাইরের কলেজ-জীবন, কতকটা কলকাতার উল্টো জীবন যৌবনের জোয়ার দুই পার ছাঁপয়ে বান ডেকে আসছিল তখন দেশের জীবনে, যুগের জীবনে--তার মধ্যে আমার যৌবন নিজেকে না হারিয়ে স্থির হতে পারত না সে কথাটা বুঝেও যেন ষুঝবার দরকার বুঝতাম না তখন ঘটনার পরম্পরায় ভাবতে গেলে তার ঠিক পাঁরমাণ হয় না কলকাতাই তো৷ একট৷ ব্রমপ্রকাশিত অনুভূতি, আর &ম-বিকাঁশত উপলীব্ব-_অস্তত আমার কাছে গত প্রায় পণ্চাশ বংসর তা বুঝতে গিয়েছে সেই প্রথম পাঁচ-্ছয় বংসরে যার আমার মনের কলকাতা জেনে না-জেনে গড়ে তুলেতে সাহায্য করেছেন * তাদের অনেক মুখই এখনো আমার চোখে প্রত্যক্ষ-অনেকে তারা আমার প্রথম বয়স থেকেই আত্মীয়-বন্ধু- চারুলাল মুখোপাধ্যায়, উপেন সেন, অনুতোষ সেনগুপ্ত, উপেন রায়, দীনেশ গুহ আর আমার ভাই প্রফুল্ল হালদার (সাধু) প্রভাতি নোয়াখালর তখনকার বন্ধুরা আরও অনেকে আমার কলকাতায় পাওয়া ছান্রাবাসের সতীর্থ, অগ্রজ বা অনুজ সহযানী-সজনীকান্ত দাস, বিমলাকান্ত সরকার, সতীন্দ্রনাথ বসু, শিবদাস রায়, সুধেন্দু ঘোষ, লাল৷ গোপালপ্রসাদ, বিভীতি দত্ত, সুধাকান্ত দে, শিবশরণ চৌধুরী, পাঁরমল রায়, গিরিধর চক্রবর্তী প্রভাতি। আর হাডিং হোস্টেলের অন্তত একজন-_বিনয় মুখোপাধ্যায় কলেজের সহপাঠীদের মধ্যে অবশ্য রবীন্দ্রনাথ বসু, ধীরেন্দ্রনাথ পাল, অন্রদা দাশগুপ্ত, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সুধীর সেনগুপ্ত প্রভৃতি ইংরেজি সাহত্যের ছাত্রদের কথা সবাগ্রে মনে পড়ে আমাদের বংসরের প্রোসডোব্স কলেজের কেউ কেউ কম সুহৃদ ছিলেন না-_ পতপ্জলি ভট্টাচার্যের বিজয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা-শোনায় সে সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ ছিল, 'কন্তু দেখা-শোনার অভাবেই কি আঁসতারঞ্জন মুখোপাধ্যায় কিস্বা৷ হার- প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এককালের সম্পর্ক কিছুমান্র খব হয়েছিল ? তা ছাড়া, বন্ধুদের বন্ধুরাও তখন অপাঁরচিত থাকতেন না এমন কি, দাদার বদ্ধরাও না।

*এ'র৷ অনেকেই নেই-_অনেকে পূর্বেই গিয়েছেন তবু অনেকে লেখার সময়ে ছিলেন। প্রকাশের পূর্বে, প্রায় সকলেই বিদায় নিয়েছেন ।-_লেখক।

২০ বুপনারানের কুলে

আর যৌবন-জল-তরঙ্গ 'ি দুটি কলেজীয় সমাজেই আবদ্ধ থাকার মত ? অবশ্য সহপাঠী বা সমকালীন সে-সব ছাত্ররাই সে জীবনের প্রধান জানস। তবে ছান্র-জীবনের প্রধান আশ্রয় অধ্যাপকরা, তারাই সে জীবনের শাণ্পকার--

'ইঞ্জিনীয়ারস্‌ অব্‌ ইয়ং সোল্‌স্‌? |

“ছান্র আর অধ্যাপকের যেখানে মিলন সেখানেই 'বশ্বাবিদ্যালয় ।” 'সিনেটের এক সভায় কথাটা বলোছিলেন আচার্ষ জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ ! সে বোধ হয় ১৯৫৩ সাল বা '৫৪ সাল তান তখন কলকাতা 'বশ্বাবদ্যালয়ের উপাধাক্ষ, আমি 'সাঁওকেটের সদস্য তার মত সুযোগ্য ভাইস-চ্যান্সেলর কলকাতা বশ্বাবদ্যালয়ও বেশি লাভ করে নি। 'বিশ্বীবদ্যালয় “স্যার আশুতোষের বিশ্বাবদ্যালয় ।' আমাদের ছান্র-জীবনে স্যার আশুতোষকেও ভাইস্-্যান্সেলর রূপে আমরা 'কছুর্দিন দেখোছি--তিানি তে। নর-শার্দল, 'বেঙ্গল টাইগার, তার সঙ্গে অন্য মানুষের তুলনা করা সহজ নয় জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের ঠিক পরে অধ্যাপক ?নমনলকুমার সিদ্ধান্ত হন ভাইস্‌-চ্যান্সেলর দু'জনার তুলনা তাই আঁনবার্ধ তাদের বোশষ্টাও অনস্বীকার্য দু'জনাই এখন নেই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য সহ দু'জনাই আমার চোখে এখনো ভাস্বর প্রসঙ্গে সে কথা অনাবশ্যক শুধু ভুল বুঝবার মূল না থেকে যায় ভেবেই তবু কথাটা বলা এখানে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের উদ্ধৃত কথাটা-ছান্র অধ্যাপক নিয়েই বিশ্বাবদ্যালয় ইমারত, ফাঁনচার গোৌণ। -কম্তু বিজ্ঞানের ল্যাবরেটার লাইব্রেরীও কি চাই না? সে-প্